ইউএনও’র নির্দেশে বালু উত্তোলনের অভিযোগ, এলাকাবাসীর বিক্ষোভ

আপডেট : ১৮ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ০৯:১৩ পিএম

বালু মহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন অমান্য করে ড্রেজিং মেশিন দিয়ে ভুলুয়া নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন চলছে লক্ষ্মীপুরের কমলনগর উপজেলা নির্বাহী অফিসারের নির্দেশে। ফলে ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে আশপাশের বসতঘর ও ফসলি জমি। যদিও ওই কর্মকর্তা বলছেন বালু উত্তোলন করলে কোন ঝুঁকি থাকে না পরিবেশের।

এদিকে বালু উত্তোলন বন্ধের দাবিতে মৌখিক অভিযোগ ও বিক্ষোভ মিছিল করেও কোন পরিত্রাণ মেলেনি স্থানীয়দের।

অপরদিকে পানি উন্নয়ন বোর্ড জানায়, কোন অনুমতি ছাড়াই কাজটি করছেন ইমতিয়াজ হোসেন (ইউএনও) নিজেই।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, জেলার কমলনগর উপজেলার চরঠিকা গ্রামের আছিয়ার বাপের খেয়া স্থানে ভুলুয়া নদী থেকে পাঁচটি ড্রেজার মেশিনের মাধ্যমে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। বালু দিয়ে সেখানকার নদীর তীরবর্তি একটি গুচ্ছগ্রামের জন্য নির্ধারিত জমি ভরাট করা হচ্ছে। গত কয়েকদিনে প্রায় ৫০ শতাংশ জমি বালু দিয়ে ভরাট করা হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূতে জানা গেছে, ভূমি ও গৃহহীন পরিবারকে পুনর্বাসন করার লক্ষ্যে লক্ষ্মীপুরের কমলনগর উপজেলার চরকাদিরা ইউনিয়নে একটি গুচ্ছগ্রাম স্থাপন করার উদ্যোগ নেয় সরকার। চরঠিকা গ্রামের ভুলুয়া নদী তীরের সরকারি খাস জমিতে এই গুচ্ছগ্রামটির কাজ বাস্তবায়নের দায়িত্বে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান ও উপজেলা প্রকল্প  বাস্তবায়ন কর্মকর্তা রয়েছেন। কাজটি দেখাশুনা ও বাস্তবায়ন করছেন স্বয়ং উপজেলা নির্বাহী অফিসার ইমতিয়াজ হোসেন নিজেই।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন ও ভূমি অফিস সূত্রে জানা যায়, ভূমি মন্ত্রণালয়ধীন এই গুচ্ছগ্রাম প্রকল্পের ২ একর মাটি ভরাটের জন্য ১০৮ টন চাউল বরাদ্দ দেওয়া হয়। যার সরকারি মূল্য ৪৬ লাখ ৭৩ হাজার ১’শত ৬০ টাকা। ইতিমধ্যে ৫৪ টন চাউল উত্তোলনের জন্য কাগজপত্র জমা দেওয়া হয়েছে। কাজটি চলতি বছরের জুন মাসের মধ্যে শেষ করার কথা ছিল।

স্থানীয়রা অভিযোগ করে বলেন, নদী থেকে বালু উত্তোলনের ফলে নতুন করে ভাঙনের মুখে পড়তে পারে এ এলাকাটি। যেহেতু নদীর পাশে সেহেতু ভাঙন শুরু হলে অল্প সময়ের মধ্যে ফসলি জমি ও বসতঘর নদী গর্ভে বিলীন হয়ে যাবে। তাছাড়া নদী পাড়ের গুচ্ছগ্রামটিও  তলিয়ে যেতে পারে। বালু উত্তোলন বন্ধের জন্য ইউএনও মৌখিক বলা হলেও কোন পরিত্রাণ পায়নি।

প্রকল্পটির সভাপতি ও চর কাদিরা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মাওলানা খালেদ সাইফুল্লাহ বলেন, সভাপতি হয়েছি শুধুমাত্র বরাদ্ধ উত্তোলনের সময় স্বাক্ষর দেওয়ার জন্য। তদারকির জন্য নয়। তদারকি থেকে শুরু করে বাস্তবায়ন সব কিছু্‌  ইউএনও করছেন। ইউএনও স্যারকে বলেছি, নদী থেকে কেন বালু উত্তোলন করা হচ্ছে? ইউএনও স্যার  জানান সরকারি নদী থেকে সরকারি কাজে বালু উত্তোলন করছেন। এতে কোন সমস্যা হবে না।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) ও প্রকল্পটির সদস্য সচিব মোশারফ হোসেন বলেন, কাজটি দেখা শুনার দায়িত্ব সরাসরি  ইউএনও স্যার নিজেই করছেন। আমাকে তেমন কিছু জানায়নি। কাজের নিয়ম আর অনিয়ম আমি কিছুই জানি না।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইমতিয়াজ হোসেন বলেন, সরকারি নদী থেকে সরকারি একটি প্রকল্পের জন্য মাটি ভরাট করা হচ্ছে। এতে কোন সমস্যা নেই। তাছাড়া ড্রেজার দিয়ে নদী থেকে বালু উত্তোলন করলে পরিবেশের কোন ঝুঁকি থাকে না। তাছাড়া এই গুচ্ছগ্রামটির মাধ্যমে ঐ অঞ্চলের গৃহহীন ও অসহায়দের আশ্রয় দেওয়া হবে।

এ ব্যাপারে জেলা প্রশাসক অঞ্জন চন্দ্র পাল বলেন, ইউএনওর বালু উত্তোলনের বিষয়টি জানা নেই। খোঁজ খবর নিয়ে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত