দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) চট্টগ্রাম কার্যালয়ের তলবে নিজেদের বক্তব্য দিতে গিয়ে দুপুরের খাবারের বিলের টাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাগার থেকে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) কয়েকজন শিক্ষক ও কর্মকর্তার রিরুদ্ধে।
দশ পদের বাহারী ভূরিভোজে বিল আসে ৫ হাজার ৩৯৬ টাকা। গত ২২ আগস্ট চট্টগ্রাম নগরীর আগ্রাবাদের একটি হোটেলে এত টাকার খাবার খান ওই শিক্ষক কর্মকর্তারা।
তবে নিজেদের কাজে গিয়ে খাবার খেলেও ভাউচারে এ বিলকে জনবল নিয়োগ সভার আপ্যায়ন বিল হিসেবে উল্লেখ করা হয়।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার কে এম নূর আহমদ স্বাক্ষরিত এ ভাউচারে বিল উত্তোলনের জন্য ভারপ্রাপ্ত হিসাব নিয়ামক মো. ফরিদুল আলমও সুপারিশ করে স্বাক্ষর করেন।
ভাউচারে বলা হয়, ‘গত ২২ আগস্ট তারিখে দুর্নীতি দমন কমিশন সমন্বিত জেলা কার্যালয়, চট্টগ্রাম-১ কর্তৃক আয়োজিত চবি এর বিভিন্ন দপ্তরে জনবল নিয়োগ সম্পর্কিত সভার আপ্যায়ন বিল- ৫৩৯৬ টাকা।
হোটেলের বিলে সাদা ভাত- ১০০০টাকা, কোরাল মাছ- ৯২০টাকা, রূপচাদা ৮০০টাকা, ইলিশ ২৫০টাকা, শুটকি ভর্তা ১০০টাকা, রুই মাছ ৯৬০টাকাসহ ১০ পদের খাবারের বিল বাবদ মোট ৫ হাজার ৩৯৬ টাকা বলে উল্লেখ করা হয়।
এ বিষয়ে জানতে চেয়ে বুধবার সন্ধায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার কে এম নূর আহমদের মুঠোফোনে বেশ কয়েকবার ফোন করেও যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
তবে বিষয়টি স্বীকার করে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত হিসাব নিয়ামক মো. ফরিদুল আলম বলেন, দুদক অফিসিয়ালি আমাদেরকে নিজেদের বক্তব্য দিতে তলব করে। দুদকের তলবে আমরা গত ২২ আগস্ট দুদক চট্টগ্রাম অফিসে গিয়েছিলাম। সেখানে আমরা ১৫-১৬ জন গিয়েছিলাম। সেখানে বক্তব্য দিতে গিয়ে বিকেল হয়ে যাওয়ায় আমরা হোটেল জামানে ৫ হাজার ৩৯৬ টাকার খাবার খেয়ে পে-করি। বিষয়টি মাননীয় উপাচার্য (রুটিন দায়িত্বপ্রাপ্ত উপাচার্য প্রফেসর ড. শিরীণ আখতার) মেমকে জানালে তিনি আমাদের এই বিলের টাকাটা দেওয়া হবে বলে আশ্বাস দেন।
জানা গেছে, ইউজিসির নির্দেশনা উপেক্ষা করে গত বছরের ডিসেম্বরে বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫১৯তম সিন্ডিকেট সভায় ৩য় ও ৪র্থ শ্রেণির কর্মচারী পদে ১৪২ জনকে নিয়োগের অনুমোদন দেওয়া হয় এমন অভিযোগ উঠে।
এই নিয়োগে নানা অভিযোগে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিষ্কৃত, অস্ত্রধারী, এমনকি চাকরির জন্য আবেদন না করা ব্যক্তিকেও নিয়োগ দেওয়া হয় বলেও বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হলে কর্মচারী নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ অনুসন্ধানে কয়েক দফায় বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার, ডিন, সাবেক প্রক্টরসহ ৮ শিক্ষক, ৩ কর্মকর্তা এবং ৩৫ কর্মচারীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তলব করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) চট্টগ্রাম কার্যালয়।
অনুসন্ধানের অংশহিসেবে দুদক সমন্বিত জেলা কার্যালয়, চট্টগ্রাম-১ এর সহকারী পরিচালক মো. ফখরুল ইসলামের সই করা এক অফিস আদেশে এসব শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীকে আগস্টের নির্ধারিত সময়ে দুদক কার্যালয়ে উপস্থিত হয়ে অভিযোগ অনুসন্ধানকারী কর্মকর্তার কাছে নিজেদের বক্তব্য দিতে বলা হয়।
ওই আদেশের পরিপ্রেক্ষিত গত ২২ আগস্টে দুদকের তলব করা ৮ শিক্ষকের মধ্যে রয়েছেন, সমাজ বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. ফরিদ উদ্দিন আহামেদ, ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. এএফএম আওরঙ্গজেব, বিজ্ঞান অনুষদের ডিন ও বিজ্ঞান ওয়ার্কশপের পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. শফিউল আলম, সাবেক প্রক্টর অধ্যাপক মো. আলী আজগর চৌধুরী।
আরো রয়েছেন, শাহ আমানত হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক মো. গোলাম কবীর, ফলিত রসায়ন ও কেমিকৌশল বিভাগের সভাপতি ড. মো. সুমন গাঙ্গুলী, ইনস্টিটিউট অব মেরিন সায়েন্সেস এর পরিচালক মো. জাহেদুর রহমান এবং পরিবহন দফতরের প্রশাসক অধ্যাপক ড. মো. রাশেদ উন নবী।
এছাড়া ৩ কর্মকর্তা হলেন, রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) কেএম নুর আহমদ, হিসাব নিয়ামক (ভারপ্রাপ্ত) মো. ফরিদুল আলম এবং উপাচার্য দফতরের ডেপুটি রেজিস্ট্রার (কম্পিউটার) মো. জাহাঙ্গীর আলম।
উল্লেখ্য, সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. ইফতেখার উদ্দিন চৌধুরীর উপাচার্য হিসেবে দায়িত্বপালনের শেষ সময়ে এসে ৩য় ও ৪র্থ শ্রেণির কর্মচারী পদে ১৪২ জনকে নিয়োগ প্রদানের জন্য গঠিত সিলেকশন বোর্ডে এসব শিক্ষক, কর্মকর্তা সিলেকশন বোর্ডের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন।
অপরদিকে ওই সময়ে নিয়োগ পাওয়া ৩৫ কর্মচারীকেও জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তলব করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
