কক্সবাজারের টেকনাফে যুবলীগ নেতা ওমর ফারুক (৩০) হত্যা মামলার আসামি দুই রোহিঙ্গা পুলিশের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত হয়েছে। টেকনাফ থানার ওসি প্রদীপ কুমার দাশের ভাষ্য, গত বৃহস্পতিবার রাত ১২টার দিকে উপজেলার হ্নীলা ইউনিয়নের জাদিমোরা পাহাড়ি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এ নিয়ে ফারুক হত্যা মামলার আসামি ছয় রোহিঙ্গা ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত হলো। এদিকে কুষ্টিয়া সদরে বৃহস্পতিবার রাতে কথিত বন্দুকযুদ্ধে এক যুবক নিহত হয়েছে। পুলিশ বলেছে, নিহত সুজন (৩২) ‘মাদক কারবারি’।
টেকনাফ থানার ওসি বলেন, নিহতরা হলো হ্নীলা ইউনিয়নের নয়াপাড়া নিবন্ধিত রোহিঙ্গা ক্যাম্পের জমির আহমদের ছেলে মো. আবদুল করিম (২৪) ও একই ক্যাম্পের ছৈয়দ হোসেনের ছেলে নেছার আহম্মদ (২৭)। মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের আকিয়াব জেলার মংডু থানার বুচিডংয়ের হাসুরতা ও পুইমালী এলাকায় তাদের বাড়ি। হত্যা, ডাকাতি, অবৈধ অস্ত্র ব্যবহারসহ বিভিন্ন অভিযোগে করিম ও নেছারের বিরুদ্ধে থানায় মামলা রয়েছে।
গত ২২ আগস্ট রাতে জাদিমোরা এলাকায় বাড়ির সামনে থেকে তুলে পাহাড়ে নিয়ে ফারুককে গুলি করে হত্যা করা হয়। তিনি হ্নীলা ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ড যুবলীগের সভাপতি ছিলেন। পুলিশের দাবি, ওই হত্যাকাণ্ড সংঘবদ্ধ রোহিঙ্গা অপরাধী চক্র ঘটিয়েছে। ওই রাতেই ১৭ রোহিঙ্গাকে আসামি করে টেকনাফ থানায় হত্যা মামলা করেন ফারুকের বাবা।
ফারুক হত্যা মামলার প্রধান সন্দেহভাজন নুর মোহাম্মদ ১ সেপ্টেম্বর রাতে পুলিশের সঙ্গে কথিত বন্দুকযুদ্ধে নিহত হন; তিনি জাদিমোরা শালবাগান রোহিঙ্গা ক্যাম্পের মৃত কালা মিয়ার ছেলে। এর আগে পুলিশের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ গত ২৪ আগস্ট রাতে একই ক্যাম্পের আবদুল আজিজের ছেলে আবদুল শুক্কুর ও ছব্বির আহমদের ছেলে মোহাম্মদ শাহ ও ২৬ আগস্ট রাতে হামিদ উল্লাহর ছেলে মোহাম্মদ হাসান নিহত হয়।
ওসি প্রদীপ দাশ বলেন, ‘ফারুক হত্যা মামলার আসামিরা জাদিমোরা চাইল্ড ফ্রেন্ডলি স্পেস অফিসের পেছনে পাহাড়ে অবস্থান করছেÑ এমন খবরে বৃহস্পতিবার রাতে পুলিশের একটি দল সেখানে অভিযানে যায়। পুলিশ সদস্যরা সেখানে পৌঁছামাত্র সন্ত্রাসীরা গুলি ছুড়তে শুরু করে। এতে এএসআই কাজী সাইফ উদ্দিন (৩৫), কনস্টেবল নাবিল (৩০) ও রবিউল ইসলাম (৩৩) আহত হন। উপায়ান্তর না দেখে আত্মরক্ষার্থে পুলিশও পাল্টা গুলি করে এগিয়ে যায়। উভয় পক্ষের গোলাগুলির শব্দে স্থানীয় লোকজন ও রোহিঙ্গারা এগিয়ে এলে অস্ত্রধারীরা পালিয়ে যায়। পরে গুলিবিদ্ধ দুই যুবককে উদ্ধার করে প্রথমে টেকনাফ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ও পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন।’
তিনি আরও বলেন, পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে দুটি এলজি, ৭ রাউন্ড শটগানের তাজা কার্তুজ ও ৯ রাউন্ড কার্তুজের খোসা উদ্ধার করে। মৃতদেহ দুটি ময়নাতদন্তের জন্য কক্সবাজার জেলা হাসপাতাল মর্গে রয়েছে।
এদিকে কুষ্টিয়া মডেল থানার ওসি নাসির উদ্দিন বলেন, ‘রাত দুইটার দিকে সদর উপজেলার মোল্লাতেঘরিয়া ক্যানেলপাড়ায় দুদল মাদক ব্যবসায়ীর মধ্যে ‘বন্দুকযুদ্ধ’ চলছেÑ এমন সংবাদে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছালে তারা পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। পুলিশও পাল্টা জবাব দিলে বেশ কিছুক্ষণ গোলাগুলি চলে। একপর্যায়ে মাদক ব্যবসায়ীরা পালিয়ে গেলে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় একজনকে উদ্ধার করে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এ সময় পুলিশের পাঁচ সদস্য আহত হন।’
ঘটনাস্থল থেকে অস্ত্র-গুলি ও মাদক উদ্ধার করা হয়েছে জানিয়ে তিনি আরও বলেন, নিহত সুজন মাদক কারবারি এবং তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে। তিনি একই এলাকার আবুল কাশেমের ছেলে।
