একনেকে ৫৪৯৪ কোটি টাকার ১২ প্রকল্প অনুমোদন

মহাসড়কে ট্রাকচালকদের জন্য বিশ্রামাগার হবে

আপডেট : ২৮ আগস্ট ২০১৯, ০১:৪০ এএম

টেকসই ও নিরাপদ মহাসড়ক গড়ে তোলার জন্য চারটি জাতীয় মহাসড়কের পাশে ট্রাক, লরিসহ পণ্যবাহী গাড়িচালকদের জন্য পার্কিং সুবিধা সংবলিত বিশ্রামাগার স্থাপন করবে সরকার। এজন্য নতুন প্রকল্পের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এতে খরচ ধরা হয়েছে ২২৬ কোটি টাকা। একই সঙ্গে ৫ হাজার ৪৯৪ কোটি টাকা ব্যয়ে ১২ প্রকল্প অনুমোদন দিয়েছে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক)। গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে এনইসি সম্মেলনকক্ষে অনুষ্ঠিত একনেক সভায় প্রধানমন্ত্রী ও একনেক

চেয়ারপারসন শেখ হাসিনা সভাপতিত্ব করেন। বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান।

সভায় অনুমোদিত মোট ১২ প্রকল্প বাস্তবায়নে মোট খরচ ধরা হয়েছে ৫ হাজার ৪৯৪ কোটি টাকা। এর মধ্যে সরকারি তহবিল থেকে ৫ হাজার ৪১৬ কোটি টাকা এবং বৈদেশিক সহায়তা থেকে ৭৮ কোটি টাকা খরচ ধরা হয়েছে।

অনুমোদিত প্রকল্পগুলোর মধ্যে বেনাপোল স্থলবন্দরে কার্গো ভেহিকেল টার্মিনাল নির্মাণ প্রকল্পের খরচ ধরা হয়েছে ২৮৯ কোটি টাকা। আলীকদম-জালানিপাড়া-করুকপাতা-পোয়ামহুরী সড়ক প্রকল্পের খরচ ধরা হয়েছে ৫০৯ কোটি টাকা। টেকসই ও নিরাপদ মহাসড়ক নিশ্চিত করতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বেশকিছু অনুশাসন দিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রীর অনুশাসন তুলে ধরে পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী অনুশাসন দিয়ে বলেছেন, এখন থেকে যত রাস্তা হবে সব রাস্তার পাশে ড্রাইভার ও হেলপারদের জন্য বিশ্রামাগার তৈরি করতে হবে। রাস্তার পাশে গাছ লাগাতে হবে। বিশেষ করে খুলনা চুকনগর-সাতক্ষীরা সড়কে বাঁশ জাতীয় গাছ লাগানোর পরামর্শ দিয়েছেন। এছাড়া রাস্তায় ওভারলোড নিয়ন্ত্রণে দৃষ্টি রাখা, সড়কের শৃঙ্খলা, অর্থনৈতিক অঞ্চলসহ বিভিন্ন স্থানে বৃষ্টির পানি সংরক্ষণে জলাধার তৈরি করার কথাও বলেছেন প্রধানমন্ত্রী। শ্রমিক, চালক, হেলপারদের প্রতি মানবিক সুবিধা, সহযোগী হওয়ার আহ্বানও জানান। তিনি বলেছেন, রাস্তার পাশে সব জায়গায় গাছপালা রাখার বিধান রাখতে হবে।’

ওভারলোডিংয়ের (মাত্রাতিরিক্ত চাপ) বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য তুলে ধরে পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের এখানে গ্রোয়িং ইকোনমি, ওভারলোডিং হয়। ওভারলোডিং সম্পর্কে আমরা সচেতন। আমরা স্বীকার করি, বিকাশমান অর্থনীতির এই পর্যায়ে ওভারলোডিং পুরোপুরি দূর করতে পারব না। আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে জায়গা হচ্ছে না, হাসপাতালে জায়গা হচ্ছে নাÑ সবকিছুই ওভারলোডিং। এগুলোকে সহ্য করে মনিটরিং করতে বলেছেন তিনি।’

‘নানা সংস্থা কাজ করছে। আপনারা একে অন্যের গায়ে ঠোকর মারবেন না’Ñ দেশে কাজ করা বিভিন্ন সংস্থার প্রতি প্রধানমন্ত্রী এ আহ্বান রেখেছেন বলেও যোগ করেন পরিকল্পনামন্ত্রী।

অনুমোদন পাওয়া অন্য প্রকল্পগুলোর মধ্যে রয়েছেÑ সমতল ভূমিতে বসবাসরত অনগ্রসর ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর আর্থসামাজিক ও জীবন মানোন্নয়নের লক্ষ্যে সমন্বিত প্রাণিসম্পদ উন্নয়ন প্রকল্পের খরচ ধরা হয়েছে ৩৫২ কোটি টাকা। পুকুর পুনঃখনন ও ভূ-উপরিস্থ পানি উন্নয়নের মাধ্যমে ক্ষুদ্র সেচে ব্যবহার প্রকল্পের খরচ ধরা হয়েছে ১২৮ কোটি টাকা। কর্নেল মালেক মেডিকেল কলেজ ও ৫০০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতাল স্থাপন, মানিকগঞ্জ প্রকল্পের খরচ ধরা হয়েছে ১ হাজার ৫৭ কোটি টাকা। বেগম আমিনা মনসুর টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং ইনস্টিটিউট, কাজীপুর সিরাজগঞ্জ প্রকল্পের খরচ ধরা হয়েছে ১১৯ কোটি ৭৫ লাখ টাকা। সমন্বিত খামার ব্যবস্থাপনা অংশ-দ্বিতীয় পর্যায় (আইএফএমসি-২) প্রকল্পের খরচ ধরা হয়েছে ১১৭ কোটি টাকা। বড়তাকিয়া থেকে মিরসরাই অর্থনৈতিক অঞ্চল সংযোগ সড়ক নির্মাণ প্রকল্পের খরচ ধরা হয়েছে ১৮৩ কোটি টাকা। খুলনা-চুকনগর-সাতক্ষীরা মহাসড়কের খুলনা শহরাংশ চার লেনে উন্নীতকরণ প্রকল্পের খরচ ধরা হয়েছে ১০০ কোটি টাকা। উত্তরা এলাকায় পয়ঃশোধনাগার নির্মাণের জন্য ভূমি অধিগ্রহণ প্রকল্পের খরচ ধরা হয়েছে ১ হাজার ৩৯৮ কোটি টাকা। ইসিবি চত্বর হতে মিরপুর পর্যন্ত সড়ক প্রশস্তকরণ ও উন্নয়ন এবং কালশী মোড়ে ফ্লাইওভার নির্মাণ প্রকল্পের খরচ ধরা হয়েছে ১ হাজার ১২ কোটি টাকা।

পরিকল্পনামন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীর অন্যান্য নির্দেশনা তুলে ধরে বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী বলেছেন ড্রেন ওয়াটার সংরক্ষণের ব্যবস্থা করতে। যেন বাড়ির আশপাশে খাল-বিল, পুকুর থাকে। সেগুলো পরিষ্কার করে তাতে পানি সংরক্ষণ করার কথা বলেছেন। এগুলো কাজে লাগবে। বিশেষ করে আগুন লাগলে দমকল বাহিনী পানি পায় না। এটা খুব বেশি দরকার।’

এম এ মান্নান বলেন, প্রধানমন্ত্রী উত্তরায় প্রকল্প বাস্তবায়নে যাতে স্থানীয় লোকদের ক্ষতি না হয় সেদিকে নজর দেওয়ার নির্দেশ নিয়েছেন। এ সময় প্রকল্প সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা এলাকা ঘনবসতি নয় দাবি করলে প্রধানমন্ত্রী আবারও বিষয়টি দেখার নির্দেশ দেন।

 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত