জম্মুতে কারফিউ ওঠে গেলেও থাকছে কাশ্মীরে

আপডেট : ১৪ আগস্ট ২০১৯, ০১:২৪ পিএম

সংবিধানের ৩৭০ ধারা বাতিল করার সাত দিন পর কারফিউ তুলে দেওয়া হলো জম্মুতে। তবে কাশ্মীরে সব রকমের বিধিনিষেধ অব্যাহত থাকবে।

৫ আগস্ট বিশেষ মর্যাদা কেড়ে নিয়ে জম্মু-কাশ্মীরকে কেন্দ্র শাসিত রাজ্য ঘোষণা করে বিজেপি সরকার। এর আগের দিন থেকে অঞ্চলটিতে ইতিহাসের কঠোরতম নিরাপত্তা পরিস্থিতি জারি করা হয়। মোতায়েন  করা হয় অতিরিক্ত ৩৫ হাজার সেনাসদস্য।

কারফিউ জারি করে সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেওয়া হয়। মোবাইল নেটওয়ার্ক, ইন্টারনেট সার্ভিসসহ সব ধরনের টেলিযোগাযোগও বন্ধ করে দেয় প্রশাসন। গত ৯ দিন ধরে কাশ্মীরের সঙ্গে পুরো পৃথিবীর যোগাযোগ কার্যত বিচ্ছিন্ন।

একজন শীর্ষ পুলিশ কর্মকর্তার বরাত দিয়ে এনডিটিভি জানায়, বুধবার জম্মু থেকে পুরোপুরি কারফিউ তুলে নেওয়া হয়েছে। তবে কাশ্মীরে আরও কিছু সময়ের জন্য কারফিউ জারি থাকবে।

ওই পুলিশ কর্মকর্তা মুনির খান দাবি করেন, জম্মু-কাশ্মীরের পরিস্থিতি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে। কোথাও বড় ধরনের কোনো সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেনি।

বিশেষ মর্যাদা বাতিলের আগের রাত থেকে ৪০০ রাজনৈতিক নেতাদের গ্রেপ্তার করে নিরাপত্তা বাহিনী। দুই সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মেহবুবা মুফতি এবং ওমর আবদুল্লাহকেও গ্রেপ্তার করা হয়।

এখনো কাশ্মীর রাস্তায়, অলিগলিতে অবস্থান করে আছে ৫০ হাজার সেনা।

এ দিকে রাজ্যসভার এমন সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে ফুঁসছে অঞ্চলটির জনগণ। কারফিউ ভেঙে মানুষ রাস্তায় নামার ঘটনাও ঘটেছে। সরকারি এমন সিদ্ধান্তের পরদিন থেকে শ্রীনগরের বেশ কিছু জায়গা নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের সংঘর্ষ হয়।

সোমবার ঈদের দিন বন্ধ রাখা হয় অধিকাংশ মসজিদ। ছোট ছোট কয়েকটি মসজিদ ছাড়াও কোথাও ঈদের জামাতের অনুমতি মেলেনি। হয়নি কোরবানি পশু বেচাকেনা। কোরবানি দিতে না পেরে আরও বেশি ক্ষুব্ধ কাশ্মীরিরা। ফলে ঈদের দিনেও রাস্তায় নেমে আসে বিক্ষোভকারীরা। তাদের ওপরে নিরাপত্তা বাহিনী গুলি চালায় বলেও আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো দাবি করে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত