২৭ বছর পর আগামী ১৪ সেপ্টেম্বর কাউন্সিলের মাধ্যমে ছাত্রদলের কমিটি গঠনের জন্য বিএনপি যে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে তা ভ-ুল হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। নতুন কমিটি গঠনে বয়সসীমার শর্ত প্রত্যাহার নিয়ে আন্দোলন চালিয়ে বহিষ্কার হওয়া ছাত্রদলের ১২ নেতার বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার না হওয়ায় এ পরিস্থিতি দেখা দিয়েছে বলে জানিয়েছেন বিলুপ্ত কমিটির নেতারা।
তাদের একজন ছাত্রদলের বিলুপ্ত কমিটির সহসভাপতি ইখতিয়ার কবির, যিনি ওই আন্দোলন করে সংগঠন থেকে বহিষ্কৃত হয়েছেন। গতকাল বুধবার দেশ রূপান্তরকে তিনি বলেন, ‘কাউন্সিল ঘনিয়ে আসছে। এখন পর্যন্ত আমাদের বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করা হয়নি। এভাবে চলতে থাকলে কাউন্সিল সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হতে দেওয়া হবে না। আমি সমস্যা না করলেও অন্যরা যে করবে না তা নিশ্চিত করে বলতে পারছি না।’
২০০০ সালে এসএসসি বা সমমানের পরীক্ষায় উত্তীর্ণরাই শুধু এবার ছাত্রদলের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদে নির্বাচন করতে
পারবেন। ছাত্রদলের কমিটি গঠনে বিএনপি এ বয়সসীমা বেঁধে দেওয়ার পর আন্দোলনে নামে বিলুপ্ত কমিটির বেশকিছু নেতা। একপর্যায়ে রাজধানীর নয়াপল্টনে অবস্থিত বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয় কার্যত অবরুদ্ধ করে রাখেন তারা। এমন পরিস্থিতিতে ইখতিয়ার কবিরসহ ১২ জনকে ছাত্রদল থেকে বহিষ্কার করে বিএনপি। তারপরও বিক্ষুব্ধদের আন্দোলনের পরিপ্রেক্ষিতে কাউন্সিলের তারিখ ১৫ জুলাই থেকে পিছিয়ে ১৪ সেপ্টেম্বর করা হয়।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সংগঠনটির সাবেক এক সাধারণ সম্পাদক গতকাল দেশ রূপান্তরকে বলেন, ছাত্রদলের কমিটি গঠনে সংগঠনের সাবেক সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকদের দিয়ে নির্বাচন পরিচালনা কমিটি করা হয়েছে, যারা এখন বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা। তিনি বলেন, এই কমিটির কোনো কোনো সদস্য সমঝোতার মাধ্যমে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক ‘ভাগাভাগি করে নিতে’ কাউন্সিল ভ-ুল করতে পারেন বহিষ্কৃত নেতাদের দিয়ে। তার আশঙ্কা ‘সরষের মধ্যে ভূত’ রয়েছে। এ বিষয়ে দলের হাইকমান্ডকে সতর্ক হতে হবে।
বহিষ্কৃত ছাত্রদল নেতাদের বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহারের বিষয়ে লন্ডনে অবস্থানরত বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান কোনো সিদ্ধান্ত দিয়েছেন কি না সে বিষয়ে গতকাল কথা হয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির আহ্বায়ক ও বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকনের সঙ্গে। দেশ রূপান্তরকে তিনি বলেন, ‘বিষয়টি ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের হাতে। এ নিয়ে আমাদের কিছু বলার নেই। নিশ্চয়ই তিনি বিষয়টি দেখবেন।’
বহিষ্কৃত নেতাদের সঙ্গে নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্যদের যোগাযোগ ও কাউন্সিল ভ-ুলের আশঙ্কার বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে খায়রুল কবির খোকন বলেন, ‘নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সঙ্গে যারা আছেন, তারা দলের প্রতি কমিটেড। কমিটির সবাই আমরা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক। দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের সিদ্ধান্তের বাইরে কেউই যাবেন না। যদি কেউ যান তার পরিণতি তাকেই ভোগ করতে হবে।’
কোরবানির ঈদের আগে গত ৬ আগস্ট গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে অবস্থানরত বহিষ্কৃত ছাত্রদল নেতাদের সঙ্গে স্কাইপের মাধ্যমে বৈঠক হয় তারেক রহমানের। সে বিষয়ে বিলুপ্ত কমিটির যুগ্ম সম্পাদক আসাদুজ্জামান আসাদ দেশ রূপান্তরকে বরেন, তারেক রহমান ধৈর্য ধরে বহিষ্কৃত নেতাদের কথা শোনেন। পরে সিদ্ধান্ত হয় বহিষ্কৃতদের বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করা হবে। এছাড়া পরবর্তী সময়ে যুবদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলে তাদের যথাযথভাবে মূল্যায়ন এবং ছাত্রদলের কাউন্সিল ঘিরে গঠিত নির্বাচন পরিচালনা, বাছাই ও আপিল কমিটিতে তাদের অন্তর্ভুক্ত করার সিদ্ধান্ত হয়। এসব সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের শর্তে তারেক রহমানের যেকোনো সিদ্ধান্ত মানার অঙ্গীকার করেন বিলুপ্ত কমিটির ছাত্রনেতারা। ওই বৈঠকে ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি ও যুবদলের সাধারণ সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকুসহ বিলুপ্ত কমিটির সহসভাপতি ইখতিয়ার রহমান কবির, মামুন বিল্লাহ, জহিরউদ্দিন তুহিন, জয়দেব জয়, বায়েজিদ আরেফিন, দবিরউদ্দিন তুষার, আজিজ পাটোয়ারীসহ বিক্ষুব্ধ অন্য নেতারা ছিলেন।
আসাদ বলেন, বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহারের বিষয়টি জটিল কোনো কাজ নয়। যেকোনো সময়ই এটি করা যেতে পারে। কিন্তু নির্বাচন পরিচালনা কমিটির নেতারা তা করছেন না। এতে প্রমাণ হয়, তাদের আন্তরিকতার অভাব রয়েছে। বহিষ্কৃত নেতা আসাদের এমন বক্তব্যের সঙ্গে একমত প্রকাশ করে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ছাত্রদলের সাবেক এক সভাপতি দেশ রূপান্তরকে বলেন, তাদের কাজেই আন্তরিকতার অভাবটি স্পষ্ট হয়েছে।
আগামী ১৪ সেপ্টেম্বরের কাউন্সিলে সারা দেশে ছাত্রদলের ১১৭টি সাংগঠনিক ইউনিটের ৫৮০ জন কাউন্সিলরের ভোট দিয়ে তাদের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত করার কথা রয়েছে। শীর্ষ এ দুই পদের জন্য ৭৬ জন মনোনয়ন ফরম জমা দিয়েছেন। এর মধ্যে সভাপতি পদে ২৭ এবং সাধারণ সম্পাদক পদে ৪৯ জন। অবশ্য এ দুই পদে ১০৮ জন প্রার্থী মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছিলেন।
