বিশ্ববিদ্যালয়ের মান বাড়াতে হলে তার বর্তমান মানের অবস্থা আর এখানে গবেষণা ও অন্যান্য সুযোগ সুবিধা কেমন আছে সেগুলো বিবেচনা করতে হবে। এগুলোর ওপর নির্ভর করবে কেমন মানের প্রার্থীরা শিক্ষক হওয়ার জন্য আবেদন করবেন। সেখান থেকে আস্তে আস্তে পরিকল্পনামাফিক এবার ওপরে তুলতে হবে। পৃথিবীর কোনো দেশের সব বিশ্ববিদ্যালয় একই মানের না। আমাদের দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর কোনো এক বিভাগের ফলাফল কি অভিন্ন মানের হয়? একই বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনুষদে এমনকি একই বিভাগে বিভিন্ন বছরে সিজিপিএ ভিন্ন হয়। এই ভিন্নতাকে স্বীকার করে বলেই পৃথিবীর কোথাও শিক্ষক নিয়োগের বিজ্ঞাপনে কখনো কোনো জিপিএ বা সিজিপিএ উল্লেখই থাকে না। এটা পুরোপুরি ছেড়ে দেওয়া হয় নিয়োগ বোর্ডের ওপর। তারা নানা প্যারামিটার ধরে বিচার-বিশ্লেষণ করে প্রার্থী বাছাই করবে। যখন অভিন্ন নিয়োগ ও পদোন্নতিমালার কথাটি আসে তখন আমার কাছে সোজাসাপ্টা অর্থ হলো গড়পড়তা একটি মান। এটা উচ্চ শিক্ষা অর্থাৎ বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের সঙ্গে সংগতিপূর্ণ নয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের মানের উন্নতি ঘটাতে চাইলে তার শিক্ষক নিয়োগ ও প্রমোশন নীতিমালা ধীরে ধীরে শিথিল না করে বরং কঠিন করতে হবে । বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন যে অভিন্ন নীতিমালা প্রণয়ন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে তা এই ক্ষেত্রে প্রচন্ড বাধা সৃষ্টি করবে। কারণ নিয়োগ ও প্রমোশন নীতিমালা কোনো ধ্রুব বিষয় না। এটা সময়ের সঙ্গে নিয়ত পরিবর্তনশীল হওয়া উচিত।
গত কয়েকদিন যাবৎ বিশ্বের কয়েকটি নামিদামি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক নিয়োগের শর্তাবলি দেখছিলাম আর আশ্চর্য হচ্ছিলাম। আমাদের নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি আর নিয়োগের শর্তাবলি তাদের থেকে কত ভিন্ন। বিশ্বের বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এত ভিন্ন হওয়া সত্ত্বেও আমরা সেগুলোকে অভিন্ন নীতিমালা বলছি। ইউনিভার্সিটি অফ ক্যালিফোর্নিয়া লসএঞ্জেলেস সংক্ষেপে যাকে UCLA বলে, সেই বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞানের বিজ্ঞাপনে কী কী শর্তাবলি আছে একটু আলোকপাত করি। প্রথম কথা হলো এই বিজ্ঞাপনের কোথাও প্রার্থীর জাতীয়তা, ধর্ম ইত্যাদি পরিচয় জানতে চায়নি, কারণ এটি যে বিশ্ববিদ্যালয়। দ্বিতীয়ত এই বিজ্ঞাপনটি দেওয়া হয়েছে মার্কিন ফিজিক্যাল সোসাইটি কর্র্তৃক প্রকাশিত পদার্থবিজ্ঞানের একটি নামিদামি সাময়িকী ‘ফিজিক্স টুডে’-তে। এটি সারা বিশ্বে বহুল প্রচারিত একটি সাময়িকী। তৃতীয় আরেকটি পার্থক্য হলো এই বিজ্ঞাপনজুড়ে কোথাও এসএসসি, এইচএসসি, বিএস, এমএস পরীক্ষার ফলাফল জানতে চায়নি। আর জিপিএর থ্রেশোল্ড উল্লেখের তো প্রশ্নই নেই। কারণ এটি একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি।
দেশের বাইরে আজ পর্যন্ত যতবার পড়তে বা গবেষণা করতে গিয়েছি কেউ আমার এসএসসি আর এইচএসসির রেজাল্ট জানতে চায়নি। এমনকি আমি যখন ইতালির ত্রিয়েস্তে শহরে আব্দুস সালাম ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার ফর থিওরিটিক্যাল ফিজিক্সে ডিপ্লোমা স্কলারশিপের জন্য দরখাস্ত করি তারাও আমার এসএসসি আর এইচএসসির রেজাল্ট জানতে চায়নি। আর পরবর্তী পিএইচডি কিংবা পোস্ট-ডকের জন্য স্কলারশিপ কিংবা ফেলোশিপের জন্য দরখাস্ত করার সময় তো স্বাভাবিক কারণেই না। আর আমাদের দেশে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রভাষক হওয়ার জন্য শুধু না, এরপরও প্রতিটি প্রমোশনের জন্য দরখাস্ত করার সময় বাধ্যতামূলকভাবে এসএসসি আর এইচএসসির রেজাল্ট ও সার্টিফিকেট দিতে হয়। বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে প্রভাষক বা সহকারী অধ্যাপক শুধু না অধ্যাপক পদে নিয়োগের জন্য দরখাস্ত করার সময়ও এইসব ফলাফল দেখতে চাওয়ার চেয়ে ridiculous বা হাস্যাস্পদ কিছু আর হয় না। যে ছাত্র বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষার জন্য দরখাস্ত করে তার এসএসসি ও এইচএসসি মোট জিপিএ ৮ বা তার অধিক থাকে এবং সেই রেজাল্ট দেখিয়েই বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়। সুতরাং কেউ জিপিএ ৯ এর নিচে পেয়েও বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হতে পারে। আর আমরা শিক্ষক নিয়োগের সময় ন্যূনতম যোগ্যতা উল্লেখ করি উভয়টিতে ন্যূনতম ৪.৫ এবং মোট ৯! এর অর্থ জিপিএ ৯ এর নিচে পেয়ে যে ছাত্রটি ভর্তি হলো সে ক্লাসের সেরা ছাত্র হয়ে এমআইটি বা হার্ভার্ডে পিএইচডি করে পোস্ট-ডক্টরাল করে বিশ্বসেরা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হতে পারবে, কিন্তু বাংলাদেশের কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ে সে দরখাস্তই করতে পারবে না। এমন নিয়ম করা মানে বিশ্ববিদ্যালয় ক্লাস শুরু করার প্রথম দিনই জিপিএ ৯ এর কম পাওয়া ছাত্রের স্বপ্নকে হত্যা করা। এই হলো অভিন্ন নীতিমালার একটি নীতি। আমাদের দেশে এসএসসি আর এইচএসসিতে যদি একবার ভালো ছাত্রের সিল কপালে লেগে যায় সেটা আর কোনোদিনও যায় না। একজন ছাত্র এসএসসি এইচএসসিতে ভালো করে বিএস, এমএসেও ভালো করতে পারে এবং পরবর্তী সময়ে সুপার ফ্লপ হতে পারে। মানুষকে সব সময় তার immediate past কর্মকান্ড দিয়ে বিচার করতে হয়, ২০ বা ৩০ বছর আগের কর্মকান্ড দিয়ে নয়।
আমাদের মনে রাখতে হবে বিশ্ববিদ্যালয় মানে কী? বিশ্ববিদ্যালয়ের যেকোনো নিয়ম নীতি সৃষ্টির আগে আমাদের দৃষ্টিটা বিশ্বের দিকে অবারিত করে দেখতে হবে, বিশ্বের ভালো মানের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে কেমন নিয়ম আছে। একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের মান কেমন হবে তা সর্বাগ্রে নির্ভর করে ওই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা কেমন? ভালো শিক্ষক আছে অথচ বিশ্ববিদ্যালয়ের মান খারাপ এমন উদাহরণ পাওয়া দুষ্কর। কথা হলো বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে ভালো শিক্ষক মানে কী? এটা বুঝতে না পারলে ষোল আনাই মিছে। সেই জন্যই শিক্ষক নিয়োগ পদ্ধতি বেশ জটিল এবং সময় সাপেক্ষ। সাধারণত নিয়োগ প্রক্রিয়াটি কয়েকটি ভাগে ভাগ করে প্রতি ধাপেই স্ক্রিনিং করে শর্ট লিস্ট তৈরি করা হয়। এটা করার জন্য তারা সাধারণত একটি সার্চ কমিটি করে। যে বিষয়ের শিক্ষক নিয়োগ হবে এই সার্চ কমিটিতে কেবল সেই বিষয়ের বিশেষজ্ঞ মানের ভালো শিক্ষক/গবেষক থাকেন। প্রাথমিক বাছাই প্রক্রিয়ায় সাধারণত অন্য বিষয়ের কেউ থাকবেন না। বিশেষ করে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি বা প্রো-ভিসি তো অবশ্যই না। অথচ আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে প্রতি বিভাগে প্রতিটি নিয়োগ ও প্রমোশন বোর্ডে ভিসি অথবা প্রো-ভিসি থাকেন। ভালো মানের শিক্ষক নিয়োগের সবচেয়ে বড় বাধা এটাই। এটা পরিবর্তন না করলে হাজার ভালো নিয়মেও ফল শূন্যের কাছাকাছি হবে। অভিন্ন নীতিমালা করতে হলে এটা হতে পারত একটি নীতি যে শিক্ষক নিয়োগের নিয়োগ বোর্ডে কোনো ভিসি অথবা প্রো-ভিসি থাকবেন না। আমাদের এখানে কী হয়? প্রতি বিভাগের সব শিক্ষক নিয়োগ বা পদোন্নতি বোর্ডে ভিসি বা প্রো-ভিসি তো অবশ্যই থাকেন। আবার তারাই সিন্ডিকেটে তাদের সুপারিশ করা শিক্ষকদের চূড়ান্ত নিয়োগের অনুমোদন দেন।
আমাদের আরেকটি সমস্যা হলো আমরা জানি না ঠিক আমাদের কতজন যোগ্য শিক্ষক আছে এবং তাদের দিয়ে মানসম্পন্ন সর্বোচ্চ কতটি বিশ্ববিদ্যালয় বানানো যায়। আমাদের দেশে ১০-১২টি ভালো মানের বিশ্ববিদ্যালয় বানানোর মতো শিক্ষক আছেন। কিন্তু আমরা প্রায় ৫০টি পাবলিক আর প্রায় ১০০টি প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় ইতিমধ্যেই বানিয়ে ফেলেছি। এই বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষক জোগান দিতে গিয়ে যাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হওয়ার কথা না এমন অনেককে শিক্ষক বানিয়ে ফেলা হয়েছে। এই অশিক্ষকদের আচরণ দেখে সমাজে শিক্ষকদের অবস্থান দিন দিন নেমে যাচ্ছে। যার প্রভাব শিক্ষার্থীদের মধ্যেও পড়ছে। শিক্ষক নিয়ে কথা বলতে গিয়ে কেউ এখন আর মুখে লাগাম টানেন না। এর জন্য দায়ী আমরা এবং সরকার উভয়েই। আমরা যদি কেবল তাদের শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ দিতে পারতাম যারা শিক্ষকতাকে কেবলই একটি পেশা না বরং জ্ঞান সৃষ্টি এবং বিলানোর মাঝে আনন্দ খুঁজে পান তাহলে সমাজে শিক্ষকদের সম্পর্কে আজকের খারাপ পার্সপেক্টিভ তৈরি হতো না। সরকারের দায়িত্ব হলো একজন যোগ্য মানুষকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকের আসনে বসানোর পরিবেশ তৈরি করে গবেষণার সুযোগ-সুবিধাসহ সমাজে তাকে সুস্থ-স্বাভাবিক জীবনযাপনের আর্থিক ব্যবস্থা আর সামাজিক অবস্থান নিশ্চিত করা। আর দেশকে দেওয়ার দায়িত্ব ছিল শিক্ষকদের। সেখান থেকে আমরা তো যোজন যোজন দূরে। আমি পারছি না এই ভেবে, দেশ আমাকে কী দিয়েছে? আর দেশ আমাকে নিতান্ত প্রাপ্যটুকু চাইলেই বলে সারা দিনে একটা দুটো ক্লাস নিয়ে রাজনীতি আর পার্টটাইম পড়িয়ে বেড়াও আবার ভালো সম্মান আর সম্মানীর দাবি। আমরা এই বিষাক্ত বৃত্তে আবদ্ধ হয়ে আছি।
বর্তমান বিশ্বে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক নিয়োগে সবচেয়ে গুরুত্ব দিয়ে দেখা হয়Ñ পোস্ট-ডক্টরাল অভিজ্ঞতাকে। আলোচ্য নীতিমালা জুড়ে কোথাও পোস্ট-ডক্টরাল অভিজ্ঞতার উল্লেখ পর্যন্ত নেই। এটি আমার কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মনে হয়েছে। শুধুই কি তাই? পিএইচডি ডিগ্রি ও স্বীকৃত জার্নালে প্রকাশিত গবেষণা প্রবন্ধের মান ও সংখ্যাকেও তেমন গুরুত্ব দেওয়া হয়নি। একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা কেমন হবে তার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নিয়ামক হলো পোস্ট-ডক্টরাল আর পিএইচডি গবেষণা। অথচ বাংলাদেশের কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ে পোস্ট-ডক্টরাল নেই বললেই চলে। প্রাইম মিনিস্টার স্কলারশিপ নামে ফেলোশিপ দিয়ে প্রশাসন ক্যাডারদের বিদেশে না পাঠিয়ে, প্রথমে দেখা উচিত ছিল দেশে মানসম্পন্ন পিএইচডি করাতে পারে এমন সুপারভাইজার আছেন কি না। কিছুটা ঘাটতি থাকলেও ওই শিক্ষককে বিশ্বমানের পোস্ট-ডক্টরাল দিয়ে সেই ঘাটতি পূরণ করা যেত। এতে দেশে কিছু বিদেশি গবেষক আসতেন। তাতে বিশ্ববিদ্যালয় সত্যিকারের বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ পেত। সঙ্গে মানসম্পন্ন গবেষণার ক্ষেত্র তৈরি হতো। এই পোস্ট-ডক্টরালদের দিয়ে বিভাগের কিছু শিক্ষকতার দায়িত্বও দেওয়া যেত। আর পিএইচডি গবেষকদের টিএ হিসেবে নিয়োগ দিয়ে ল্যাব ও ইনকোর্স পরীক্ষার উত্তরপত্র নিরীক্ষকের কাজ করানো যেত। এতে আমরা ছাত্রছাত্রীদের সারা বছর ক্লাস টেস্ট, কুইজ, অ্যাসাইনমেন্ট ইত্যাদি কাজে ব্যস্ত রাখতে পারতাম। বর্তমান অভিন্ন নীতিমালায় পোস্ট-ডক্টরাল নিয়ে একটি শব্দও উচ্চারণ করেনি। অথচ বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের গবেষণার জন্য এই পোস্ট-ডক্টরালরাই হলেন প্রাণ। আমাদের দেশের পরিপ্রেক্ষিতে বলা যেতে পারত, যার দুই বা ততোধিক পোস্ট-ডক্টরাল অভিজ্ঞতা আছে এবং ভালো মানের গবেষণা প্রকাশনা আছে তাকে সরাসরি সহযোগী অধ্যাপক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হবে। আর যার পিএইচডি আছে তাকে সরাসরি সহকারী অধ্যাপক হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার একটি অভিন্ন গাইডলাইন দেওয়া যেতে পারত। তাতে আমাদের ছাত্রছাত্রীরা যারা বিদেশে পিএইচডি ও পোস্ট-ডক্টরাল করেছে তারা দলেবলে ফিরে আসত এবং তাতে আমাদের শিক্ষক স্বল্পতার একটি সুরাহার পথ তৈরি হতো।
অভিন্ন নীতির মধ্যে নাকি আরেকটি জিনিস ঢোকানোর চেষ্টা হয়েছে। শিক্ষকদের সপ্তাহে ৪০ কর্মঘণ্টার (সপ্তাহে ৫ দিন ৮ ঘণ্টা করে) বিধানটি যথাযথ কার্যকর করার ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে। এর মাঝে আবার ১ ঘণ্টার লাঞ্চ বিরতি। কর্মচারী কর্মকর্তাদের দিনপঞ্জি আমাদের ওপর চাপিয়ে দিলে আমরা তো আর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক থাকব না। এতে স্পষ্ট যে এটা প্রশাসনের ইচ্ছের প্রতিফলন ঘটেছে। তাদের জন্য যা প্রযোজ্য তা এবার শিক্ষকদের ওপর চাপিয়ে দিতে চেয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ে আমাদের এক ঘণ্টা ক্লাস নিলে সেটা কি শুধু এক ঘণ্টার ক্লাসই? এক ঘণ্টার ক্লাসের পেছনে অফিসের বাহিরে বাসায় রাত জেগে ecture note তৈরি ও lecture -এর প্রস্তুতি কি কেউ দেখে? বাসায় বসে প্রশ্নপত্র প্রণয়ন, উত্তরপত্র মূল্যায়ন ইত্যাদি কি উনারা জানে? আমরা তো ILO নির্দেশিত দিনে ৮ ঘণ্টা কাজের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকি না। দিবসে যতক্ষণ জেগে থাকি ততক্ষনই পড়াশুনা বা খাতা দেখা বা প্রশ্নপত্র প্রণয়ন বা থিসিস ছাত্র গাইড বা গবেষণা আর্টিকেল লেখা বা রেফারি রিপোর্ট লেখা বা ক্লাস essence তৈরি করা বা বই লেখা ইত্যাদি কাজে নিয়োজিত থাকি। কিন্তু কষ্ট লাগে আমাদের ইউজিসির চেয়ারম্যান, মেম্বার, ভিসি/প্রো-ভিসিরা তো একসময় শিক্ষক ছিলেন। দুদিনের জন্য প্রশাসনে গিয়ে সারা জীবনের শিক্ষকতার বংংবহপব ভুলে গেলেন?
লেখক
অধ্যাপক, পদার্থবিজ্ঞান বিভাগ,
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
