রাজধানীর মতিঝিলে দিনেদুপুরে পুলিশ পরিচয়ে ব্যবসায়ীর ১০ লাখ টাকা ছিনতাইয়ের সময় দুজনকে পিটুনি দিয়ে মতিঝিল থানা পুলিশের হাতে তুলে দিয়েছে পথচারীরা। পুলিশ বলছে, তাদের একজন বংশাল থানার কনস্টেবল আল-মামুন মাহমুদ। মতিঝিল থানার কর্তব্যরত উপপরিদর্শক (এসআই) হোসেন বলেন,
‘ছিনতাইয়ের অভিযোগে দুজনকে থানা হাজতে রাখা হয়েছে। তাদের মধ্যে একজন বংশাল থানার কনস্টেবল বলে শুনেছি। তার পুরো নাম আল-মামুন মাহমুদ।’
ব্যবসায়ী আবু কালাম দেশ রূপান্তরকে জানান, পুরানা পল্টনে তিতাস এনার্জি অ্যান্ড মেরিন ইলেকট্রনিকস নামে একটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান আছে তার। এক গ্রাহক গতকাল বুধবার বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে এনআরবি কমার্শিয়াল ব্যাংক মতিঝিল শাখা থেকে ১০ লাখ টাকা তুলে তাকে পেমেন্ট করেন। ওই টাকা নিয়ে তিনি আল-আরাফাহ্ ব্যাংক মতিঝিল শাখায় নিজ হিসাবে জমা দিতে যাচ্ছিলেন। ব্যাংক থেকে বের হওয়ার পর মামুনের নেতৃত্বে দুই মোটরসাইকেলে আসা তিন ব্যক্তি তাকে ঘিরে ধরে। তারা বলে, ‘আমরা সিআইডির লোক। তুই অবৈধ টাকা লেনদেন করিস, তোকে আমাদের সঙ্গে থানায় যেতে হবে।’ এ সময় তাকে হাতকড়া পরানোর চেষ্টা করলেও তিনি রাজি হননি। একপর্যায়ে দুজন তাকে মোটরসাইকেলে তোলে। মামুন ‘পুলিশ লেখা (ঢাকা মেট্রো ল ২৪-৩৬৯৯) নম্বর’ মোটরসাইকেলটি চালাচ্ছিল।
ওই ব্যবসায়ী বলেন, পরে তাকে নিয়ে আরামবাগের দিকে মোহামেডান ক্লাবের সামনে গেলে তার সন্দেহ হয় তারা পুলিশ নয়; ছিনতাইকারী। এ সময় তিনি ব্রেকে চাপ দিয়ে মোটরসাইকেলটি থামিয়ে ছিনতাইকারী বলে চিৎকার শুরু করেন। এ সময় মামুন হাতকড়া দিয়ে আঘাত করলে তার মাথা ফেটে যায়। তার চিৎকারে স্থানীয়রা এগিয়ে এলে তিনজনের একজন পালিয়ে যায়। পরে মামুন ও জিতুকে পিটুনি দিয়ে মতিঝিল থানার একটি টহল দলের হাতে তুলে তারা।
ব্যবসায়ী আবু কালাম আরও বলেন, ১০ লাখ টাকা মতিঝিল থানার ওসির কাছে জমা দিয়ে তিনি ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য যান। চিকিৎসা শেষে তাকে আবারও মতিঝিল থানায় নেওয়া হয়। এ বিষয়ে মামলা করবেন কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘ওসি সাহেব যে সিদ্ধান্ত দেবেন তাই করব।’
মতিঝিল থানার ওসি ওমর ফারুক বলেন, ‘এ বিষয়ে আমি নই ডিসি মিডিয়া স্যার কথা বলবেন।’ পরে উপকমিশনার মাসুদুর রহমান দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আমরা একটি অভিযোগ শুনেছি। এ বিষয়ে খোঁজ-খবর নিচ্ছি। নিশ্চিত হলেই বিস্তারিত জানাব।’
