ব্যবসা পরিচালনার জন্য ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ১৩ ডিজিটের মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট) নিবন্ধন গ্রহণ বা ইলেকট্রনিক বিজনেস আইডেন্টিফিকেশন নাম্বার (ই-বিআইএন) প্রাপ্তির লক্ষ্যে অনলাইনে যে আবেদন দাখিল করছে, সেসব আবেদনের একটি বড় অংশ যথাযথ কমিশনারেটে না গিয়ে ভিন্ন কমিশনারেটে চলে যাচ্ছে। এমতাবস্থায় যেসব আবেদন অধিক্ষেত্রভুক্ত কমিশনারেটে না গিয়ে ভিন্ন কমিশনারেটে যাচ্ছে, সেসব আবেদন দ্রুততার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অধিক্ষেত্রভুক্ত কমিশনারেটের কাছে পাঠানোর জন্য মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দিয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। এনবিআর গত সপ্তাহে এ সংক্রান্ত নির্দেশনা জারি করে মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তা বরাবর পাঠিয়েছে।
এনবিআরের সদস্য (ভ্যাট বাস্তবায়ন ও আইটি) জামাল হোসেন গতকাল সোমবার বাসসকে বলেন, আমরা প্রায় লক্ষ করছি অনলাইনে ভ্যাট নিবন্ধন আবেদনের একটি বড় অংশ সংশ্লিষ্ট কমিশনারেটে না গিয়ে ভিন্ন কমিশনারেটে চলে যাচ্ছে। আবেদনকারীরা মূলত ভুলবশত এটা করছে। এতে তাদের নিবন্ধন পেতে দেরি হচ্ছে। তিনি বলেন, আবেদনকারীর ভুলের কারণে এটা হলেও আমরা আবেদনটি সংশ্লিষ্ট কমিশনারের দপ্তরে দ্রুততার সঙ্গে পৌঁছে দিতে এই নির্দেশনা জারি করেছি। যাতে ব্যবসায়ীরা স্বল্প সময়ে ভ্যাট নিবন্ধন পেতে পারেন।
তিনি বলেন, যেসব আবেদনপত্র ভিন্ন অধিক্ষেত্রভুক্ত কমিশনারেটে চলে যাচ্ছে, সেটি সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পাঠানো (রিরোর্ট) প্রয়োজন। কিন্তু অনেক ক্ষেত্রে আবেদনগুলো পাঠানো হচ্ছে না এবং দীর্ঘদিন কমিশনারের দপ্তরে পড়ে থাকছে। এজন্য আবেদন পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কমিশনারের দপ্তরে পাঠানোর নির্দেশনা জারি করা হয়েছে। এনবিআরের এই সদস্য জানান, বোর্ডের কর্মকর্তারা পরিদর্শনকালে যদি দেখতে পান এ ধরনের আবেদন কোনো দপ্তরে পড়ে আছে বা সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পাঠানো হয়নি, তাহলে সেই দপ্তরের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সব ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানকে করজালের আওতায় আনা, অস্তিত্বহীন বা ভুয়া নিবন্ধন বন্ধ এবং নিবন্ধন গ্রহণের প্রক্রিয়াকে স্বচ্ছ, দ্রুততর ও হয়রানিমুক্ত করার লক্ষ্যে এনবিআর অনলাইন নিবন্ধন ব্যবস্থা চালু করে। ১১ ডিজিটের পুরনো ভ্যাট নিবন্ধন বাতিল করে সব ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানের জন্য অনলাইনে ১৩ ডিজিটের ই-বিআইএন গ্রহণ বাধ্যতামূলক করা হয়।
