ঝাড়খন্ডের মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেন গ্রেপ্তার, রাজ্য সামলাবেন 'টাইগার'   

আপডেট : ০১ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ১১:৩১ এএম

ভারতের ঝাড়খন্ড রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেনকে গ্রেপ্তার করেছে দেশটির আর্থিক অনিয়ম তদন্তকারী সংস্থা এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)। গতকাল বুধবার (৩১ জানুয়ারি) রাতে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। এর আগে তিনি পদত্যাগ করেন।

হেমন্তের দলের মুখপাত্র জানিয়েছেন, ‘মুখ্যমন্ত্রী ইডি হেফাজতে রয়েছেন। মুখ্যমন্ত্রী ইডি টিমের সঙ্গে রাজ্যপালের কাছে গিয়েছিলেন পদত্যাগপত্র জমা দিতে। চম্পাই সোরেনই হবেন নতুন মুখ্যমন্ত্রী। আমাদের কাছে যথেষ্ট সংখ্যায় বিধায়ক আছেন।’

হেমন্ত সোরেনের মন্ত্রিসভায় গুরুত্বপূর্ণ সদস্য ছিলেন চম্পাই। হেমন্তের গ্রেপ্তারের পরপরই দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন তিনি। কৃষক পরিবারের সন্তান চম্পাই সোরেনকে ঝাড়খণ্ডের ‘টাইগার’ বলেও ডাকা হয়। 

৯০-এর দশকের শেষের দিকে রাজনীতিতে পা রাখেন চম্পাই সোরেন। ঝাড়খণ্ড আন্দোলনের মুখ হয়ে উঠেছিলেন তিনি। আর রাজনৈতিক জীবনে পাকাপাকিভাবে প্রবেশ করেন বিধায়ক হয়ে। সরাইকেলা আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে লড়াই করে বিধায়ক হয়েছিলেন চম্পাই। ঝাড়খণ্ডের মানুষ তাকে তখন থেকেই 'টাইগার' সম্বোধন করতে থাকেন।  

হেমন্ত সোরেনের গ্রেপ্তার পর্ব 

এক প্রতিবেদনে এনডিটিভি জানিয়েছি, বুধবার ঝাড়খণ্ডের রাজধানী রাঁচিতে হেমন্ত সোরেনের সরকারি বাসবভনে হেমন্ত সোরেনকে প্রায় ৭ ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদ করেন ইডির কর্মকর্তারা। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে সন্ধ্যার দিকে ঝাড়খণ্ড রাজ্যপালের (গভর্নর) ভবনে গিয়ে পদত্যাগপত্র জমা দেন হেমন্ত। তারপরেই তাকে গ্রেপ্তার করে ইডি।  

২০০২ সালের আইন প্রিভেনশন অব মানি লন্ডারিং অ্যাক্টের (পিএমএলএ) ৫০ ধারার অধীন একটি জমি কেলেঙ্কারির মামলায় অর্থ পাচারের অভিযোগে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সোরেনকে গত মাসে তলব করেছিল ইডি। রাজ্যের রাজধানী রাঁচিতে অবৈধ খনন এবং জমি কেলেঙ্কারির দুটি মামলা ইডিতে তদন্তাধীন।

দিল্লির বাসভবনে ইডির তল্লাশির প্রতিবাদ করেছেন হেমন্ত সোরেন। তিনি তফসিলি জাতি ও উপজাতিদের জন্য নির্দিষ্ট আইনের ধারায় ইডির কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ইতিমধ্যে মামলাও করেছেন।

সোরেন অভিযোগ করেছেন, ইডি দিল্লিতে তার বাসভবনে ‘তাকে এবং তার সমগ্র সম্প্রদায়কে হয়রানি ও অপমান করার জন্য’ তল্লাশি অভিযান পরিচালনা করেছে।

এ ব্যাপারে রাঁচির জ্যেষ্ঠ পুলিশ সুপার চন্দনকুমার সিনহা ভারতের একটি সংবাদ সংস্থাকে বলেছেন, ‘কিছু ঊর্ধ্বতন ইডি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে একটি এফআইআর দায়ের করা হয়েছে। আমরা মুখ্যমন্ত্রীর কাছ থেকে এই মর্মে আবেদন পেয়েছি।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত