আওয়ামী লীগ ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলা নিয়ে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত রাজনীতি করছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। এ হামলার দায় নিয়ে আওয়ামী লীগকে পাল্টা বহু প্রশ্ন ছুড়ে দিয়েছেন তিনি।
বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১১টায় নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে রিজভী গ্রেনেড হামলা নিয়ে কথা বলেন।
তিনি বলেন, ‘আমরা প্রথম থেকেই দেখছি- আওয়ামী লীগ ২১ আগস্ট বোমা হামলা মামলা নিয়ে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত রাজনীতি করছে। মূলত ২১ আগস্টের ঘটনা ছিল গভীর নীলনকশার অংশ, যে নীলনকশার সঙ্গে ক্ষমতাসীনরা জড়িত কি না তা নিয়ে জনমনে যথেষ্ট সন্দেহ রয়েছে।’
বিএনপির এই মুখপাত্রের দাবি, ‘এই মামলার সামগ্রিক সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্ত হলে প্রকৃত ঘটনা বেরিয়ে আসতো। কিন্তু তা না করে সুপরিকল্পিত নীলনকশা অনুয়ায়ী এই ঘটনাকে ন্যক্কারজনক কায়দায় সম্পূর্ণ রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করে ফায়দা নেওয়ার চেষ্টা করে আসছে আওয়ামী লীগ।’
‘তার বড় প্রমাণ হলো কথিত সম্পূরক চার্জশিটের নামে এই মামলায় তারেক রহমানকে জড়িয়ে ফরমায়েশি রায়ে সাজা দেওয়া যা ছিল সম্পূর্ণভাবে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত, গভীর ষড়যন্ত্রমূলক ও দীর্ঘদিনের মাস্টারপ্ল্যানের ফসল’ যোগ করেন তিনি।
২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলায় বিএনপি সরকারকে জড়িত করে বুধবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের বক্তব্যের সমালোচনা করেন রিজভী।
তিনি বলেন, ‘কেবল প্রধানমন্ত্রী বা ক্ষমতাসীন দলের নেতারাই নন, আমরা বিস্মিত হয়েছি যখন দেখেছি, দুই-একটি পত্রিকা এবং সরকারি নেতাদের মালিকানাধীন টেলিভিশনে ইনিয়ে-বিনিয়ে বেসামাল ভাষায় বেগম খালেদা জিয়া এবং তারেক রহমানের ওপর দোষ চাপাতে অক্লান্ত চেষ্টা চালিয়েছে। কিন্তু প্রকৃত সত্য, প্রকৃত ঘটনা এভাবে মিথ্যাচার আর অপপ্রচারের মাধ্যমে জনগণের কাছে বিশ্বাসযোগ্য করা যাবে না।’
বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব বলেন, ‘যেকোনো সরকারের আমলে কখনো কখনো অনাকাঙ্ক্ষিত এমন কিছু ঘটনা ঘটে যার জন্য সেই সরকার দায়ী হতে পারে না। জাতীয় ও আন্তর্জাতিক বহুমুখী চক্রান্তকারীদের এজেন্টরা দেশে দেশে নানান নাশকতা করেছে।’
তিনি বলেন, ‘২১ আগস্টের জন্য যদি বিএনপি সরকার দায়ী হয়, তাহলে পিলখানা হত্যাকাণ্ডের জন্য কেন আওয়ামী লীগ সরকার দায়ী হবে না? কেন মুক্তচিন্তার ব্লগার, যাজক-পুরোহিত-ইমাম-বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-লালন সাধকদের হত্যাকাণ্ডের জন্য আওয়ামী সরকার দায়ী হবে না?’
রিজভী বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ক্ষমতায় থাকাকালীনই তো যশোরের উদীচীর অনুষ্ঠানে, খুলনার কাদিয়ানী মসজিদে, ঢাকায় সিপিবি’র সমাবেশে, রমনায় ছায়ানটের অনুষ্ঠানে, গোপালগঞ্জে ক্যাথলিক গির্জায়, নারায়ণগঞ্জে আওয়ামী লীগ অফিসে, বাগেরহাটের কলেজ মাঠে আক্রমণ ও বোমা হামলা হয়েছে এবং গোপালগঞ্জে দুটি শক্তিশালী তাজা বোমা উদ্ধার হয়েছে। তাহলে কি এর দায় প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী সরকারের ওপর বর্তায় না?’
তিনি বলেন, ২০০৮ সালের ১১ জুন বর্তমান পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) ও সিআইডির তৎকালীন অতিরিক্ত ডিআইজি জাবেদ পাটোয়ারীর তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয় ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা চালায় হরকাতুল জিহাদ। তার তদন্ত প্রতিবেদনে কোথাও তারেক রহমান বা বিএনপির নাম ছিল না।
বিএনপির এই মুখপাত্র আরও বলেন, গ্রেনেড হামলার মামলাটি তদন্ত করতে তৎকালীন বিএনপি সরকার মার্কিন তদন্ত সংস্থা এফবিআইকে নিয়ে এসেছিল। কিন্তু আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে এফবিআইকে তদন্তকাজে কোনো প্রকার সহায়তা করা হয়নি। এমনকি শেখ হাসিনাকে বহনকারী গাড়িটিও দেখতে দেওয়া হয়নি। কেন তারা সুষ্ঠু তদন্ত করতে দিলো না এর মধ্যেই লুকিয়ে আছে অনেক রহস্য। এরকম অনেক প্রশ্নের কোনো সমাধান হয়নি আজও।
অবশ্য গ্রেনেড হামলায় হতাহতের ঘটনা মর্মস্পর্শী ও হৃদয়বিদারক উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘মিসেস আইভি রহমানসহ অনেক নারী-পুরুষের জীবননাশ ও আহত হওয়ার নৃশংস ঘটনায় আমরা তখনো নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছি-এখনো জানাই।’
সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আবদুস সালাম আজাদ প্রমুখ।
