মুখের দুর্গন্ধ বা হ্যালিটোসিস

আপডেট : ০৪ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ১১:২০ পিএম

অনুমান করা যায়, সাধারণ জনগণের প্রতি চারজনের মধ্যে একজন মুখে দুর্গন্ধ জটিলতায় ভুগছে। বিব্রতকর ও সামাজিকভাবে অস্বস্তিকর এই অবস্থা নিজের ব্যক্তিত্বকে হেয় করে, পাশাপাশি নানা সমস্যার তৈরি করতে পারে। মুখগহ্বরে জটিলতার মধ্যে ডেন্টাল ক্যারিজ ও মাড়িরোগের পরই মুখে দুর্গন্ধ সমস্যার অবস্থান।

কারণ

মুখ পরিষ্কারে উদাসীনতা : আমাদের মধ্যে অনেকেই রাতে খাবারের পর মুখ পরিষ্কার করেন না, দাঁত ও মুখ পরিষ্কারের সঠিক নিয়ম মানেন না, ডেন্টাল ফ্লস ব্যবহার করতে পারেন না। মুখে গন্ধের প্রধান কারণ হচ্ছে এটি।

গৃহীত খাদ্যকণা দাঁতের ফাঁকে কোথাও আটকে থাকলে জীবাণুরা সেগুলো ভেঙে সালফার নামক দুর্গন্ধ পদার্থ তৈরি করে। অপরিষ্কার মুখে নানা ধরনের রোগ হতে পারে আর সেখান থেকে গন্ধও হতে পারে।

ধূমপান ও মদপান : ধূমপায়ীদের মুখে বাজে গন্ধ খুবই স্বাভাবিক। ধূমপানসহ যেকোনো ধরনের তামাকদ্রব্য বা অ্যালকোহল আমাদের শরীরের জন্য ভালো নয়, ক্যানসার তৈরির অন্যতম কারণ হিসেবে এগুলোকে চিহ্নিত করা হয়।

খাবারের রকমভেদ : বিশেষ কিছু খাবার গ্রহণে মুখে দুর্গন্ধ হতে পারে। যেমনÑ পেঁয়াজ বা রসুন হজমের পর রক্তে এসে ফুসফুসে চলে আসে আর সেখান থেকে নিঃশ্বাসে গন্ধ আসে।

শুষ্ক মুখ : কারণ যায় হোক, মুখে লালা প্রবাহ স্বাভাবিক না হলে মুখে দুর্গন্ধ হবেই। লালা মুখকে পরিষ্কার রাখার পাশাপাশি জীবাণুদের প্রতিহত করে। ফলে মাড়িরোগ ও ডেন্টাল ক্যারিজ হওয়ার প্রবণতা কমে যায়, যেখান থেকে দুর্গন্ধের তৈরি হয়।

শর্করা কম খেলে : রোজা রাখা অবস্থায় বা ডায়েটিংয়ে থাকলে কার্বোহাইড্রেট বা ভাতজাতীয় খাবার কম খাওয়ার কারণে শরীরের চাহিদা মেটাতে চর্বি ভাঙা শুরু করে কিটোন নামক রাসায়নিক পদার্থ তৈরি হয়, এখান থেকেও মুখে গন্ধ হতে পারে। কম পানীয় পান করার জন্য মুখ শুষ্ক থাকলেও গন্ধ হতে পারে।

ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া : উদাহরণস্বরূপ এনজাইনা, কিছু কেমোথেরাপি, কিছু ট্র্যানকুইলাইজার যেমন

ফেনোথিয়াজাইনসের পাশাপাশি যেসব ওষুধ মুখে লালা নিঃসরণ কমায়, সেখান থেকে মুখে গন্ধ হতে পারে।

যারা অধিক পরিমাণে ভিটামিন পরিপূরক গ্রহণ করেন, তাদেরও মুখে দুর্গন্ধের ঝুঁকি হতে পারে।

অন্যান্য রোগ থেকে : নাক-কান-গলার রোগ থেকে যেমন টনসিলের প্রদাহ, সাইনাসে সংক্রমণ, লিভারের রোগ, হজমে সমস্যাসহ পাকস্থলীর এসিডগুলোর নিয়মিত রিফ্লাক্সের কারণে দুর্গন্ধের সৃষ্টি পারে। শ্বাসনালির বা ফুসফুসের সংক্রমণ থেকেও দুর্গন্ধ তৈরি হতে পারে। অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিস থেকেও কিটোএসিডোসিস হয়ে মুখে দুর্গন্ধ হতে পারে।

সমস্যার কারণের ওপর নির্ভর করে শ্বাসের নির্দিষ্ট গন্ধ আলাদা হতে পারে। মুখের গন্ধ নির্ধারণের জন্য নিকটতম বন্ধু বা আত্মীয়রা প্রথমে বুঝতে পারে, কারণ এটি নিজেরা মূল্যায়ন করা কঠিন।

কিছু লোক মুখের গন্ধ খুব কম বা না লাগলেও তাদের শ্বাস সম্পর্কে উদ্বিগ্ন। এ অবস্থাকে হ্যালিটোফোবিয়া বলা হয়।

মুখের দুর্গন্ধ এড়াতে সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন মুখগহ্বর পরিষ্কার রাখার সঠিক নিয়ম জানা এবং তার নিয়মিত অনুশীলন করা। এর মধ্যে সঠিকভাবে দাঁত ব্রাশ, ফ্লস ব্যবহার ও মাউথ ওয়াশ ব্যবহার উল্লেখযোগ্য।

প্রচুর তরল পান ও চিনিমুক্ত চুইংগাম চিবালে মুখের লালা নিঃসরণ ঠিক রাখে। অন্যান্য শারীরিক সমস্যা থেকে হলে সেগুলোর সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া এবং সর্বোপরি ছয় মাস অন্তর অনুমোদিত ডেন্টাল চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াটা অধিক জরুরি। অনুমান করা যায়, সাধারণ জনগণের প্রতি চারজনের মধ্যে একজন মুখে দুর্গন্ধ জটিলতায় ভুগছে। বিব্রতকর ও সামাজিকভাবে অস্বস্তিকর এই অবস্থা নিজের ব্যক্তিত্বকে হেয় করে, পাশাপাশি নানা সমস্যার তৈরি করতে পারে। মুখগহ্বরে জটিলতার মধ্যে ডেন্টাল ক্যারিজ ও মাড়িরোগের পরই মুখে দুর্গন্ধ সমস্যার অবস্থান।

কারণ

মুখ পরিষ্কারে উদাসীনতা : আমাদের মধ্যে অনেকেই রাতে খাবারের পর মুখ পরিষ্কার করেন না, দাঁত ও মুখ পরিষ্কারের সঠিক নিয়ম মানেন না, ডেন্টাল ফ্লস ব্যবহার করতে পারেন না। মুখে গন্ধের প্রধান কারণ হচ্ছে এটি।

গৃহীত খাদ্যকণা দাঁতের ফাঁকে কোথাও আটকে থাকলে জীবাণুরা সেগুলো ভেঙে সালফার নামক দুর্গন্ধ পদার্থ তৈরি করে। অপরিষ্কার মুখে নানা ধরনের রোগ হতে পারে আর সেখান থেকে গন্ধও হতে পারে।

ধূমপান ও মদপান : ধূমপায়ীদের মুখে বাজে গন্ধ খুবই স্বাভাবিক। ধূমপানসহ যেকোনো ধরনের তামাকদ্রব্য বা অ্যালকোহল আমাদের শরীরের জন্য ভালো নয়, ক্যানসার তৈরির অন্যতম কারণ হিসেবে এগুলোকে চিহ্নিত করা হয়।

খাবারের রকমভেদ : বিশেষ কিছু খাবার গ্রহণে মুখে দুর্গন্ধ হতে পারে। যেমনÑ পেঁয়াজ বা রসুন হজমের পর রক্তে এসে ফুসফুসে চলে আসে আর সেখান থেকে নিঃশ্বাসে গন্ধ আসে।

শুষ্ক মুখ : কারণ যায় হোক, মুখে লালা প্রবাহ স্বাভাবিক না হলে মুখে দুর্গন্ধ হবেই। লালা মুখকে পরিষ্কার রাখার পাশাপাশি জীবাণুদের প্রতিহত করে। ফলে মাড়িরোগ ও ডেন্টাল ক্যারিজ হওয়ার প্রবণতা কমে যায়, যেখান থেকে দুর্গন্ধের তৈরি হয়।

শর্করা কম খেলে : রোজা রাখা অবস্থায় বা ডায়েটিংয়ে থাকলে কার্বোহাইড্রেট বা ভাতজাতীয় খাবার কম খাওয়ার কারণে শরীরের চাহিদা মেটাতে চর্বি ভাঙা শুরু করে কিটোন নামক রাসায়নিক পদার্থ তৈরি হয়, এখান থেকেও মুখে গন্ধ হতে পারে। কম পানীয় পান করার জন্য মুখ শুষ্ক থাকলেও গন্ধ হতে পারে।

ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া : উদাহরণস্বরূপ এনজাইনা, কিছু কেমোথেরাপি, কিছু ট্র্যানকুইলাইজার যেমন

ফেনোথিয়াজাইনসের পাশাপাশি যেসব ওষুধ মুখে লালা নিঃসরণ কমায়, সেখান থেকে মুখে গন্ধ হতে পারে।

যারা অধিক পরিমাণে ভিটামিন পরিপূরক গ্রহণ করেন, তাদেরও মুখে দুর্গন্ধের ঝুঁকি হতে পারে।

অন্যান্য রোগ থেকে : নাক-কান-গলার রোগ থেকে যেমন টনসিলের প্রদাহ, সাইনাসে সংক্রমণ, লিভারের রোগ, হজমে সমস্যাসহ পাকস্থলীর এসিডগুলোর নিয়মিত রিফ্লাক্সের কারণে দুর্গন্ধের সৃষ্টি পারে। শ্বাসনালির বা ফুসফুসের সংক্রমণ থেকেও দুর্গন্ধ তৈরি হতে পারে। অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিস থেকেও কিটোএসিডোসিস হয়ে মুখে দুর্গন্ধ হতে পারে।

সমস্যার কারণের ওপর নির্ভর করে শ্বাসের নির্দিষ্ট গন্ধ আলাদা হতে পারে। মুখের গন্ধ নির্ধারণের জন্য নিকটতম বন্ধু বা আত্মীয়রা প্রথমে বুঝতে পারে, কারণ এটি নিজেরা মূল্যায়ন করা কঠিন।

কিছু লোক মুখের গন্ধ খুব কম বা না লাগলেও তাদের শ্বাস সম্পর্কে উদ্বিগ্ন। এ অবস্থাকে হ্যালিটোফোবিয়া বলা হয়।

মুখের দুর্গন্ধ এড়াতে সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন মুখগহ্বর পরিষ্কার রাখার সঠিক নিয়ম জানা এবং তার নিয়মিত অনুশীলন করা। এর মধ্যে সঠিকভাবে দাঁত ব্রাশ, ফ্লস ব্যবহার ও মাউথ ওয়াশ ব্যবহার উল্লেখযোগ্য।

প্রচুর তরল পান ও চিনিমুক্ত চুইংগাম চিবালে মুখের লালা নিঃসরণ ঠিক রাখে। অন্যান্য শারীরিক সমস্যা থেকে হলে সেগুলোর সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া এবং সর্বোপরি ছয় মাস অন্তর অনুমোদিত ডেন্টাল চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াটা অধিক জরুরি।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত