দালালের মাধ্যমে হেঁটে ইউক্রেন থেকে ফ্রান্সে যাওয়ার সময় সেøাভাকিয়ার একটি জঙ্গলে মারা গেছেন সিলেটের বিশ্বনাথ থানার সাবেক ব্যাংক কর্মকর্তা ফরিদ উদ্দিন (৩৫)। গত ২৮ আগস্ট থেকে ১ সেপ্টেম্বরের মধ্যে কোনো একদিন মারা যান তিনি। সেøাভাকিয়া থেকে তার লাশ দেশে আনার প্রক্রিয়া চলছে। ফরিদের ভাই আলাউদ্দিন দেশ রূপান্তরকে এসব তথ্য জানান।
আলাউদ্দিন বলেন, বেসরকারি ব্যাংকের সাবেক কর্মকর্তা ফরিদ উদ্দিন সবসময় ইউরোপে স্থায়ী হওয়ার স্বপ্নে বিভোর থাকতেন। ২০১৮ সালে ফুটবল বিশ্বকাপ দেখতে রাশিয়া যান তিনি। বিশ্বকাপ শেষ হওয়ার এক মাস পর রাশিয়া থেকে ইউক্রেন যান এবং সেখানে কয়েক মাস অবস্থান করেন। সেখান থেকে ফ্রান্সে যাওয়ার জন্য রাশিয়ায় বসবাসকারী দালাল লিটন বড়ুয়ার সঙ্গে যোগাযোগ করেন তিনি। এরপর সাত লাখ টাকার বিনিময়ে লিটনের সঙ্গে চুক্তি হয় তার। সেই অনুযায়ী গত ২৮ আগস্ট ছয়জনের একটি দলের সঙ্গে হেঁটে ইউক্রেন থেকে ফ্রান্সের পথে রওনা হন। হেঁটে ইউক্রেন থেকে ফ্রান্সে যেতে সময় লাগে পাঁচ দিন, তার সঙ্গে খাবার ছিল দুই দিনের মতো। পথে সেøাভাকিয়ার স্টারিনা জঙ্গলে খাবার শেষ হওয়ার পর দালালদের দেওয়া খাবার খেয়ে গুরুতর ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে সেখানেই মারা যান। সফরসঙ্গীরা তার মৃতদেহ সেখানে ফেলে ফ্রান্সে এসে পৌঁছান সেপ্টেম্বরের ২ তারিখ। গত ৯ সেপ্টেম্বর সেøাভাকিয়ার ‘জওজে টিভি’র বরাত দিয়ে একটি অনলাইন নিউজ পোর্টাল এ বিষয়ে সংবাদ প্রচার করলে সেই দেশের পুলিশ জঙ্গল থেকে ফরিদের লাশ উদ্ধার করে হাসপাতাল মর্গে রাখে। সংবাদটি ফরিদের যুক্তরাজ্য প্রবাসী আত্মীয়স্বজন দেখতে পেয়ে স্লোভাকিয়া পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। গত বৃহস্পতিবার ফরিদের যুক্তরাজ্য প্রবাসী ভাই আলকাছ আলী সেøাভাকিয়া গিয়ে লাশ শনাক্ত করেন।
