ভারতের সাবেক কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ও কংগ্রেস নেতা পি চিদম্বরমকে আইএনএক্স মিডিয়া দুর্নীতি মামলায় গ্রেপ্তার করেছে দেশটির কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা সেন্ট্রাল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (সিবিআই)। গতকাল
বুধবার রাতে নয়াদিল্লির জোড়াবাগের বাড়ি থেকে সিবিআই কর্মকর্তারা তাকে গ্রেপ্তার করেন বলে জানিয়েছে আনন্দবাজার পত্রিকা।
প্রতিবেদনে জানানো হয়, গত মঙ্গলবার দিল্লি হাইকোর্টে চিদম্বরমের জামিনের আরজি খারিজ হয়ে যায়। সেই থেকে আর দেখা যায়নি তাকে। বাধ্য হয়েই তার বিরুদ্ধে লুকআউট নোটিস জারি করে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)। গতকাল রাতে দিল্লিতে কংগ্রেসের সদর দপ্তরে সাংবাদিকদের সঙ্গে বৈঠক করে নিজের বিরুদ্ধে ওঠা সব অভিযোগ খারিজ করে দেন তিনি। পরে বাড়িতে যান। কাছাকাছি সময়ে তার বাড়িতে যায় সিবিআইর একটি দল। দরজা না খোলায় দেওয়াল টপকে তারা বাড়িতে ঢোকেন। এরপর রাত পৌনে ১০টার দিকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
২০১০ সালে ভারতে ইউপিএ সরকারের আমলে প্রথম আইএনএক্স দুর্নীতির বিষয়টি সামনে আসে। পরে তা ধামাচাপা পড়লেও ২০১৪ সালে সরকার বদলের পর নতুন করে গতি পায় তদন্ত।
ভারতের পার্লামেন্টের উচ্চকক্ষ রাজ্যসভার সদস্য চিদম্বরম বিভিন্ন সময় অর্থমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও পেনশনবিষয়ক মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। নির্বাচিত হয়েছিলেন নি¤œকক্ষ লোকসভার সদস্য হিসেবেও।
২০০৭ সালে চিদম্বরম ভারতের অর্থমন্ত্রী থাকার সময় ‘ফরেন ইনভেস্টমেন্ট প্রমোশন বোর্ড’ (এফআইপিবি)-এর কাছে বিদেশি লগ্নির আবেদন করেছিল আইএনএক্স মিডিয়া। তাতে লগ্নির টাকা সহযোগী সংস্থাগুলোতেও বিনিয়োগের অনুমতি চেয়েছিল তারা। কিন্তু আইএনএক্স মিডিয়ার লগ্নি এফআইপিবি অনুমোদন করলেও সহযোগী সংস্থায় ওই টাকা বিনিয়োগে সায় দেয়নি। আইএনএক্স মিডিয়া সেই নিষেধাজ্ঞা অগ্রাহ্য করায় এ অনিয়মের বিরুদ্ধে দাঁড়ায় আয়কর দপ্তর। তখনই চিদম্বরমের ছেলে কার্তির কোম্পানির দ্বারস্থ হন আইএনএক্স মিডিয়ার যুগ্ম প্রতিষ্ঠাতা পিটার ইন্দ্রাণী ও অন্যরা। কার্তি টাকার বিনিময়ে আইএনএক্স মিডিয়াকে ছাড়পত্র পাইয়ে দিয়েছিলেন। গোয়েন্দারা বলছেন, ছেলের সংস্থার হয়ে আইএনএক্সকে ওই অন্যায় সুবিধা পাইয়ে দিয়েছিলেন চিদম্বরম। পি চিদম্বরম এবং কার্তি অবশ্য শুরু থেকেই সব অভিযোগ অস্বীকার করে এসেছেন। রাজনৈতিক প্রতিহিংসা মেটাতে, ইচ্ছাকৃতভাবে ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) সরকারি গোয়েন্দা সংস্থাগুলোকে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবহার করছে বলে অভিযোগ তাদের।
