পঞ্চগড়ের আটোয়ারীতে প্রেমে রাজি না হওয়ায় স্কুলছাত্রী সাদিয়া সামাদ লিসাকে হত্যার প্রতিবাদ ও প্রধান আসামি সাদের গ্রেপ্তার দাবিতে বিক্ষোভ করেছে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা। গতকাল শনিবার দুপুরে লিফলেট ও ব্যানার-ফেস্টুনসহ থানার সামনে এই বিক্ষোভ করে তারা। এতে সর্বস্তরের মানুষ অংশ নেয়।
সমাবেশে শিক্ষার্থীরা বলে, ‘অভিযুক্ত খুনিদের অবিলম্বে গ্রেপ্তার ও ফাঁসির
দাবিতে আমরা রাস্তায় নেমেছি। প্রধান আসামিসহ জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করা না হলে আগামীতে বৃহত্তর আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।’
আটোয়ারী পাইলট সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. ফজলুল করিম বলেন, ‘আমাদের দাবি লিসা হত্যাকা-ের মূল আসামি সাদকে আগামী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে পুলিশ গ্রেপ্তার করতে না পারলে আগামী মঙ্গলবার উপজেলার সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ করে রাখা হবে। একই সঙ্গে উপজেলা প্রশাসন ও থানার সামনে অবস্থান ধর্মঘট পালন করা হবে।’
আটোয়ারী থানার ওসি আব্দুর রাজ্জাক জানান, এ ঘটনায় স্কুলছাত্রীর বাবা তিনজনকে আসামি করে হত্যা মামলা করেছেন। এ মামলায় দুজন কিশোরকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। প্রধান সন্দেহভাজনকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।
পঞ্চগড়ে প্রেমের প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী সাদিয়া সামাদ লিসাকে হত্যার পর পুকুরে ফেলে দেওয়া হয়। গতকাল শুক্রবার তার লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় ৩ কিশোরকে আসামি করে একটি হত্যা মামলা হয়েছে। লিসা আটোয়ারী সরকারি পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ছাত্রী ও এলাকার আব্দুস সামাদের মেয়ে।
এ ঘটনায় মডেল পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির ছাত্র মো. আকাশ (১৫), খোশবাজার মাদ্রাসার অষ্টম শ্রেণির ছাত্র মেহেদি হাসান মুন্না (১৪) ও দিনাজপুর স্কুলের অষ্টম শ্রেণির ছাত্র সাধকে সাবেক উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান কামরুজ্জামান গোলাপের বাড়িতে আটকে রেখে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। শুক্রবার ভোরে বাড়ির পাশে চাচার পুকুরে লিসার মরদেহ ভেসে ওঠে। লাশ পাওয়ার খবর পেয়ে ভোরে তার বাড়ি থেকে পালিয়ে যায় সাদ। অন্য দুজনকে সকালে থানায় সোপর্দ করা হয়। এদিকে শুক্রবার রাতে জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে সমাহিত করা হয়েছে।
