ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুরের সলিমাবাদ ইউনিয়নের পাইকারচর গ্রামে গত সোমবার রাত ১টার দিকে সুমন মিয়া (৩৫) নামে ওয়ার্ড যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক খুন হয়েছেন। তিনি গ্রামের মৃত মনু মিয়ার ছেলে।
এ ঘটনায় গতকাল বুধবার তার দুলাভাই আবদুল জলিল মেম্বার বাদী হয়ে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেনকে প্রধান আসামি করে বাঞ্ছারামপুর থানায় মামলা করেন। পুলিশ রাজীব (১৮) ও বাবুলকে (৪০) গ্রেপ্তার করেছে। তবে সুমন নিহতের ঘটনায় রহস্য দেখা দিয়েছে। লাশের সুরতহাল প্রতিবেদনে বাঞ্ছারামপুর থানা পুলিশ প্রথমে গুলিতে মৃত্যুর কথা জানালেও গতকাল গুলিবিদ্ধ হওয়ার কোনো আলামত পাওয়া যায়নি বলে দাবি করেছে।
এ বিষয়ে বাঞ্ছারামপুর মডেল থানার ওসি সালাউদ্দিন চৌধুরী বলেন, ‘স্বজনদের বক্তব্য ও পারিপার্শ্বিক অবস্থায় তাৎক্ষণিক সুরতহালে গুলিবিদ্ধের কথা বলা হলেও পরে আমরা এ ধরনের কোনো আলামত নিশ্চিত হতে পারিনি। তবে তাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। দুজনকে ধরা হয়েছে। বাকিদেরও গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।’
গতকাল সকালে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর হাসপাতালে সুমনের লাশের ময়নাতদন্ত হয়। ময়নাতদন্ত বোর্ডের প্রধান জেলা সিভিল সার্জন ডা. মো. শাহ আলম বলেন, ‘চিকিৎসকরা আমাকে সুমনের বুকে গুলির চিহ্নের কথা জানিয়েছেন। তবে সেটি বেরিয়ে যাওয়ার কোনো আলামত নেই। দেহের ভেতরেও কোনো গুলি তারা পাননি।’
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, আধিপত্যসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে ইকবাল হোসেনের সঙ্গে তাতুয়াকান্দি গ্রামের অলি মেম্বারের বিরোধ চলে আসছে। এরই জেরে গত সোমবার রাতে ইকবালের লোকেরা অলি মেম্বারের সমর্থকদের ওপর হামলা চালায়। এতে যুবলীগ নেতা সুমনসহ ৬ জন আহত হন। পরে তাদের বাঞ্ছারামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক সুমনকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিহতের দুলাভাই আবদুল জলিল দাবি করেন, সুমন, জয়নাল ও তিনি একসময় ইকবালের সমর্থক ছিলেন। ইকবালের নানা অপকর্মে বাধা দিলে তিনি ক্ষুব্ধ হন। এরই জেরে সোমবার রাতে ইকবালের লোকেরা তাদের ওপর হামলা চালায়।
