বরগুনার আলোচিত রিফাত শরীফ হত্যা মামলায় তার স্ত্রী আয়শা আক্তার মিন্নিকে পুলিশ লাইনসে নেওয়া, গ্রেপ্তার ও রিমান্ড এবং তার স্বীকারোক্তির বিষয়ে পুলিশ সুপার (এসপি) কখন ব্রিফ করেছিলেন, সেসব তথ্য জানতে চেয়েছে হাইকোর্ট। গতকাল সোমবার মিন্নির আইনজীবীকে এসব বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য যুক্ত করে হলফনামা জমা দিতে বলেছে আদালত। পাশাপাশি তার জামিন প্রশ্নে শুনানি আজ দুপুর ২টা পর্যন্ত মুলতবি করেছে বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের বেঞ্চ। জামিন শুনানিতে মিন্নির আইনজীবী জেড আই (জহিরুল ইসলাম) খান পান্না তার গ্রেপ্তার, রিমান্ড ও এসপির ব্রিফিংয়ের বিষয়টি তুললে এসব তথ্য জমা দেওয়ার নির্দেশ দেয় হাইকোর্ট। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মো. সারওয়ার হোসেন বাপ্পি।
মিন্নি গত রবিবার হাইকোর্টের এই বেঞ্চে আইনজীবীর মাধ্যমে জামিন আবেদন করেন। এর আগে গত ৮ আগস্ট বিচারপতি শেখ মো. জাকির হোসেনের হাইকোর্টের অবকাশকালীন বেঞ্চ জামিন প্রশ্নে আদেশ না দিয়ে রুল দিতে চাইলে আবেদনটি ফিরিয়ে নেন তার আইনজীবী।
নিম্ন আদালতে দু’দফায় জামিন আবেদন নামঞ্জুরের পর গত ৫ আগস্ট প্রথম হাইকোর্টে জামিনের আবেদন করেন মিন্নি। গত ২১ জুলাই বরগুনার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে তার জামিন নামঞ্জুর হয়। এরপর ৩০ জুলাই বরগুনার জেলা ও দায়রা জজ আদালতও তার জামিনের আবেদনে সাড়া দেয়নি।
গত ২৬ জুন বরগুনা সরকারি কলেজের সামনে প্রকাশ্যে রিফাতকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। সে সময় স্বামীকে বাঁচাতে মিন্নির চেষ্টার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে দেশজুড়ে আলোচনার সৃষ্টি হয়। পরদিন ১২ জনকে আসামি করে মামলা করেন রিফাতের বাবা। এরপর এ হত্যাকাণ্ডের ‘মূল পরিকল্পনাকারী’ সাব্বির আহমেদ ওরফে নয়ন বন্ড পুলিশের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত হন। পরে রিফাতের বাবা আবদুল হালিম দুলাল শরীফ দাবি করেন, মিন্নির সঙ্গে নয়ন বন্ডের সম্পর্ক ছিল এবং তাদের বিয়েও হয়েছিল।
এরপর গত ১৬ জুলাই সকালে পুলিশ লাইনসে ডেকে নিয়ে দিনভর জিজ্ঞাসাবাদের পর রিফাত হত্যাকাণ্ডে সংশ্লিষ্টতার প্রাথমিক প্রমাণ মিলেছে জানিয়ে সন্ধ্যায় মিন্নিকে গ্রেপ্তারের তথ্য জানান এসপি মারুফ হোসেন। পরদিন আদালতে হাজির করা হলে বিচারক তাকে পাঁচ দিনের রিমান্ডে পাঠান। রিমান্ডের তৃতীয় দিন শেষে মিন্নিকে আদালতে হাজির করা হলে সেখানে তিনি স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন বলে পুলিশ জানায়। তার আগের দিন এসপি মারুফ হোসেন এক ব্রিফিংয়ে বলেন, ‘মিন্নি আমাদের কাছে এই হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার বিষয়টি স্বীকার করেছেন। যারা হত্যাকারী ছিল তাদের সঙ্গে মিন্নি শুরু থেকেই যোগাযোগ রক্ষা করে চলেছেন। এই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হওয়ার আগে এর পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য যা যা করা দরকার, তার সবকিছুই তিনি করেছেন। হত্যাকারীদের সঙ্গে হত্যা পরিকল্পনার মিটিংও করেছেন।’
বরগুনা সরকারি কলেজের স্নাতকের শিক্ষার্থী মিন্নি পরে জবানবন্দি প্রত্যাহারের আবেদন করেন জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম আদালতে। তার বাবা মোজাম্মেল হোসেনের দাবি, জবরদস্তি ও তড়িঘড়ি করে তার মেয়ের কাছ থেকে জবানবন্দি আদায় করা হয়েছে।
