সোনাগাজী উপজেলার মতিগঞ্জ ইউপির এম. হাট কে উচ্চ বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির ছাত্রীর বাল্য বিবাহ ঠেকালেন প্রধান শিক্ষক মিজানুর রহমান।
জানা গেছে , ওই বিদ্যালয়ের মেধাবী ছাত্রী ফারিয়া আক্তার গত কিছু দিন ধরে শ্রেণিকক্ষে লেখাপড়ায় অমনোযোগী হয়ে যায়। বৃহস্পতিবার সহপাঠীরা প্রশ্ন করলে ফারিয়া জানায়, তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে বাবা মা বিয়ে ঠিক করে ফেলেছে, সে পড়াশোনা করতে চায়, এ বিয়েতে সে রাজি নয়।
এসব জানার পর সহপাঠীরা তাকে প্রধান শিক্ষক মিজানুর রহমানের কাছে নিয়ে যান। ওই সময় ফারিয়া পড়ালেখা চালিয়ে যাওয়ার আকুতি জানিয়ে প্রধান শিক্ষককে বিয়ে ঠেকানোর অনুরোধ জানান।
প্রধান শিক্ষক মিজানুর রহমান জানান, ছাত্রীর আকুতি শুনে তিনি তার বাবাকে ফোন করে বিদ্যালয়ে আসতে বলেন। তার বাবা মা বিদ্যালয়ে এসে ইউনিয়ন পরিষদ থেকে ফারিয়ার বয়স বাড়ানো জন্মনিবন্ধন সনদ দেখিয়ে বিয়ে দেওয়ার পক্ষে অনড় থাকেন।
এসময় বিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার অনুযায়ী ফারিয়ার বয়স দেখিয়ে তাদের দীর্ঘ সময় কাউন্সিলিং করেন। এক পর্যায়ে প্রধান শিক্ষক ফারিয়ার বাবা মাকে বুঝাতে সক্ষম হন। পরে তারা ফারিয়াকে বাল্যবিবাহ না দেওয়ার অঙ্গীকার করেন।
এ বিষয়ে ফারিয়া বলেন, আমি পড়াশোনা করে এগিয়ে যেতে চাই, এই বিয়ে বন্ধ করায় আমি স্যারের কাছে কৃতজ্ঞ।
বাল্যবিয়ে বন্ধের বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী অফিসার সোহেল পারভেজকে মোবাইল ফোনে অবহিত করলে তিনি প্রধান শিক্ষককে ধন্যবাদ জানান এবং ছাত্রীর সুরক্ষা ও পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার বিষয়ে সহযোগিতা করার আশ্বাস দেন।
প্রসঙ্গত, গত ৩ সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার ছাত্রীর বাবা জাহেদ আলম একই উপজেলার স্বরাজপুর গ্রামের প্রবাসী ছেলের সাথে আকদ সম্পন্ন করে বিয়ের দিন তারিখ ঠিক করেন এবং ফারিয়াকে আর বিদ্যালয়ে যেতে হবে না বলেও জানিয়ে দেন।
