মার্কিন বিনিয়োগকারীদের বাংলাদেশের সঙ্গে থাকার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

আপডেট : ২৭ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ০২:০৪ এএম

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশের আরও উন্নয়নের জন্য অধিকতর মার্কিন বিনিয়োগ ও সম্পৃক্ততা চেয়ে বলেছেন, এটি হবে দু’দেশের জন্য একটি ‘উইন-উইন অপশন’।

তিনি বলেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে আমাদের দ্বিতীয় বৃহত্তম বাণিজ্য অংশীদার ও বৃহত্তম বিনিয়োগ অংশীদার হিসেবে দেখতে পেয়ে আমি আনন্দিত।

শেখ হাসিনা গতকাল নিউইয়র্কের লোট নিউইয়র্ক প্যালেস হোটেলে ইউএস চেম্বারস অব কমার্স আয়োজিত ‘মধ্যাহ্নভোজ গোলটেবিল বৈঠক’-এ বক্তৃতা করছিলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, যখন চতুর্থ শিল্প বিপ্লব আমাদের দরজায় কড়া নাড়ছে, তখন অভিন্ন সুবিধা ও সমৃদ্ধির জন্য আমাদের অভিযাত্রায় আপনাদের থাকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

তিনি বলেন, এ ধরনের লাভজনক পারস্পরিক সহযোগিতা আমাদের মধ্যকার বিদ্যমান বন্ধুত্বকে আরও জোরদার করে স্থায়ী বন্ধুত্বে রূপ দেবে।

শেখ হাসিনা বলেন, দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে বাংলাদেশের বিনিয়োগনীতি সবচেয়ে উদার। এর বহুবিধ সুবিধার মধ্যে কয়েকটি হলো– আইনের মাধ্যমে বিদেশি বিনিয়োগের সুরক্ষা; উদার ট্যাক্স হলিডে; যন্ত্রপাতি আমদানির ড়্গেত্রে রেয়াতি শুল্ক; অবাধ ও এক্সিট নীতি; এক্সিটের ড়্গেত্রে লভ্যাংশ ও মূলধনের পূর্ণ প্রত্যর্পণ।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশে সংসদের প্রাসঙ্গিক আইন ও দ্বিপক্ষীয় বিনিয়োগ চুক্তি দ্বারা বিদেশি বিনিয়োগ সংরক্ষিত। বাংলাদেশ ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র একটি ‘দ্বিপক্ষীয় বিনিয়োগ চুক্তি’ ও ‘দ্বৈত করারোপ সমঝোতা’ স্বাক্ষর করেছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশ দেশের বিভিন্ন স্থানে ওয়ানস্টেপ সুবিধা সংবলিত ১০০টি বিশেষায়িত অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠা করছে।

তিনি বলেন, এগুলোর মধ্যে এক ডজন প্রস্তুত রয়েছে এবং চারটি তিন দেশকে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনী উদ্যোগের জন্য বেশকিছু হাইটেক পার্কও প্রস্তুত হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২০০৯ সালে তার সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে বাংলাদেশে প্রত্যক্ষ বৈদেশিক বিনিয়োগের অব্যাহত বৃদ্ধি বাংলাদেশের ওপর বৈদেশিক বিনিয়োগকারীদের বর্ধমান আস্থারই প্রতিফলন।

তিনি বলেন, এমনকি, বাংলাদেশে মার্কিন বিনিয়োগ গত পাঁচ বছরে এক বিলিয়ন মার্কিন ডলার ছাড়িয়েছে। যদিও অর্থনৈতিক ও কারিগরি সক্ষমতার বিচারে এটি মার্কিন বিনিয়োগ সম্ভাবনার অনেক কম।

শেখ হাসিনা বলেন, কৌশলগত অবস্থার কারণে বাংলাদেশ আঞ্চলিক ইকোনমিক হাব হওয়ার বিপুল সম্ভাবনাময়। পশ্চিমে ভারত, উত্তরে চীন, পূর্বে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া এবং নিজের সাড়ে ১৬ কোটি জনসংখ্যা নিয়ে বাংলাদেশ ৪০০ কোটি লোকের একটি সম্মিলিত বাজারের মাঝখানে অবস্থিত।

তিনি বলেন, যেহেতু বাণিজ্যের জন্য আঞ্চলিক সংযোগ খুবই গুরুত্বপূর্ণ, সেহেতু প্রতিবেশী ও পুরো অঞ্চলের সঙ্গে ভৌতভাবে সংযুক্ত হওয়ার জন্য সার্ক, বিমসটেক, বিবিআইএন ও বিসিআইএন-ইসির আওতায় বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।

খবর: বাসস।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত