বিকেল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামকে বেশ হুমকির মধ্যে রাখল বৃষ্টি। কিছুক্ষণ সেন্টার উইকেটে নক করেই ব্যাটসম্যানরা ছুট ড্রেসিং রুমে। দস্যুর মতো বৃষ্টি নামে। আগেও ছিল। ফ্লাডলাইটের আলোয় আবার বাংলাদেশ দল ফেরে রাত পৌনে ৮টার দিকে। সাড়ে ৮টার দিকে আবার বৃষ্টির তাড়ায় ছুট। স্বাগতিকরা ত্রিদেশীয় সিরিজ আজ শুরু করছে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে লড়াই দিয়ে। তার আগে গতকাল যতটা সম্ভব
কৃত্রিম আলোতে মানিয়ে নেওয়ার চেষ্টা।
রাসেল ডমিঙ্গোর অবশ্য বাংলাদেশের ক্রিকেটের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার বিষয়ে খুব তাড়াহুড়া দেখা যাচ্ছে না। মাত্র আগস্টের শেষ সপ্তাহে এসেছেন। আর প্রথম অ্যাসাইনমেন্টে নিজেকে ‘পর্যবেক্ষক’ হিসেবে রেখেছিলেন। তার দাবি, ইনপুট দেবেন পরে। বুঝে-শুনে। আর তার প্রথম অ্যাসাইনমেন্টে চট্টগ্রামে একমাত্র টেস্টে বাংলাদেশ খুব বাজেভাবে হেরে বসল। তাতে অবশ্য তেমন বিচলিত লাগছে না দক্ষিণ আফ্রিকার অভিজ্ঞ কোচকে। তার বিশ্বাস, যাদের দেখছেন তাদের সঠিক পথ দেখাতে পারলে বাংলাদেশের ক্রিকেটের উন্নতি হতে বাধ্য।
২২ বছর বয়স থেকে কোচিংয়ে। দক্ষিণ আফ্রিকার জাতীয় দলের কোচ হিসেবে কাটিয়েছেন পাঁচ বছর। ঢের উত্থান-পতন দেখেছেন। আর এ তো সবে শুরু। হাসিখুশি কোচ কাল এলেন ত্রিদেশীয় সিরিজ-পূর্ব সংবাদ সম্মেলনে। টেস্টে হারের পর তাকে পাওয়া যায়নি। তাই টেস্ট সংক্রান্ত প্রশ্নও এলো বেশ। আর ওই হারের প্রসঙ্গ এলে সাবলীল উচ্চারণে বলে গেলেনÑ ‘দেখুন, ওটা আমার প্রথম টেস্ট ছিল। আমার মতে আফগানিস্তান খুব ভালো খেলেছে। ওদের কৃতিত্ব দিতে হবে। আমাদের পক্ষ থেকে কোনো অজুহাত দাঁড় করানো ঠিক হবে না।’ টেস্ট নিয়ে তাকে কঠোর পরিশ্রম করতে হবে। সেটা বললেন নিজস্ব ঢঙে, ‘আমাদের টেস্ট রেকর্ড ভালো নয়। দলের কাঠামো দাঁড় করাতে এবং ব্যক্তির শক্তি ব্যবহারে তাই কাজ করতে হবে। এসব নিয়ে আমি অনেক ভেবেছি। সামনে এগুনোর ছক কষেছি।’
সাকিবের কাছে ডমিঙ্গো জানতে চেয়েছিলেন বাংলাদেশের প্রিয় ফরম্যাটের ক্রিকেটের ব্যাপারে। শুনে অবাক হয়েছেন। সেটি ওয়ানডে। জেনেছেন, সাকিবরা ছোটকাল থেকে ৫০ ওভারের ক্রিকেট খেলেই বেড়ে উঠেছেন। এই কারণে সেটিতে ভালো। তাই পিছিয়ে থাকা বাকি দুই সংস্করণে বিশেষ চোখ রেখেছেন নতুন প্রধান কোচ, ‘টি-টোয়েন্টি ও টেস্ট ক্রিকেট নিয়ে অনেক কাজ করার আছে। আসলে সব সংস্করণ নিয়েই করতে হবে। তবে বিশেষ করে আগামী কয় মাসে এ দুই সংস্করণে বেশি মনোযোগ দিতে হবে। ভাগ্য ভালো, সামনে ওয়ানডে খেলা নেই। অনেক বেশি টেস্ট ও টি-টোয়েন্টি খেলতে হবে। সুতরাং, এদিকটায় উন্নতিতে মন দেওয়া যাবে।’
খেলোয়াড়দের উন্নতির সঙ্গে কোচের উন্নতিও খুব জরুরি মানেন এই কোচ। বিশেষ করে মাত্র এসেছেন। এখনো সবাইকে চেনেন না। সবকিছু সম্পর্কে জানেন না। তবে যে সময়টা কাটছে তার সেটিকে নিজের জন্য শিক্ষা সফরের মতো করে নিয়েছেন ডমিঙ্গো, ‘টেস্টের ৫-৬ দিনে অনেক শিখেছি। আর গেল সপ্তাহ তিনেক আমার জন্য শেখার দারুণ এক প্রক্রিয়া ছিল।’
তার প্রতিশ্রুতি, ‘আশা করছি এখন থেকে পার্থক্য তৈরি করে দেওয়ার চেষ্টাটা করতে পারব।’ কারণ ডমিঙ্গোর বিশ্বাস, ‘আমি মনে করি যদি আমরা আমাদের সম্ভাবনা অনুযায়ী খেলতে পারি তাহলে আমাদের হারানো খুব কঠিন হবে।’ কোন বিশ্বাস থেকে এই কথা? ডমিঙ্গোর ব্যাখ্যা, ‘সাদা বলের ক্রিকেটে নিজেদের দিনে আমরা যে কাউকে হারাতে পারি। আমাদের দলে বিশ্বমানের কয়েকজন পারফরমার আছে। দলের অভিজ্ঞতার দিকে তাকিয়ে দেখুন। ৫০ ওভারের বিশ্বকাপে আমরা ছিলাম দ্বিতীয় সর্বোচ্চ অভিজ্ঞ দল। এই দলে তাই মান ও অভিজ্ঞতার কোনো কমতি নেই।’
কোচদের তো বসে থাকার উপায় নেই। ইনপুট ঠিকই দিয়ে যাচ্ছেন ডমিঙ্গো। খেলোয়াড়দের কোথায় কোথায় কাজ করা দরকার তা নিয়ে শুরু থেকে ব্যস্ততা তার। তবে এক ফরম্যাট থেকে আরেক ফরম্যাটে পা রেখেই নতুন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হচ্ছে। ‘ড্রেসিং রুমে মাত্রই এমন তিনজন খেলোয়াড়ের সঙ্গে আমার পরিচয় হলো যাদের আগে কখনো দেখিনি।’ টি-টোয়েন্টি দলের ইয়াসিন আরাফাত মিশু, আফিফ হোসেন ধ্রুব ও মেহেদি হাসানের প্রসঙ্গ টেনে ডমিঙ্গো বলছিলেন, ‘মাত্র মিনিট দশেক আগে যাদের সঙ্গে পরিচয় তাদের কী নিয়ে কাজ করাবেন তা বোঝা খুব কঠিন ব্যাপার। আমি এখন এসব চ্যালেঞ্জ সামলাচ্ছি। তবে যেমন বললাম, ভালো একটা গ্রুপের সঙ্গে গেল তিন সপ্তাহ কেটেছে আমার। ওরা খুব পরিশ্রমী। সবসময় উন্নতির চেষ্টায় থাকে। যদিও টেস্টে তাদের পারফরম্যান্স ভালো ছিল না। এই গ্রুপে কিছু তরুণ ও চমৎকার সিনিয়র খেলোয়াড় আছে। তাদের ঠিকঠাক মতো সামলে কাজ করে যেতে থাকলে পারফরম্যান্সে উন্নতি না আসার কোনো কারণ আমি দেখি না।’
