চাঁদপুরে উয়ারুক বাজারের নৈশপ্রহরীর কন্যাকে (১৮) ভয়ভীতি দেখিয়ে ধর্ষণ করেছে বলে উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সোহেল হোসেনের (৩১) বিরুদ্ধে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় গত মঙ্গলবার মামলার পর তাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গতকাল বুধবার তরুণীকে মেডিকেল টেস্টের জন্য চাঁদপুর সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
পুলিশ ও পরিবার সূত্রে জানা যায়, উপজেলার টামটা দক্ষিণ ইউনিয়নের শংকরপুর গ্রামে ওই তরুণীকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে বিভিন্ন সময় ধর্ষণ করে আসছিল ছাত্রলীগ নেতা সোহেল হোসেন। একপর্যায়ে
বিয়ের কথা বললে উল্টো ভয়ভীতি ও হুমকি দেখাতে শুরু করে সে। গত মঙ্গলবার থানায় ধর্ষণ মামলা দায়ের করেন তরুণীর বাবা। খবর পেয়ে ওই ছাত্রলীগ নেতা তরুণীর বাড়িতে গিয়ে মামলা তুলে নিতে হুমকি দেয়। এ সময় এলাকাবাসী তাকে আটক করে পুলিশে খবর দেয়।
শাহরাস্তি থানার ওসি মো. শাহ আলম জানান, মঙ্গলবার রাতে শাহরাস্তি উপজেলার উয়ারুক এলাকায় স্থানীয় লোকজন তাকে আটক করে পুলিশে খবর দেয়। পরে তাকে আটক করে থানায় নিয়ে আসা হয়।
মিরসরাইয়ে মাদ্রাসাছাত্রীকে ধর্ষণ : চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে সহপাঠীর সঙ্গে দেখা করতে গিয়ে দুই বখাটের ধর্ষণের শিকার হয়েছে ১৪ বছর বয়সী এক মাদ্রাসাছাত্রী। ঘটনায় জড়িত কলেজছাত্র আরিফ (১৯) ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের কর্মচারী পারভেজ আলম মাহিকে (১৯) গতকাল বুধবার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে আটক করেছে পুলিশ।
পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ঘটনায় জড়িত থাকার কথা তারা স্বীকার করেছে বলে জানিয়েছেন মিরসরাই থানার ওসি জাহিদুল কবির। ধর্ষণের শিকার কিশোরীর মা বাদী হয়ে এ ঘটনায় মিরসরাই থানায় মামলা করেছেন।
পুলিশ ও ভুক্তভোগীর পরিবার থেকে জানা যায়, গত ২৯ আগস্ট দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে মিরসরাই পৌরসভার করিম মার্কেটের ছাদে এক ছেলে সহপাঠীর সঙ্গে দেখা করতে যায় স্থানীয় মিরসরাই লতিফিয়া কামিল মাদ্রাসার নবম শ্রেণির এক ছাত্রী। এ সময় ওই সহপাঠীকে মারধর করে তাড়িয়ে দেয় স্থানীয় মিরসরাই বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র মো. আরিফ ও তার বন্ধু ইনসাফ ডায়াগনস্টিক সেন্টারের কর্মচারী পারভেজ আলম মাহি। পরে ওই ছাত্রীকে তারা দুই বন্ধু নানা ভয়ভীতি দেখিয়ে মার্কেটের ছাদে নিয়ে পালাক্রমে ধর্ষণ করে।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মিরসরাই থানার পরিদর্শক (তদন্ত) বিপুল চন্দ্র দেবনাথ জানান, আটকের পর আরিফ ও মাহিকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। আজ (বৃহস্পতিবার) তাদের আদালতে প্রেরণ করা হবে। ধর্ষণের শিকার কিশোরীর স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্যে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে।
ঈশ^রদীতে স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণের চেষ্টা : ঈশ^রদীতে পঞ্চম শ্রেণির এক স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ পাওয়া গেছে। গতকাল বুধবার সকাল সাড়ে ৯টায় ঈশ^রদীর চরসাহাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাশে একটি ব্যাচেলর ভাড়া বাড়িতে এই ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে পাঁচজনকে আটকের পর ছেড়ে দিয়েছে পুলিশ।
চরসাহাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মাসুদুল হক জানান, প্রতিদিনের মতো বুধবার সকালে পঞ্চম শ্রেণির ওই ছাত্রী স্কুলের আসছিল। সে সময় স্কুলের পার্শ্ববর্তী একটি বন্ধ ধান-চাতালে মেস করে থাকা একজন শ্রমিক ওই স্কুলছাত্রীকে মুখ চেপে জাপটে ধরে মেসে নিয়ে ধর্ষণের চেষ্টা করে। সে সময় ওই ছাত্রীর চিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে ছাত্রীটিকে ছেড়ে দিয়ে ওই শ্রমিক পালিয়ে যায়। সে সময় উত্তেজিত জনতা ওই মেসে থাকা অন্য পাঁচ শ্রমিককে গণপিটুনি দিয়ে পুলিশে খবর দেয়। খবর পেয়ে ঈশ্বরদী থানা পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে পাঁচ শ্রমিককে আটক করে থানায় নিয়ে যায়। এ ঘটনা জানাজানি হলে হাজার হাজার মানুষ বাড়ির সামনে ভিড় করে এবং এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
ঈশ্বরদী থানার ওসি বাহাউদ্দিন ফারুকী জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পাঁচ শ্রমিককে থানায় নিয়ে আসা হয়েছিল। প্রকৃত অপরাধী শনাক্ত করতে ওই স্কুলছাত্রীকে থানায় নিয়ে আসা হলেও সে জানায় আটকরা জড়িত নয়। পরে তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়। তবে প্রকৃত অপরাধীকে গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলেও জানান ওসি।
মেয়ের সহপাঠীকে ধর্ষণচেষ্টা মুদি দোকানির : সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া পশ্চিমপাড়া মহলালায় মেয়ের সহপাঠী শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মুদি দোকানি সোলেমান হোসেনকে (৫২) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
উল্লাপাড়া মডেল থানার এসআই আসলাম উদ্দিন বিশ^াস জানান, সোমবার বিকেলে সোলেমানের দ্বিতীয় শ্রেণিতে পড়–য়া মেয়ের কাছে পাশের বাড়ির তার এক সহপাঠী বান্ধবী খেলতে যায়। সোলেমান এ সময় তার মেয়েকে বান্ধবীর জন্য বিস্কুট কিনতে দোকানে পাঠায়। এরপর মেয়ের বান্ধবীকে ঘরে ডেকে নিয়ে ধর্ষণের চেষ্টা করে।
ডেমরায় কলেজছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে তরুণ গ্রেপ্তার : রাজধানীর ডেমরায় কলেজছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে নাঈম শিকার (২০) নামে এক তরুণকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার রাতে ওই ছাত্রীর বাবা নাঈমের বিরুদ্ধে মামলা করার পর বুধবার ভোররাতে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গতকাল আদালতে পাঠানোর পর তাকে জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নাঈম শিকদার ডেমরার ছোট পাইটি ওয়াসা রোড এলাকার কামাল শিকদারের ছেলে। ধর্ষণের শিকার ওই ছাত্রীকে ঢাকা মেডিকেল কলেজের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে (ওসিসি) ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য ভর্তি করা হয়েছে। ডেমরা থানা পুলিশ কলেজছাত্রীকে ধর্ষণ ও ওই তরুণকে গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
ডেমরা থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. সেলিম দেশ রূপান্তরকে বলেন, ডেমরা বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের অনার্স চতুর্থ বর্ষে পড়েন ওই ছাত্রী। গত তিন বছর ধরে নাঈম তার সঙ্গে প্রেমের অভিনয় করে আসছিল। গত ৩১ আগস্ট মোবাইল ফোনে ছাত্রীকে নিজের বাড়িতে ডেকে নেয়। ওই সময় তার বাড়িতে কোনো লোকজন ছিল না। ছাত্রী বাড়ি থেকে চলে যেতে চাইলে নাঈম শিকদার তাকে আটকে রাখে এবং ধর্ষণ করে। পরে ওই ছাত্রী বাসায় ফিরে পরিবারের কাছে বিষয়টি জানায়। ছাত্রীর বাবা বাদী হয়ে নাঈম শিকদারের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করার পর তাকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে।
ফতুল্লার কিশোরী ধর্ষণ মামলার দুই আসামি গ্রেপ্তার : নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার আলোচিত কিশোরী দলবেঁধে ধর্ষণ মামলার দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব। গতকাল বুধবার ভোরে টাঙ্গাইল জেলার কালিহাতী উপজেলার এলেঙ্গা থানা এলাকা থেকে র্যাব তাদের গ্রেপ্তার করে। দুপুরে সিদ্ধিরগঞ্জে র্যাবের সদর দপ্তরে সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন অধিনায়ক লে. কর্নেল কাজি শমসের উদ্দিন।
ধৃতরা হলোÑ ফতুল্লার ধাপাইদ্দাদপুর এলাকার মৃত এম এ সামাদের ছেলে আব্দুল কাদের শান্ত (১৯) ও মৃত মিজানের ছেলে আবু বক্কর সিদ্দিক শুভ (২৩)।
গত ২৮ আগস্ট রাতে বাড়ির পাশে মুদি দোকান থেকে সরিষার তেল কিনে ফেরার পথে পূর্ব পরিচিত রাজন ১৫ বছরের ওই কিশোরীকে জোর করে ধরে রেলস্টেশন জোড়াপোল বালুর মাঠের নির্জন এলাকায় সহযোগীদের নিয়ে পালাক্রমে ধর্ষণ করে।
