শিবচরে পদ্মার ভাঙনে স্কুল নদীগর্ভে, ৮ শতাধিক শিক্ষার্থীর পাঠদান অনিশ্চিত

আপডেট : ২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ০৮:১৮ পিএম

পদ্মার ভয়াবহ ভাঙনের শিকার চরাঞ্চলের শতাধিক বাড়িঘর, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও হাটবাজার ও ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সেসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা।

গত কয়েকদিন ধরে পদ্মায় অস্বাভাবিক হারে পানি বৃদ্ধির ফলে ২য় দফা ভাঙনে মাদারীপুরের শিবচরের চরাঞ্চলের একমাত্র প্রাথমিক বিদ্যালয় মাগুর খণ্ড সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়টি নদীগর্ভে বিলীন হয়।

এছাড়া আড়িয়াল খা তীরবর্তী সন্নাসীরচর ও শিরুয়াইল ইউনিয়ন দুটিও ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

পদ্মায় ক্ষতিগ্রস্ত স্থানীয়রা ও  কাঠালবাড়ি ইউনিয়নের ইউপি সদস্য নওয়াব ফকির জানান, পদ্মার পানি বৃদ্ধির ফলে ২দফা ভাঙনে নদীগর্ভে বিলীন হয় কাঠালবাড়ি ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডের মাগুরখন্ড সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়টি। বিদ্যালয়টি ভাঙনের কারণে এলাকার প্রায় ৮শতাধিক শিশু প্রাথমিক শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। দ্রুত এই বিদ্যালয়টির কার্যক্রম শুরু করতে না পারলে শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ লেখাপড়া অনিশ্চিত হয়ে পড়বে। বিদ্যালয়টি ভেঙে যাওয়ায় শিশুদের লেখাপড়া নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন অভিভাবকেরা।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আক্কাস আলী বলেন, বিদ্যালয়টিতে ৭৬০ জন ছাত্র ছাত্রী পড়ালেখা করতো। নদী গর্ভে চলে যাওয়ায় ছাত্র ছাত্রীদের পড়ালেখা ব্যাহত হচ্ছে। তবে আমরা চেষ্টা করছি এক সপ্তাহের মধ্য এলাকার অন্য একটি চরে একটি ছাপড়া তুলে ক্লাস শুরু করার।

এ ব্যাপারে শিবচর উপজেলা  প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মো. রফিকুল ইসলাম জানান, বিদ্যালয়টি নদীগর্ভে চলে যাওয়ায় শিক্ষার্থীদের খুব সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। তবে দীর্ঘ দিন যাতে পড়াশুনা  ব্যাহত না হয় আমরা  সে ব্যাপারে দ্রুত পদক্ষেপ নেব।

শিবচর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) মো. আল নোমান বলেন, গত কয়েকদিন ধরে পদ্মা নদীতে ভাঙন ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। আমরা নিয়মিত ভাঙন কবলিত এলাকা পরিদর্শন করেছি। একটি প্রাথমিক বিদ্যালয় নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। ভাঙন রোধে আমাদের চেষ্টার কোন ত্রুটি নেই।

মাদারীপুর জেলা প্রশাসক মো. ওয়াহিদুল ইসলাম জানান, নদী ভাঙন রোধে কাজ করতে পানি উন্নয়ন বোর্ডকে বলা হয়েছে। তবে নদী ভাঙনে যারা ক্ষতিগ্রস্থ তাদের সরকারি সহযোগিতা করা হবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত