নিখোঁজের এক মাস ছয় দিন পর কেন্দুয়ার আশুজিয়া জেএনসি একাডেমির নবম শ্রেণির ছাত্রী দীপ্তি রানীকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। গত বুধবার রাতে গাজীপুর থেকে তাকে উদ্ধার করা হয়। দীপ্তি জানিয়েছে, তাকে কেউ অপহরণ করেনি। সে প্রেমিকের সঙ্গে পালিয়ে গিয়েছিল। এদিকে তার বাবার করা অপহরণ মামলায় এক মাস ধরে জেল খাটছেন সুজিত বর্মণ নামে এক যুবক। তিনি নেত্রকোনা সরকারি কলেজের একাদশ শ্রেণির ছাত্র।
কেন্দুয়া থানার ওসি মো. রাশেদুজ্জামান জানান, উপজেলার বলাইশিমুল ইউনিয়নের ভটেরগাতী পাড়াদুর্গাপুর গ্রামের শিরীষ বিশ্বশর্মার মেয়ে দীপ্তি গত ১৬ জুলাই স্কুলে গিয়ে আর বাড়ি ফেরেনি। পরদিন তার বাবা থানায় অপহরণ মামলা করেন। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তথ্যপ্রযুক্তির মাধ্যমে কেন্দুয়া থানা পুলিশ গত বুধবার গভীর রাতে গাজীপুর চৌরাস্তা এলাকা থেকে দীপ্তিকে উদ্ধার করে। গতকাল বিকেলে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ২২ ধারায় আদালতে জবানবন্দি দেয় দীপ্তি। পরে আদালত তাকে সেফ কাস্টডিতে পাঠায়। অন্যদিকে জেলে থাকা সুজিত নির্দোষ প্রমাণিত হয়েছেন। তাকে ছেড়ে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে।
দীপ্তি দেশ রূপান্তরকে বলে, ‘কেউ আমাকে অপহরণ করেনি। মোবাইল ফোনের মাধ্যমে ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলার সিংরাউন্দ গ্রামের আবদুল হাইর ছেলে আবদুল হান্নানের সঙ্গে আমার পরিচয় হয়। হান্নান পেশায় একজন রডমিস্ত্রি। তার সঙ্গে দুই বছরের প্রেমের টানে সেদিন আশুজিয়া থেকে ঈশ্বরগঞ্জ যাই। সেখান থেকে হান্নানের সঙ্গে টঙ্গী যাই। মুনশি দিয়ে বিয়ে পড়ানোর পর স্বামী-স্ত্রী হিসেবে বসবাস করি।’ নাম পরিবর্তন করে তার নাম সানজিদা আক্তার রুনা রাখা হয় জানিয়ে সে আরও বলে, ‘আমি বাবার কাছে যেতে চাই না, স্বামীর কাছে ফিরে যেতে চাই।’
নিখোঁজের পরদিন দীপ্তির বাবা সহপাঠী মনি বর্মণ, তার দুই ভাই সুজিত বর্মণ ও প্রদীপ বর্মণকে আসামি করে কেন্দুয়া থানায় অপহরণ মামলা করেন। এ মামলায় উপজেলার আশুজিয়া গ্রামের মনোরঞ্জন বর্মণের ছেলে সুজিতকে গ্রেপ্তার করে ১৯ জুলাই আদালতে পাঠায় পুলিশ। বর্তমানে সুজিত কারাগারে।
