আন্দোলনকারীকে পেটাল ছাত্রলীগ ভেস্তে গেল আলোচনা

আপডেট : ০৮ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ০১:৫৪ এএম

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) দুর্নীতির বিরুদ্ধে চলমান আন্দোলনের এক নেতাকে ছাত্রলীগ নেতা মারধর করায় ভেস্তে গেছে প্রশাসনের সঙ্গে আন্দোলনকারীদের নির্ধারিত আলোচনা। জাহাঙ্গীরনগর থিয়েটারের সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম সাইমুম জানান, বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক অভিষেক মণ্ডল তাকে দোকানে মারধর করেন। অন্যদিকে অভিষেকের দাবি, সাইমুমের ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণের কারণে এমনটি হয়েছে। গতকাল শনিবার সকাল পৌনে ১০টার কিছু আগে এ ঘটনা ঘটে। গতকাল সকাল ১০টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন রেজিস্ট্রার ভবনে প্রশাসনের সঙ্গে আন্দোলনকারীদের বৈঠক হওয়ার কথা ছিল। এর আগে মারধর করা ছাত্রলীগ নেতাকে হল থেকে বিতাড়ন ও আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিতে আলোচনা বর্জন করে তাৎক্ষণিক মিছিল করেন আন্দোলনকারী শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। বিচার না পেলে প্রশাসনের সঙ্গে কোনো আলোচনা হবে না বলে জানিয়ে দিয়েছেন তারা। এ বিষয়ে তাৎক্ষণিক জরুরি বৈঠকে বসে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। তাদের সিদ্ধান্ত, ওই ছাত্রলীগ নেতার বিরুদ্ধে মামলা করা হবে।
মারধরের শিকার নুরুল ইসলাম সাইমুম বলেন, ‘আমি সকালের নাশতা করতে দোকানে গেলে আমার মোবাইলে একটা জরুরি কল আসে। রিসিভ করে কথা বলতে থাকি। কিন্তু পাশে বসে থাকা অভিষেক হঠাৎ আমার ওপর চড়াও হন। আমার পরিচয় জিজ্ঞেস করেন। আমি নিজের পরিচয় দিই। এ সময় জাহাঙ্গীরনগর থিয়েটারের সাধারণ সম্পাদক বলার সঙ্গেই তিনি আমাকে মারধর করা শুরু করেন। সঙ্গে থাকা তার বন্ধু আমার হাত চেপে ধরে। আর অভিষেক দোকানে থাকা কাঠ দিয়ে আমাকে মারধর করতে থাকেন।’ মারধরের বিচার চেয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন বলেও জানান সাইমুম। ছাত্রলীগ নেতা অভিষেক মণ্ডল বলেন, ‘ঘটনার সঙ্গে আন্দোলনের কোনো সম্পর্ক নেই। সে আন্দোলনকারী কি না, সেটাও জানতাম না আমি। সকালে আমি এবং আমার বন্ধু দোকানে নাশতা করতে যাই। সাইমুম আমাদের টেবিলে বসে। কিন্তু সে উচ্চ স্বরে কথা বলতে থাকে এবং দোকানের বাচ্চাদের সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করা শুরু করে। আমি তখন তাকে অন্য টেবিলে গিয়ে বসতে বলি। কিন্তু সেটা না করে উল্টো আমার সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করা শুরু করে। আমিও আহত হয়েছি। তার উদ্ধত আচরণের কারণেই এমনটা ঘটেছে।’ মারধরের বিচার না হওয়া পর্যন্ত প্রশাসনের সঙ্গে কোনো আলোচনা হবে না জানিয়ে জাহাঙ্গীরনগর সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি আশিকুর রহমান বলেন, ‘একদিকে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন আমাদের আলোচনার আহ্বান করছে, অন্যদিকে সরকারদলীয় ছাত্রনেতার হাতে আমাদের কর্মী মারধরের শিকার হচ্ছেন। আলোচনা ও মারধর একসঙ্গে চলতে পারে না। আমরা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে জানিয়েছি, মারধরকারী ছাত্রলীগ নেতার যেহেতু ছাত্রত্ব নেই। তাই তাকে আগে হল থেকে বের করে দিতে হবে এবং আইনি ব্যবস্থা নিতে হবে। তারপর আমরা আলোচনায় বসব।’
বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর আ স ম ফিরোজ উল হাসান বলেন, ‘অভিযুক্ত যেহেতু সাবেক শিক্ষার্থী, তাই প্রশাসন মামলার প্রস্তুতি নিয়েছে। প্রক্টরিয়াল টিম রিপোর্ট দিয়ে দিয়েছে। আজ (গতকাল) তো আর আলোচনা হলো না। হয়তো কাল-পরশু ফের আলোচনার উদ্যোগ নেওয়া হবে।’ শাখা ছাত্রলীগ সভাপতি জুয়েল রানা বলেন, ‘আন্দোলনকারীদের ব্যাপারে ছাত্রলীগ এমন মনোভাব পোষণ করে না। এটা ব্যক্তি পর্যায়ের একটা বিচ্ছিন্ন ঘটনা। এর সঙ্গে সংগঠনের কোনো যোগ নেই।’
বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য নির্ধারিত প্রকল্পের টাকা থেকে নির্মাণকাজ বাধাহীনভাবে সম্পন্ন করতে শাখা ছাত্রলীগ ও কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগকে উপাচার্য অধ্যাপক ফারজানা ইসলাম দুই কোটি টাকা ভাগ-বাটোয়ারা করে দিয়েছেন বলে সম্প্রতি খবর প্রকাশিত হয়।

 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত