দেশে সম্ভাব্য জঙ্গি হামলার ব্যাপারে বিভিন্ন সময় পুলিশ কর্মকর্তা ও সদস্যদের নানাভাবে সতর্ক করা হয়েছে। নেওয়া হয়েছে হামলা ঠেকাতে প্রতিরোধ ও নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা। প্যাট্রল টহল, সন্দেহভাজন ব্যক্তি, বস্তু ও যানবাহন তল্লাশির নির্দেশনা ছিল। বিশেষ করে পুলিশকে বিশেষ সতর্ক অবস্থায় থাকতে বলা হয়েছিল।
গত ২৩ জুলাই রাজধানীর পল্টন মোড়ের ট্রাফিক পুলিশ বক্স ও খামারবাড়ির পুলিশ বক্সের সামনে আবারও ইম্প্রোভাইজড এক্সপ্লোসিভ ডিভাইসের (আইইডি) দুটি কার্টন পাওয়ার ঘটনায় এসব সতর্কতামূলক নির্দেশনা পালন নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। মাঠ পর্যায়ে উল্টো চিত্রের তথ্য পাওয়া গেছে।
পুলিশ কর্মকর্তারা জানান, ২৩ জুলাই দুই পুলিশ বক্সের সামনে যে বাক্স দুটি রেখে যাওয়া হয়েছিল পুলিশের কেউ সেগুলোকে বিস্কুটের প্যাকেট মনে করেছিলেন। কেউ খাবারের প্যাকেট মনে করে পুলিশ বক্সের বাইরে থেকে সংগ্রহ করে ভেতরে নিয়ে খুলেছিলেন। কিন্তু প্যাকেট দুটি খোলার পর ভেতরে তার ও টেপ মোড়ানো বোমাসদৃশ বস্তু (আইইডি) দেখে ভয়ে বাইরে বেরিয়ে যান।
খামারবাড়ির ট্রাফিক পুলিশের এক কর্মকর্তা দেশ রূপান্তরকে বলেন, কাকতালীয়ভাবে ওইদিনই এই ফাঁড়ির এক কর্মকর্তার নামে একটি বিস্কুটের প্যাকেট আসার কথা ছিল। সেই কৌতূহল থেকেই দুই পুলিশ সদস্য
বাইরে পড়ে থাকা কার্টনটি বিস্কুটের প্যাকেট মনে করে ভেতরে নিয়ে যায়।
খবর পেয়ে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইমের (সিটিটিসি) বোম্ব ডিজপোজাল ইউনিটের দুটি পৃথক দল একই সময়ে পল্টন ও খামারবাড়ির ঘটনাস্থলে গিয়ে আইইডি দুটি উদ্ধার করে নিষ্ক্রিয় করে। ওই ঘটনার পর থেকেই ডিএমপি পুলিশকে নিরাপত্তা নির্দেশনা কঠোরভাবে মেনে চলার পাশাপাশি ব্যাগ ও কার্টন নিয়ে আরও সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ স্থানগুলোতে বসানো হয়েছে বিশেষ ক্যামেরা।
গত মঙ্গলবার ডিএমপি ও সিটিটিসির একাধিক কর্মকর্তা এসব তথ্য জানিয়েছেন।
এ ব্যাপারে ডিএমপির জনসংযোগ শাখার (মিডিয়া) উপকমিশনার (ডিসি) মো. মাসুদুর রহমান দেশ রূপান্তরকে বলেন, মাঠ পর্যায়ের পুলিশকে সতর্ক অবস্থায় দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি তাদের নিরাপত্তার জন্য বেশকিছু কৌশল গ্রহণ করা হয়েছে। তবে নিরাপত্তার স্বার্থে সেসব বিষয় প্রকাশ করা যাচ্ছে না।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে তেজগাঁও থানার ওসি শামীম অর রশীদ তালুকদার দেশ রূপান্তরকে বলেন, ওই ঘটনার (২৩ জুলাই রাজধানীর খামারবাড়ি পুলিশ বক্স থেকে উদ্ধার হওয়া আইইডি) পর থেকে আমার থানা এলাকার দায়িত্বরত সবাইকে আরও সতর্ক অবস্থায় দায়িত্ব পালনের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
মতিঝিল জোনের অপর এক পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, খামারবাড়ির মতো পল্টন ট্রাফিক পুলিশ বক্সেও একই দিন কাগজের কার্টনে আইইডি দেখতে পেয়ে পানিভর্তি বালতির মধ্যে ডুবিয়ে রেখেছিলেন পুলিশের অসচেতন কর্মকর্তারা। যেটি পানির সংস্পর্শে আরও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠতে পারত। সৌভাগ্যবশত বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেনি। অন্যথায় অনেক হতাহতের ঘটনা ঘটতে পারত।
ডিএমপির একাধিক কর্মকর্তা জানান, গত ৫ মাসে পুলিশের ওপর ৫ হামলার তদন্তেএখনো কাউকে শনাক্ত কিংবা গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি। তবে মালিবাগে পুলিশের গাড়িতে আইইডি হামলাকারী দুই যুবকের সংশ্লিষ্টতার তথ্য পেয়েছেন। যাদের একজন গাড়িতে আইইডি রেখেছিলেন, অন্যজন তার ব্যাকআপ হিসেবে মোটরসাইকেল নিয়ে দাঁড়িয়েছিলেন। সেখানকার ক্লোজ সার্কিট টেলিভিশন ক্যামেরার (সিসিটিভি) ফুটেজ বিশ্লেষণ করে এসব তথ্য পাওয়া গেছে। সর্বশেষ গত শনিবার রাজধানীর সায়েন্স ল্যাবরেটরি এলাকায় আইইডির বিস্ফোরণ ঘটনার পর থেকেই ডিএমপি হেডকোয়ার্টার্স থেকে বিশেষ ক্যামেরা বসানোর কাজ শুরু হয়েছে। রাজধানীজুড়ে পুলিশ অবস্থানের জায়গাসহ গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট চিহ্নিত করা হয়েছে। যেসব পয়েন্ট জঙ্গি হামলার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ সেইসব পয়েন্টে বিশেষ সিসিটিভি ক্যামেরা বসানো শুরু হয়েছে। ছোট আকৃতির এই ক্যামেরা খালি চোখে দেখা যাবে না। তবে এটি দিনে ও রাতের দৃশ্য স্পষ্টভাবে ধারণ ক্ষমতাসম্পন্ন বলে জানান ওই কর্মকর্তা।
