রাজধানীসহ সারা দেশে গত কয়েক সপ্তাহের তুলনায় কমেছে ডেঙ্গু রোগী। গত দুই-তিন দিন ধরে পুরান ঢাকার স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ (মিটফোর্ড) হাসপাতালেও রোগীর সংখ্যা তুলনামূলক কম। তবে এখনো হাসপাতালটিতে প্রতিদিনই ডেঙ্গু পরীক্ষা করতে আসছেন ৮০০-৯০০ জন, যাদের ১৫ থেকে ২০ শতাংশের ডেঙ্গু ধরা পড়ছে বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা। তারা আরও জানান, ডেঙ্গু সংকট নিরসনে সারা বছরই বিশেষ সেল চালু থাকবে হাসপাতালটিতে।
গতকাল বুধবার সকালে মিটফোর্ড হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়, পরীক্ষার রিপোর্ট নিতে দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে রোগী ও স্বজনদের। বহির্বিভাগের টিকিট কেন্দ্রেও চাপ। পরিস্থিতি মোকাবিলায় সকাল ১০টার পরিবর্তে ৮টা থেকেই বিভিন্ন পরীক্ষার রিপোর্ট দেওয়া হচ্ছে।
রিপোর্ট নিতে আসা একাধিক রোগী ও স্বজন অভিযোগ করেন, মিটফোর্ড হাসপাতালের আশপাশ ক্লিনিকের দালাল ও হাসপাতালের প্যাথলজিস্টরা ডেঙ্গু আক্রান্তদের বিভিন্ন অজুহাত দেখিয়ে পার্শ্ববর্তী ক্লিনিকগুলোতে পাঠিয়ে দেয়। ফলে বাড়তি টাকা গুনতে হচ্ছে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের।
হাসপাতালের জরুরি বিভাগে কর্তব্যরত চিকিৎসক মিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘প্রতিদিন জ¦রে আক্রান্ত হয়ে অসংখ্য রোগী আসছে। সব রোগীকে ভর্তি করার প্রয়োজন নেই। বেশিরভাগ রোগী জ¦রে আক্রান্ত হলেই হাসপাতালে ছুটে আসছেন। তবে যাদের অবস্থা সংকটাপন্ন, শুধু তাদেরই ভর্তি করা হচ্ছে।’
নাম প্রকাশ না করার শর্তে প্যাথলজি বিভাগের এক কর্মচারী দেশ রূপান্তরকে জানান, রোগীর চাপ কিছুটা কমলেও এখনো প্রতিদিন ৮০০-৯০০ জন ডেঙ্গু পরীক্ষা করতে আসছে। পরীক্ষায় শতকরা ১৫ থেকে ২০ জনের ডেঙ্গু
ধরা পড়ছে। এদিকে হাসপাতালের মেডিসিন ওয়ার্ডে এখনো তিন শতাধিক ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী রয়েছে। অতিরিক্ত রোগীর জন্য হাসপাতালের বারান্দায় আলাদা বিছানার ব্যবস্থা করা হয়েছে। চিকিৎসা নেওয়া রোগীর মধ্যে শিশু ও নারীর সংখ্যা বেশি। হাসপাতালের শিশু বিভাগে গিয়ে দেখা যায়, সেখানে রোগী বেড়ে যাওয়ায় ওয়ার্ডের বিছানা, মেঝে ও বাইরের বারান্দায় রোগী রাখা হয়েছে। একই অবস্থা মেডিসিন বিভাগের পুরুষ ও মহিলা ওয়ার্ডে।
হাসপাতালের তথ্য সেন্টারের এক কর্মকর্তা দেশ রূপান্তরকে জানান, ডেঙ্গু রোগীদের জন্য মেডিসিন বিভাগে রয়েছে বিশেষ ওয়ার্ড। এখানেই রাখা হয় আক্রান্ত রোগীদের। তাছাড়া এখনো সব ওয়ার্ডেই ডেঙ্গু রোগী রয়েছে।
মেডিসিন বিভাগের মহিলা ওয়ার্ডে কর্তব্যরত এক নার্স জানান, আগের মতো ডেঙ্গু রোগীর চাপ নেই। আগে যেখানে এই ওয়ার্ডে ৩০ থেকে ৪০ জন ভর্তি হতো, এখন এটা অর্ধেক নেমে এসেছে। ওই ওয়ার্ডে এক সপ্তাহ ধরে চিকিৎসা নেওয়া আফরোজা জানান, তার রক্তের প্লাটিলেট কমে গিয়েছিল। এক সপ্তাহ ধরে চিকিৎসা নিচ্ছেন। এখন কিছুটা সুস্থ হলেও আতঙ্ক কাটেনি।
গতকাল হাসপাতালে ভর্তি হয় রাফিয়া আক্তার (৬), যার রক্তের প্লাটিলেট কমে ৩০ হাজারে নেমে এসেছে। বাবা বাহাউদ্দিন জানান, রাফিয়াকে প্রথমে যাত্রাবাড়ীর একটি ক্লিনিকে ভর্তি করান। সেখানে তিন দিন ভর্তি থাকার পর অবস্থা খারাপ দেখে দ্রুত মিটফোর্ডে নিয়ে এলে চিকিৎসক ভর্তির পরামর্শ দেন।
মিটফোর্ড হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ডা. মোরশেদ রশিদ বলেন, ‘ডেঙ্গু রোগীদের উন্নত চিকিৎসা দিতে হাসপাতালের তিনটি ভবনে তিনটি সেল খোলা হয়। এর মধ্যে একটি করে শিশু ওয়ার্ড, নারী ওয়ার্ড ও পুরুষ ওয়ার্ড রয়েছে। তবে আগের তুলনায় রোগীর সংখ্যা অনেক কম। যেখানে ৫০০ থেকে ৬০০ রোগী ভর্তি থাকত, এখন কমে তা অর্ধেকে নেমে এসেছে। তবে আমরা ডেঙ্গু সেলকে সবসময়ের জন্য চালু রাখতে চাই, যাতে নতুন করে ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীদের কোনো ভোগান্তিতে না পড়তে হয়।’
