ভারতে এক কলেজে স্নাতক পর্যায়ের সমাবর্তনে বোরকা পরে এসেছিলেন এক শিক্ষার্থী। সমাবর্তনের ড্রেস কোড না পরার অজুহাতে তাকে স্বর্ণপদক ও সার্টিফিকেট দেয়নি কলেজ কর্তৃপক্ষ।
সংবাদ প্রতিদিন জানায়, ঝাড়খণ্ডের রাঁচির মাড়ওয়ারি কলেজর নিশাত ফাতিমা নামে ওই ছাত্রী নিজের বিভাগে প্রথম শ্রেণিতে প্রথম হয়েছিলেন। এ জন্য স্বর্ণপদকও পাওয়ার কথাও ছিল তার।
কলেজ কর্তৃপক্ষের দাবি, সমাবর্তনের অনুষ্ঠানে আসতে হলে নির্দিষ্ট ড্রেস কোড মেনে আসতে হয়। ওই ছাত্রীটি সেই ড্রেস কোড না মেনে আসায় তাকে সমাবর্তন দেওয়া হয়নি।
সমাবর্তন নিতে পরিবারসহ অনুষ্ঠানে এসেছিলেন ফাতিমা। অনুষ্ঠানের শুরুতেই তার পদক পাওয়ার কথা ছিল। এ জন্য তার নামও ঘোষণা করা হয়। কিন্তু পুরস্কার নিতে মঞ্চে আসতে গেলে ঘোষণা করা হয়, ড্রেস কোড মেনে পোশাক না পরাই ফাতিমা এই পুরস্কার পাবেন না।
সমাবর্তনের ড্রেস কোড হিসেবে ছেলেদের জন্য কুর্তা-পাঞ্জাবি এবং মেয়েদের জন্য সালোয়ার স্যুট বা শাড়ি পরা বাধ্যতামূলক বলে ঘোষণা করা হয়েছিল। কিন্তু ধর্মীয় বিধান অনুসারে ফাতিমা বোরকা পরে এ দিনে কলেজে আসেন।
এই মেধাবী ছাত্রীর বাবা মোহাম্মদ ইকরামুল বলেন, “ইসলামের বিধান অনুযায়ী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বা অন্যান্য কোনো জনবহুল এলাকায় যেতে হলে মেয়েদের বোরকা পরতে হয়।” কিন্তু তার কথাতেও রাজি হয়নি কলেজ কর্তৃপক্ষ। এদিন ফাতিমাকে দেওয়া হয়নি সার্টিফিকেটও।
প্রসঙ্গত, কদিন আগেই উত্তরপ্রদেশের ফিরোজাবাদের এসআরকে কলেজে মেয়েদের বোরকা পরে প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হয়। কলেজ কর্তৃপক্ষ দাবি, বোরকার আড়ালে কলেজে দেশবিরোধী লোকজন ঢুকে পড়ছে। সেই ঘটনার প্রতিবাদ জানায় মুসলিম নেতার ও বুদ্ধিজীবী মহল।
রাঁচির এই ঘটনারও প্রতিবাদ উঠেছে। প্রশ্ন উঠছে, কলেজ কোনো ছাত্রী কী পরবে তা কীভাবে ঠিক করতে পারে? কারও প্রশ্ন, যতই পোশাকবিধি না মানুক, কলেজের সেরা ছাত্রীকে পুরস্কার না দেওয়াটা সমর্থনযোগ্য নয়।
