কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলার উপকূলীয় মগনামা ইউনিয়নে জরাজীর্ণ বেড়িবাঁধ উপচে জোয়ারের পানিতে বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হচ্ছে। এ কারণে জনবসতি ছাড়াও লবণমাঠ ও চিংড়ি উৎপাদন ক্ষেত্র ঝুঁকিতে পড়েছে। জরাজীর্ণ বেড়িবাঁধের কারণে আতঙ্কে রয়েছে ইউনিয়নের প্রায় ১০ হাজার মানুষ।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, বেড়িবাঁধ পূর্ণাঙ্গ সংস্কার না করায় তারা ভোগান্তিতে পড়েছে। বর্তমানে বেড়িবাঁধের অবস্থা এতটাই শোচনীয় যে মানুষ এর ওপর দিয়ে হেঁটে যেতেও ভয় পায়।
গত ২ সেপ্টেম্বর সরেজমিন দেখা গেছে, ইউনিয়নের মগনামা লঞ্চঘাট থেকে শরতঘোনা পর্যন্ত প্রায় দুই কিলোমিটার জরাজীর্ণ বেড়িবাঁধ উপচে সমুদ্রের জোয়ারের পানি লোকালয়ে ঢুকছে। জোয়ারের পানির ঝাপটায় ক্রমশ ভাঙছে বেড়িবাঁধ। ভাঙনের কবলে পড়ে কোথাও কোথাও মাত্র এক থেকে দেড় ফুট উচু বাঁধ অবশিষ্ট রয়েছে। এতে আতঙ্কে দিন কাটছে এলাকার মানুষের।
স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা বলছেন, বর্তমানে যেটুকু বাঁধ অবশিষ্ট রয়েছে, তা খুব কম সময়ে বিলীন হয়ে যেতে পারে। দুদিন ধরে জোয়ারের পানি বেড়িবাঁধ উপচে লোকালয়ে ঢুকে ইউনিয়নের বাজারপাড়া, বহদ্দারপাড়া, শরতঘোনা ও উত্তরপাড়ার নিচু এলাকা প্লাবিত হয়েছে। এসব এলাকার বেশ কয়েকটি চিংড়িঘের জোয়ারের পানিতে তলিয়ে গেছে।
স্থানীয় লোকজনের দাবি, সরকারি কার্যাদেশ পেয়ে ২০১৭ সালের জুলাই মাসে মগনামা ইউনিয়নের ৮ কিলোমিটার বাঁধ সংস্কারকাজ শুরু করে উন্নয়ন ইন্টারন্যাশনাল নামের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। কিš‘ প্রতিষ্ঠানটি দুই বছরের নির্দিষ্ট সময়ে (২০১৯ সালে জুন মাস) ছয় কিলোমিটার সংস্কারকাজ সম্পন্ন করলেও সম্পূর্ণ অরক্ষিত অবস্থায় রেখে দেয় দুই কিলোমিটার বাঁধ। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটির এমন অবহেলায় প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে প্রায় শতকোটি টাকার সরকারি এ প্রকল্প।
স্থানীয় বাসিন্দা আবদুল করিম অভিযোগ করেন, ‘বাঁধটির সংস্কারকাজ দ্রুত শেষ করতে আমরা সংশ্লিষ্টদের তাগিদ দিয়ে আসছিলাম। কিš‘ ঠিকাদারের ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির কারণে অত্যন্ত ধীরগতিতে সংস্কারকাজ হয়েছে। তাই কার্যাদেশের মেয়াদ শেষ হয়ে গেলেও সংস্কারকাজ শেষ হয়নি।’
মগনামা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শরাফত উল্লাহ ওয়াসিম বলেন, ঘূর্ণিঝড় রোয়ানু ও আইলার আঘাত এখনো সামলে উঠতে পারেনি মগনামার মানুষ। বেড়িবাঁধ ভেঙে ২০১৫ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত মগনামা ইউনিয়ন অন্তত ১০ বার প্লাবিত হয়েছে। এখনো ক্ষতিগ্রস্ত অবস্থায় রয়েছে গ্রামীণ অবকাঠামো। দুর্যোগের পর সরকার ইউনিয়নে অন্তত ৮ কোটি টাকার উন্নয়নকাজ করেছে। এখন ভাঙা বেড়িবাঁধ দিয়ে পানি ঢুকলে এসব উন্নয়নকাজ ভেস্তে যাওয়ার পাশাপাশি কোটি কোটি টাকার ক্ষতি হবে এলাকাবাসীর। তিনি বলেন, এই ইউনিয়নে ৩০ হাজার মানুষের বাস। বাঁধের এই অরক্ষিত অংশ নিয়ে মগনামাবাসীর মধ্যে এখন আতঙ্ক বিরাজ করছে।
ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান উন্নয়ন ইন্টারন্যাশনালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ আতিকুল ইসলাম জানান, তারা ৮ কিলোমিটারের মধ্যে ৬ কিলোমিটারের কাজ শেষ করেছেন। বাকি ২ কিলোমিটারের কাজ চলতি বর্ষা মৌসুমের পর শুরু করবেন। তিনি দাবি করেন, তারা বেড়িবাঁধের কাজে কোনো অনিয়ম-দুর্নীতি করেননি।
জানতে চাইলে পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রাকিবুল হাসান বলেন, মগনামা ইউনিয়নের বেড়িবাঁধ অধিকাংশ সংস্কার করা হয়ে গেছে। তবে বেড়িবাঁধের সামান্য কিছু অংশ এখনো সংস্কার করা হয়নি। এটি জরুরি ভিত্তিতে সংস্কারের জন্য ঠিকাদারকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
