দলের কারাবন্দি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার নিঃশর্ত মুক্তির দাবিতে গতকাল বুধবার রাজধানীতে মানববন্ধন করেছে বিএনপি। বেলা ১১টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত অনুষ্ঠিত এই মানববন্ধনে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য কারাবন্দি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে মুক্ত করতে হবে। চেয়ারপারসনকে মুক্ত করতে বৃহত্তর গণ-আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। অবৈধ সরকারকে পরাজিত করতে হবে।
বিএনপি চেয়ারপারসনের মুক্তির দাবিতে ঘোষিত দুই দিনের কর্মসূচির অংশ হিসেবে গতকাল রাজধানীতে কেন্দ্রীয়ভাবে এই মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা হয়। আজ সারা দেশে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করবেন জেলার নেতারা। আজ ১২ সেপ্টেম্বর তার কারাবন্দির ৫৮২তম দিন।
মানববন্ধন সামনে রেখে সকাল ১০টা থেকে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা থেকে দলে দলে নেতাকর্মীরা জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে জড়ো হতে থাকেন। তাদের হাতে দলের চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ছবিসংবলিত প্ল্যাকার্ড ছিল। নেতাকর্মীরা ‘এক দফা এক দাবি’, দেশনেত্রীর মুক্তি চাই দিতে হবে’, ‘জেলের তালা ভাঙব খালেদা জিয়াকে আনব’, ‘আমার নেত্রী আমার মা বন্দি থাকতে দেব না’ সেøাগানে জাতীয় প্রেস ক্লাব এলাকা প্রকম্পিত করে রাখেন।
মানববন্ধনে মির্জা ফখরুল কারাবন্দি খালেদা জিয়ার সুচিকিৎসার দাবি জানিয়ে বলেন, তিনি অত্যন্ত অসুস্থ। তার ডায়াবেটিস বেড়ে গেছে। গায়ের ব্যথা বেড়েছে। কারও সাহায্য ছাড়া হাঁটতে পারেন না, চলতে পারেন না। অথচ সরকার, কারা কর্তৃপক্ষ ও ডাক্তাররা বলছেন, তিনি সুস্থ আছেন। প্রকৃতপক্ষে বেগম জিয়া মোটেই সুস্থ নন। বিএনপি তার চেয়ারপারসনের মুক্তি দাবি করছে।
রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানের অভিযোগ করে তিনি বলেন, নতজানু পররাষ্ট্রনীতির কারণে সরকার সাহস করে কিছু বলতে পারছে না, করতে পারছে না। আজ আসাম থেকে হুমকি দেওয়া হচ্ছে, বাংলাদেশ থেকে অনুপ্রবেশকারীদের বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেওয়া হবে। আমরা পরিষ্কার ভাষায় বলতে চাই, স্বাধীনতার পর থেকে কোনো বাংলাদেশি ভারতে যায়নি। এটা নিয়ে গভীর চক্রান্ত শুরু হয়েছে বাংলাদেশকে বিপদগ্রস্ত করার জন্য।
মির্জা ফখরুল সরকারের সমালোচনা করে আরও বলেন, জনগণের ভোটে নয়, সরকার জনগণের ভোট ডাকাতি করে জোর করে ক্ষমতায় বসে আছে। তারা অন্যায়ভাবে দেশনেত্রীকে কারাগারে আটকে রেখেছে। কারণ একটাই তিনি বাইরে থাকলে সরকারের অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলবেন। মানববন্ধনে আরও ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, নজরুল ইসলাম খান, ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল আউয়াল মিন্টু, ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, আহমেদ আযম খান, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টাম-লীর সদস্য জয়নুল আবদিন ফারুক, আবুল খায়ের ভূঁইয়া, যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, মুজিবুর রহমান সরোয়ার, খায়রুল কবির খোকন, যুবদলের সভাপতি সাইফুল আলম নীরব, স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি শফিউল বারী বাবু, যুবদলের সাধারণ সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, কৃষকদলের সদস্য সচিব কৃষিবিদ হাসান জাফির তুহিন, মহিলা দলের সভাপতি আফরোজা আব্বাস, সাধারণ সম্পাদক সুলতানা আহমেদ প্রমুখ।
