রংপুরে স্কুলছাত্র আবদুর রশীদকে কুপিয়ে আহত করার পর চলন্ত বাসের নিচে ফেলে হত্যার ঘটনায় দায়েরকৃত মামলার প্রধান আসামি মোজাফফর হোসেনসহ দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব-১৩।
মঙ্গলবার ভোরে রংপুর কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল সংলগ্ন রংপুর-বদরগঞ্জ সড়ক থেকে মোজাফফরকে গ্রেপ্তার করা হয়।
এ সময় মোজাফফরের কাছ থেকে একটি বিদেশি পিস্তল ও দুই রাউন্ড গুলি উদ্ধার করেছে র্যাব।
গ্রেপ্তারকৃত মোজাফফর নগরীর কেরানীপাড়া এলাকার কামাল হোসেনের ছেলে।
এছাড়া র্যাবের অপর একটি দল নগরীর সাহেবগঞ্জ মাছহাড়ি এলাকা থেকে নিশাদ আহমেদ জয় (২১) নামে আরেক আসামিকে গ্রেপ্তার করে। নিশাদ কেরানীপাড়া এলাকার জুয়েল আহমেদের ছেলে এবং মামলার তিন নম্বর এজাহারনামীয় আসামি।
মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১১টায় র্যাব-১৩ এর সদর দপ্তরে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান র্যাব-১৩ এর অধিনায়ক রেজা আহমেদ ফেরদৌস।
তিনি বলেন, পূর্ব শত্রুতার জেরে গত ২৯ আগস্ট রাত সাড়ে ৯টার দিকে নগরীর টেক্সটাইল মোড় এলাকায় স্কুলছাত্র রশীদকে নৃশংসভাবে হত্যা করে মোজাফফর ও তার সহযোগীরা। এ ঘটনায় ৩০ আগস্ট ৩ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত ২-৩ জনকে আসামি করে নিহত রশীদের বাবা শহিদার রহমান বাদী হয়ে থানায় মামলা দায়ের করেন।
র্যাব-১৩ এর অধিনায়ক আরও বলেন, ৩১ আগস্ট এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে আলামিন সরদার বাবু (২৫) নামে একজনকে গ্রেপ্তার করে র্যাব-১৩ এর সিপিএসসি ক্যাম্পের একটি দল। পরে মঙ্গলবার ভোরে পৃথক দুটি অভিযান চালিয়ে মোজাফফর ও নিশাদকে গ্রেপ্তার করা হয়।
প্রসঙ্গত, ঘটনার কয়েকদিন আগে রশীদের বড় ভাই মোহনের (৩০) কাছে ৫০০ টাকা দাবি করে এলাকার চিহ্নিত সন্ত্রাসী মোজাফফর হোসেন। তিনি টাকা না দেওয়ায় তাকে মারধর করে সন্ত্রাসী মোজাফফর।
এ ঘটনার বিচার দাবি করে মোজাফফরের বাবা কামালের কাছে অভিযোগ করেন মোহন। এ ঘটনায় ক্ষিপ্ত হয়ে তাদের দেখে নেওয়ার হুমকি দেয় মোজাফফর।
এরই জেরে ২৯ আগস্ট রাতে টেক্সটাইল মোড় থেকে বাড়ি ফেরার পথে মোজাফফর ও তার সহযোগীরা রশীদকে আটক করে লাঠি দিয়ে পেটায় ও ছোরা দিয়ে কুপিয়ে আহত করে। একপর্যায়ে রংপুর-ঢাকা মহাসড়কে রশীদকে চলন্ত একটি গাড়ির নিচে ফেলে দেয় তারা। এতে ঘটনাস্থলেই মারা যায় রশীদ।
এ ঘটনায় ১ সেপ্টেম্বর ভোরে পঞ্চগড়ের সুগার মিল এলাকা থেকে এজাহারনামীয় দুই নম্বর আসামি মন্টি হোসেনকে (১৯) গ্রেপ্তার করে নগরীর কোতোয়ালি থানা পুলিশ।
