বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকীতে অন্তত ১ খুনিকে ফেরাতে চায় আ.লীগ

আপডেট : ৩০ আগস্ট ২০১৯, ১২:৪৮ এএম

জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ছয় খুনির অন্তত একজনকে তার জন্মশতবার্ষিকী উদযাপনের মধ্যেই দেশে ফিরিয়ে আনতে চায় ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। এ লক্ষ্যে পররাষ্ট্র ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় যৌথভাবে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতারা দেশ রূপান্তরকে এ তথ্য জানিয়েছেন।

তাদের ভাষ্য, জন্মশতবার্ষিকীতে দেশবাসীকে আওয়ামী লীগ একটি ‘সারপ্রাইজ’ দিতে চায়। বাংলাদেশের মানুষ যখন বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী উদযাপন করবে, তখন বিদেশে পালিয়ে থাকা একজন খুনিকেও দেশে এনে রায় কার্যকর করা গেলে সেটা জাতির জন্য আরও আনন্দের হবে।

আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় তিনজন নেতা দেশ রূপান্তরকে জানান, যেসব দেশে খুনিরা পালিয়ে আছে, সেসব দেশের উচ্চপর্যায়ের কর্তাব্যক্তিদের সঙ্গে

 

আলোচনা চলছে সরকারের উচ্চপর্যায় থেকে। খুনিদের মধ্যে যে যে দেশে রয়েছে, সেখানকার আইন অনুযায়ী করণীয় ঠিক করতে সেসব দেশের আইনজীবীদের সঙ্গে আলোচনা চলছে। এ বিষয়ে সহায়তা পেতে এ সংক্রান্ত কাজ করেন এমন ব্যক্তি-প্রতিষ্ঠানের সঙ্গেও আলোচনা হচ্ছে।

২০২০ সালের ১৭ মার্চ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত বছরব্যাপী জাতির পিতার জন্মশতবার্ষিকী করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে আওয়ামী লীগ। এর অংশ হিসেবে বিষয়ভিত্তিক উপকমিটি গঠন করেছে দলটি। জন্মশতবর্ষ উদযাপনে গত ১৪ ফেব্রুয়ারি প্রধানমন্ত্রীকে সভাপতি করে ১০২ সদস্যের একটি জাতীয় কমিটি এবং জাতীয় অধ্যাপক রফিকুল ইসলামকে সভাপতি করে ৬১ সদস্যের একটি বাস্তবায়ন কমিটি করে সরকার।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক মন্ত্রী দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘বিদেশে পালিয়ে থাকা খুনিরা বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন দেশে যাতায়াত করছে। এটা আমাদের কাছে খবর রয়েছে। খুনিদের ফিরিয়ে আনতে একটি সুযোগও আমাদের হাতে রয়েছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘খুনিরা কোনো দেশের সিটিজেন (নাগরিক) হলেও বর্ডার ক্রস (সীমান্ত পারাপার) করার সময়ে যদি কোনো খুনিকে আমরা গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হই, সে ক্ষেত্রে দেশে ফিরিয়ে আনা সহজ হয়ে উঠবে। সেই সুযোগটাও খোঁজা হচ্ছে।’

বিদেশে পলাতক বঙ্গবন্ধুর ছয় হত্যাকারী হলেন রাশেদ চৌধুরী, নূর চৌধুরী, শরীফুল আলম ডালিম, মোসলেহউদ্দিন আহমেদ, খন্দকার আবদুর রশীদ ও আবদুল মাজেদ।

গত ২৩ আগস্ট বিভিন্ন দেশের কূটনীতিকদের সঙ্গে আওয়ামী লীগের আন্তর্জাতিক উপকমিটির নেতাদের ১৫ আগস্টের হত্যাকাণ্ড ও এর বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়। সেখানে উপস্থিত বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা কানাডার হাইকমিশনার ও যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূতকে প্রশ্ন করেন, তাদের দেশে পালিয়ে থাকা খুনিদের ফেরত পাঠাতে তারা কী ভূমিকা রাখবেন। কূটনীতিকরা এ নিয়ে সরাসরি কোনো উত্তর দেননি। তবে এ ক্ষেত্রে তাদের দেশের আইনেরও কিছু সীমাবদ্ধতার কথা জানিয়েছেন মার্কিন রাষ্ট্রদূত ও কানাডার হাইকমিশনার। ওই অনুষ্ঠানে কানাডার হাইকমিশনার আরও বলেন, তাদের দেশে পালিয়ে থাকা খুনি নূর চৌধুরী যদি যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত হতেন, সে ক্ষেত্রে তাকে হস্তান্তর করা যেত। যেহেতু তাদের দেশে মৃত্যুদণ্ডের বিধান নেই, সেহেতু নূর চৌধুরীকে ফেরত পাঠানোর ক্ষেত্রে তাদের সীমাবদ্ধতা আছে।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আবদুল মোমেন তার বক্তব্যে বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী উদযাপন যখন আমরা করব, তখন অন্তত একজন খুনি হলেও দেশে ফিরিয়ে আনতে পারব এবং সাজা কার্যকর করতে পারব বলে মনে করি।’ তিনি আরও বলেন, ‘সরকার সেজন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা অব্যাহত রেখেছে। আশা করছি সফল হব।’

জানতে চাইলে অনুষ্ঠানে দেওয়া বক্তব্যের কথা স্বীকার করে পররাষ্ট্রমন্ত্রী দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘বিদেশে পলাতক থাকা বঙ্গবন্ধুর খুনিদের দেশে ফিরিয়ে আনার জোরালো চেষ্টা অব্যাহত আছে। জন্মশতবার্ষিকী উদযাপনের সময়ে আমরা অন্তত একজন খুনির সাজা কার্যকর করতে পারব।’ জোরালো চেষ্টা কী জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘তা বলার সময় এখনো আসেনি।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত