ফ্রান্সের প্যারিস নগরীকে বলা হয় কৃষ্টি আর সংস্কৃতির এক অনন্য মিশেল। ‘ভালোবাসার শহর’খ্যাত এ শহরে বসেই নিভৃতে কাজ করে যাচ্ছেন বাংলাদেশি তরুণ গায়ক ফাহাদ বিন আজিজ। গেল কোরবানির ঈদে এ সময়ের জনপ্রিয় নাট্য-নির্মাতা কাজল আরেফিন অমির ‘হার্টবিট’ নাটকের থিম সংটি গেয়েছেন আলোচনায় এসেছেন ফাহাদ। তার সাক্ষাৎকার নিয়েছেন মাসিদ রণ
আপনার গাওয়া ‘হার্টবিট’ নাটকের থিম সংটি বেশ সাড়া ফেলেছে। এ গানটি নিয়ে কিছু বলুন...
গানটির শিরোনাম ‘আগুন হয়ে জলবো জানি’। একটু ভিন্ন ধাচের গান। এই গানে একই সঙ্গে রোমান্টিক, স্যাড মেলোডি ও রক ধাচের স্বাদ রয়েছে। তাই গানটি মানুষ খুব পছন্দ করেছে। আমি খুবই ভালো সাড়া পেয়েছি গানটির জন্য। এ নাটকে অভিনয় করেছেন অপূর্ব ও তানজিন তিশা। ইতোমধ্যে নাটকটি এক মিলিয়নের বেশি দর্শক দেখেছেন ইউটিউবে। কিছুদিনের মধ্যেই গানটি আলাদা করে মিউজিক ভিডিও আকারে প্রকাশ হবে।
এর আগেও নাটকের বেশকিছু গান গেয়েছেন আপনি। নাটকের গানের শুরুটা কিভাবে?
নাটকের গানে আমার কণ্ঠ দেয়া শুরু ২০১৭ সালের কোরবানির ঈদে দেশের অন্যতম জনপ্রিয় নাটক ও চলচ্চিত্র নির্মাতা মোহাম্মদ মোস্তফা কামাল রাজ ভাই আর নাভেদের হাত ধরে। আফরান নিশো ও শবনম ফারিয়া অভিনীত ‘প্রেমেরই রঙে রাঙানো’ নাটকের টাইটেল সংটি আমার গাওয়া। এরপর রাজ ভাইয়েরই পরিচালিত ‘অনুভবে’ নাটকের ‘হাসি’, এ বছরের পহেলা বৈশাখে ‘প্লেবয়’ নাটকের ‘কেনো হঠাৎ ঝড়ে’ গানটি আমার গাওয়ার সুযোগ হয়। এছাড়া জাকিউল ইসলাম রিপনের ‘লাভ ট্রাস্ট এন্ড কেয়ার’ নাটকের ‘আড়াল’, এজাজ মুন্নার ড্রামা সিরিয়াল ‘আমি এমন তুমি কেমন’-এর টাইটেল সংও করেছি। গেল রোজার ঈদের নাটকেও আমার গান ছিল। অমির পরিচালনাতেই সিনেমাওয়ালা প্রযোজিত আফরান নিশো ও তানজিন তিশা অভিনীত ‘এক্স ওয়াইফ’ নাটকের ‘ডুবসাঁতার’ শিরোনামের গানটি গেয়েছিলাম। জনপ্রিয় এ নাটকের ভিউ হয়েছে প্রায় ৪০ লাখেরও উপরে।
সিনেমাতেও তো গেয়েছেন?
হ্যাঁ। ২০১৫ সালে আরিফিন শুভ অভিনীত আশিকুর রহমান পরিচালিত ‘মুসাফির’ সিনেমার টাইটেল গানে আমি আর তৌফিক ভাই কণ্ঠ দিই। র্যাপ ধাঁচের সে গানটি ওই সময় বেশ আলোচিত হয়। এরপর ২০১৭ তে এইচটিএম রেকর্ডস থেকে ‘ফিরে এসো’ নামে আমার একটি সলো গান প্রকাশ পায়, যার সংগীত আয়োজন করেছেন এ সময়ের জনপ্রিয় মিউজিক কম্পোজার তাহসিন আহমেদ। বিশেষ করে রাজ ভাইয়ের সর্বশেষ পরিচালিত চলচ্চিত্র ‘যদি একদিন’-এ আমার গাওয়া ‘বন্ধু আমার’ গানটির জন্য দেশ ও বিদেশের দর্শকের কাছ থেকে বেশ সাড়া পেয়েছি। সংগীত আর চলচ্চিত্রে সলো প্লেব্যাকসহ আমার এ পথচলায় মোস্তফা কামাল রাজ ও সংগীত পরিচালক নাভেদের আছে আমি বিশেষভাবে কৃতজ্ঞ, কারন তাদের কারনেই আমার আজ এতদূর আসা।
গানের পথচলাটা কিভাবে শুরু?
বাবার অনুপ্রেরণায় ছোটবেলায় নজরুলসংগীত শেখা শুরু, যদিও খুব বেশিদিন শেখা হয়নি আমার। এখনও বাবার পাশাপাশি স্ত্রীর কাছ থেকে ভীষণ সাপোর্ট পাই। ২০১০ সালে লন্ডনে থাকাকালীন সময় নিতান্ত শখের বসেই বেশকিছু হিন্দি গান কভার করে ইউটিউবে/ফেইসবুকে প্রকাশ করতাম। আর তার মধ্যে বিশেষ করে শাফকাত আমানত আলীর ‘মোরা সাইয়া মোসে বোলে না’ গানটি করে বন্ধুমহলে বেশ সাড়া পাই। এরপর সে বছরই দেশ থেকে সর্বপ্রথম গীতিকার সুস্মিতা বিশ্বাস সাথী আমার সঙ্গে যোগাযোগ করেন। তার মিক্সড অ্যালবাম ‘অনলাইন’-এ ‘নেশা’ ও ‘ভবঘুরে’ গান দুটির মাধ্যমে আমার গায়ক হিসেবে আত্মপ্রকাশ ঘটে। এর মধ্যে ‘নেশা’ গানটির সংগীত পরিচালনা করেন নাভেদ পারভেজ ; যিনি কিনা বর্তমানে দেশের চলচ্চিত্র, নাটক, বিজ্ঞাপন, দেশের গন্ডি পেরিয়ে বলিউডে কাজ করা সহ মিউজিকের সকল ধরনের কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন।
স্টেজ শোতে আপনি কতোটা স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন?
লন্ডনে থাকাকালীন ২০১০ থেকে ২০১২ পর্যন্ত সেখানকার একাধিক বাংলা টিভি চ্যানেলে মিউজিকের অনুষ্ঠান ও স্টেজ শো করেছি। এরপর আর করা হয় নি। তবে স্টেজে গাইতে আমার বেশ ভালো লাগে।
নাভেদ পারভেজ আপনার প্রায় সবগুলো গানের সংগীত পরিচালক। এমনটি কেন?
(হাসতে হাসতে) আসলে বিশেষ কোন কারন নেই। প্রবাস জীবনে তো আমাদের কর্ম-ব্যস্ততাটা অনেক বেশি ; তাই সারাদিন জব করে এসে মিউজিকের জন্য সময় বের করা আমার জন্য একটু কঠিনই। তাই খুব বেশি কাজ করাও হয় না, আর যা হয় সব নাভেদের সাথেই। এছাড়াও আমাদের মধ্যে কাজের বোঝাপড়া টাও অত্যন্ত চমৎকার। কোন গানে ও কি চাচ্ছে সেটা যেমন আমি খুব সহজেই ধরতে পারি ; তেমনি আমার ক্ষেত্রেও ও সেটা ধরতে পারে - যার ফলে আমাদের কাজের একটা কমফোর্ট জোন তৈরী হয়েছে অনেক আগে থেকেই। কিন্ত এমনিতে অন্য কারো সাথে কাজেও কোনো আপত্তি নেই।
অনেকগুলো ভালো কাজ করার পরও আপনি অনেকটাই আড়ালে। সংগীত নিয়ে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কি?
মানুষ আমাকে খুব একটা চেনে না এটা সত্যি। তবে এ ব্যাপারটা আমি এনজয় করি। ছোটবেলা থেকেই সব ক্ষেত্রে আমি একটু মুখচোরা প্রকৃতির। তাই মিউজিক ভিডিও বা অন্যভাবে নিজের প্রচার কখনো করা হয়নি। তবে এবার দেশে ফিরে বড় পরিসরে নিজের উদ্যোগে কিছু ভালো গান করার পরিকল্পনা রয়েছে। আমি চাই ভালো কথা ও ভালো সুরের ভিন্নধর্মী কিছু কাজ দর্শক- শ্রোতাদের উপহার দিতে, আর যেকোনো গানের ক্ষেত্রেই নিজের সেরাটা দিতে। পাশাপাশি নাটকের গান তো চলছেই। তবে বিশেষ করে মেলোডিয়াস, ফোক, সেমি-ক্লাসিকাল আর ফিউশনধর্মী গান করতেই আমি একটু বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করি।
