ঠাকুরগাঁওয়ে গৃহবধূকে আটকে কু-প্রস্তাব ও নগ্ন ছবি ধারণ করে চাঁদাবাজির অভিযোগে অশ্বিনী কুমার বর্মণ (৩২) নামে এক ইউপি সদস্যকে আটক করেছে পুলিশ।
সোমবার দিবাগত রাতে সদর উপজেলার আউলিয়াপুর ইউনিয়নের শাসলাপিয়ালা গ্রাম থেকে তাকে আটক করা হয়।
তিনি আউলিয়াপুর ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য ও মৃত বিজয় কুমার বর্মণের ছেলে।
গৃহবধূর লিখিত অভিযোগের বরাত দিয়ে সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আশিকুর রহমান বলেন, ২০ দিন আগে আউলিয়াপুর ইউনিয়নের নারায়ণ চন্দ্র বর্মণের ছেলে জীবন চন্দ্র বর্মণ (২৬) ওই গৃহবধূকে ভুল বুঝিয়ে শহরের একটি বাড়িতে নিয়ে আসেন। সেখানে একটি ঘরে তাকে আটকে রেখে জীবন ও অশ্বিনী কুমার ধারালো অস্ত্র ঠেকিয়ে পরনের কাপড় খুলে নগ্ন করে ছবি ধারণ করেন এবং গৃহবধূকে শ্লীলতাহানির চেষ্টা করেন। ওই সময় বাড়ি পাহারা দেন একই এলাকার বিলাতু (৪০) ও রাজেন্দ্র (৪০) নামে দুই ব্যক্তি। এ সময় ওই গৃহবধূর চিৎকারে তারা ব্যর্থ হয়।
এই পরিস্থিতি থেকে মুক্তি পেতে ওই গৃহবধূর কাছে এক লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন ইউপি সদস্য। তা নাহলে ইন্টারনেটে অশ্লীল ছবি ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়ে জীবন ও অশ্বিনী মোটরসাইকেলযোগে গৃহবধূকে তার স্বামীর বাড়ির পাশে নামিয়ে দিয়ে আসেন।
গত ২৫ আগস্ট বিকেলে গৃহবধূর স্বামীর অনুপস্থিতিতে তার বাসায় প্রবেশ করে ইউপি সদস্য অশ্বিনী কুমার আবারও তার কাছে অশ্লীল ছবির বিনিময়ে এক লাখ টাকা দাবি করেন। এসময় সেই গৃহবধূ ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে ওই ইউপি সদস্য অশ্বিনী কুমারকে তার স্বামীর গচ্ছিত ২০ হাজার টাকা দিয়ে দেন। এ সময় অশ্বিনী কুমার টাকা হাতে নিয়ে আগামী দুই দিনের মধ্যে বাকি আশি হাজার টাকা না দিলে এবং তার সাথে দৈহিক সম্পর্ক না করলে অশ্লীল ভিডিওগুলো ইন্টারনেটে ছেড়ে দেওয়ার হুমকি দিয়ে চলে যান।
এ ঘটনায় কুল কিনারা না পেয়ে ওই গৃহবধূ সমস্ত ঘটনা তার স্বামীকে জানান। পরে তার স্বামী বিষয়টি এলাকার চেয়ারম্যান-মেম্বারদের জানালে একটি সালিশ বৈঠক হয়। সেখানে অভিযুক্তরা তাদের অপকর্মের কথা স্বীকার করে আবারও হুমকি দেন।
পরে ওই গৃহবধূ চারজনের নাম উল্লেখ করে ৯ সেপ্টেম্বর বিকেলে ঠাকুরগাঁও সদর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দেন।
সদর থানার ওসি আশিকুর রহমান জানান, গৃহবধূর লিখিত অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে অশ্বিনী নামে একজনকে আটক করা হয়েছে। বিষয়টির তদন্ত চলছে।
