৯/১১-র বর্ষপূর্তিতে কাবুলে মার্কিন দূতাবাস চত্বরে ভয়াবহ বিস্ফোরণ

আপডেট : ১১ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ১০:৫০ এএম

৯/১১ তথা টুইন টাওয়ার হামলার বর্ষপূর্তিতে কেঁপে উঠলো আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলের মার্কিন দূতাবাস। মঙ্গলবার রাত ১২টার পরপরই দূতাবাস চত্বরে ভয়ংকর বিস্ফোরণ ঘটে।

একাধিক সংবাদমাধ্যম জানায়, রকেটের মাধ্যমে এই বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। ওই সময় চারপাশ অনেকখানি অংশ ধোঁয়ায় ঢেকে যায়। বেজে ওঠে সাইরেন। দূতাবাসের ভেতরে থাকা কর্মীরা লাউডস্পিকারের ঘোষণায় বিস্ফোরণের খবর জানতে পারেন।

তবে স্থানটি জনশূন্য থাকায় কেউ হতাহত হননি। এখনো পর্যন্ত কেউ হামলার দায় স্বীকার করেনি।

সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তালিবানদের সঙ্গে শান্তি আলোচনা বন্ধ করে দিয়েছেন। এরপর কাবুলে এটাই প্রথম বড় হামলা। যদিও লাগাতার ছোটখাটো বিস্ফোরণ ঘটিয়ে চলেছে তালিবানরা।

সপ্তাহখানেক আগে দুটি গাড়ি বোমা বিস্ফোরণে কাবুলে বেশ কয়েকজন সাধারণ নাগরিক নিহত হয়। ন্যাটোর দুই মার্কিন সেনারও প্রাণ যায়। এই কারণে ইউএস-তালিবান আলোচনার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেন ট্রাম্প।

রবিবার টুইট করে বৈঠক বাতিলের কথা জানিয়ে দেন তিনি৷ লেখেন, “বিস্ফোরণ ও শান্তি আলোচনা একই সঙ্গে হতে পারে না। প্রস্তাবিত গোপন বৈঠক থেকে আমি নিজেকে সরিয়ে নিলাম। শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য যে আলোচনা চলছিল, তাও বন্ধ করে দিলাম।”

এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন কয়েক মাসের মধ্যে আফগানিস্তান থেকে ধীরে ধীরে সেনা প্রত্যাহার করে নেবেন।

২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলায় হামলায় গুঁড়িয়ে যায় যুক্তরাষ্ট্রের টুইন টাওয়ার। ১০ বিলিয়ন ডলারের এই বাণিজ্যিক ভবন নিয়ে আমেরিকার গর্ব ছিল। এই হামলায় ২ হাজার ৯৯৭ জন নিহত হন। ৬ হাজারেরও বেশি মানুষ আহত হন। একই সময়ে আরও কিছু হামলার ঘটনা ঘটে।

ওই ঘটনার জন্য বরাবরই আল-কায়দাকে দোষারোপ করে আসছে যুক্তরাষ্ট্র। এর পর থেকে আঠারো বছর ধরে আফগানিস্তানে তালিবানদের বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে দেশটি। ২০১১ সালে যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় পাকিস্তানে ওসামা বিন লাদেন নিহত হওয়ার পর আফগানিস্তান থেকে সেনা কমিয়ে নেওয়া হয়। বর্তমানে সেখানে ১৪ হাজার মার্কিন সেনা রয়েছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত