প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ চান শিক্ষার্থীরা

আপডেট : ২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ০২:২৯ এএম

উপাচার্য অধ্যাপক ড. খোন্দকার নাসিরউদ্দিনের পদত্যাগ দাবিতে আন্দোলনরত বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বশেমুরবিপ্রবি) শিক্ষার্থীরা বিষয়টিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন। গতকাল সোমবার আমরণ অনশন ও আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা এ দাবি করেন। আবাসিক হলগুলোতে পানি, খাবার ও বিদ্যুতের কোনো ব্যবস্থা না থাকলেও উপাচার্যের নানা অনিয়ম-দুর্নীতি, নারী কেলেঙ্কারি এবং বাকস্বাধীনতায় হস্তক্ষেপের প্রতিবাদে তার পদত্যাগের এক দফা দাবিতে পঞ্চম দিনের মতো আন্দোলন করেন শিক্ষার্থীরা। ইউজিসিকে চলমান অবস্থার প্রকৃত কারণ জানাতে বলেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।

রবিবার রাত ও সোমবার বৃষ্টি উপেক্ষা করেই প্রশাসনিক ভবনের সামনে অবস্থান বজায় রাখেন শিক্ষার্থীরা। আমাদের বশেমুরবিপ্রবি প্রতিনিধি শাফিউল কায়েস জানান, বিশ্ববিদ্যালয় ও হল বন্ধে থাকায়

 

 

 

 বিপাকে পড়েছেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। হলে পানি, খাবার ও বিদ্যুতের কোনো ব্যবস্থা নেই। শিক্ষার্থীদের শুকনা খাবার খেয়ে থাকতে হচ্ছে। তবুও আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন শিক্ষার্থীরা।

পরিবেশ বিজ্ঞান ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা (ইএসডি) বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী সাকিব ইয়াসার বলেন, ‘আমাদের একটাই দাবিÑ উপাচার্যের পদত্যাগ। প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপে উপাচার্যের পদত্যাগ ছাড়া আমরা আন্দোলন থেকে সরে যাব না।’

তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার প্রফেসর ড. নূরউদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘এ ব্যাপারে শিক্ষা মন্ত্রণালয় একটা তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। ভিসি স্যার পদত্যাগ করবেন কি না এ ব্যাপারে কিছু জানি না।’

শাফিউল কায়েস জানান, গত রবিবার গোপালগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠন শিক্ষার্থীদের সঙ্গে একাত্মতা ঘোষণা করায় উপাচার্যবিরোধী আন্দোলন আরও বেগবান হয়। শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার প্রতিবাদে ওইদিন দুপুরে পদত্যাগ করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর হুমায়ুন কবির।

এদিকে চলমান আন্দোলনের দ্বিতীয় দিন থেকে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের প্রাথমিক চিকিৎসাসেবা দিয়ে যাচ্ছে ‘ধরিত্রী গ্রুপ অব বাংলাদেশ’ নামের একটি সংগঠন। সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা মো. গোলাম রাব্বানী বলেন, ‘চলমান উপাচার্যের পদত্যাগ দাবিতে আন্দোলন এবং আমরণ অনশনরত শিক্ষার্থীরা না খেয়ে থাকার ফলে পানিশূন্যতাসহ বিভিন্ন শারীরিক সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন। যার কারণে আমরা এই বিনামূল্যে প্রাথমিক চিকিৎসাসেবা অব্যাহত রেখেছি।’

গত শনিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন গোবরা এলাকায় আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর ভিসিপন্থি গু-াবাহিনী হামলা করে। এতে চার ক্যাম্পাস সাংবাদিকসহ অন্তত ২০ শিক্ষার্থী আহত হন। ওই ঘটনায় বিজ্ঞান অনুষদের ডিন আব্দুর রহিম খানকে প্রধান করে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে পাঁচ কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত রিপোর্ট জমা দিতে বলা হয়েছে।

ইউজিসিকে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা

বশেমুরবিপ্রবির অস্থির অবস্থার কারণ জানতে চেয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) কাছে এ বিষয়ে তথ্য চাওয়া হয়েছে। গতকাল মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের যুগ্ম সচিব মো. আলী রেজা স্বাক্ষরিত একটি নির্দেশনা জারি করা হয়েছে।

নির্দেশনায় বলা হয়েছে, বশেমুরবিপ্রবির ছাত্ররা বিভিন্ন দাবি আদায়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে সমবেত হয়ে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করছে বলে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। এ বিষয়ে প্রকৃত ঘটনা এবং বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে সামগ্রিক তথ্যাদি ইউজিসির মাধ্যমে সংগ্রহ করে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগকে অবহিত করার জন্য নির্দেশক্রমে অনুরোধ করা হলো।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত