ভবন নির্মাণে ১ কোটি ৮০ লাখ টাকার দুর্নীতি

আপডেট : ৩০ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ০১:৪৮ এএম

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মাতা ফজিলাতুন্নেছা মুজিবের নামে চক্ষু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউটের আওতায় চারতলা ভবন নির্মাণে ১ কোটি ৮০ লাখ ৪১ হাজার ৯৬৫ টাকার দুর্নীতির প্রমাণ পেয়েছে বাংলাদেশ কম্পট্রোলার অ্যান্ড অডিটর জেনারেল। দুর্নীতির এমন তথ্য সংসদীয় কমিটিতে উত্থাপিত হলে ক্ষোভ ও বিস্ময় প্রকাশ করা হয়। এ অডিট আপত্তি নিষ্পত্তির জন্য মন্ত্রণালয় ও প্রধান প্রকৌশলী সুপারিশ করলেও অডিট বিভাগ নারাজি দিয়েছে।

গতকাল রবিবার সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত সরকারি হিসাব সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠক থেকে এসব তথ্য জানা যায়। ২০১১-১২ আর্থিক বছরের নিরীক্ষায় দুর্নীতির এমন সব তথ্য উঠে আসে।

বৈঠকে উত্থাপিত কার্যপত্র থেকে জানা যায়, শেখ হাসিনার মাতা ফজিলাতুন্নেছা মুজিব চক্ষু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউটের নার্সদের জন্য ৮০০ বর্গফুটের কোয়ার্টার নির্মাণকাজে দ্বিতীয় রেস্পন্সিভ করে প্রথম দর দাখিলকারীকে সংশোধন করে দ্বিতীয় নি¤œদর অপেক্ষা উচ্চমূল্যে চুক্তি সম্পাদন করা হয়েছে। এতে সরকারের ক্ষতি হয়েছে ১ কোটি ৮০ লাখ ৪১ হাজার ৯৬৫ টাকা।

নিরীক্ষায় দেখা যায়, এ কাজে মো. আব্দুল খালেক ৮ কোটি ৬৪ লাখ ৩৫ হাজার ৪২ টাকা সর্বনি¤œ দরদাতা ছিলেন। দ্বিতীয় দরদাতা ডেল্টা অ্যান্ড বেনজির কনস্ট্রাকশনের দরপত্র মূল্য ছিল ৯ কোটি ৭৯ লাখ ৬৩ হাজার ৮০ টাকা। কিন্তু কর্র্তৃপক্ষ অনিয়মিতভাবে দ্বিতীয় দরপত্র নন রেস্পন্সিভ করে দরপত্রের মূল্য সংশোধন করে উচ্চ দরে মোহাম্মদ আব্দুল খালেকের সঙ্গে ১০ কোটি ৬৪ লাখ ৭৭ হাজার ৭ টাকায় চুক্তি সম্পাদন করে। তবে দরপত্রসমূহ নিরীক্ষায় তা উপস্থাপন হয়নি।

বৈঠকে বলা হয়, পাবলিক প্রকিউরমেন্ট আইন ২০০৬-এর আইন (৬৪)(১) অনুযায়ী ক্রয় কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কোনো কর্মকর্তা বা কর্মচারী এ আইন বিধি লঙ্ঘন করে কোনো কার্যক্রয় করতে পারবে না। কিন্তু তারা এ আইনের ব্যত্যয় ঘটিয়েছেন।

বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, উক্ত অনিয়মের বিষয়ে ২০০৩ সালের ৪ আগস্ট সচিব বরাবর অগ্রিম অনুচ্ছেদ জারি করা হয়। পরে ২০১৩ সালে ১ অক্টোবর তাগিদপত্র ইস্যু করা হয় এবং সর্বশেষ ২০১৩ সালের ১৪ নভেম্বর আধাসরকারি পত্র জারি করা হয়। সর্বশেষ জবাবে ঘটনার বর্ণনা দিয়ে গণপূর্ত অধিদপ্তরের কার্যালয় এ অডিট

নিষ্পত্তির আবেদন করে। সেই সূত্র ধরে মন্ত্রণালয়ও অনুরোধ করে। কিন্তু অডিট অধিদপ্তর তা প্রত্যাখ্যান করেছে। নিরীক্ষার সুপারিশে বলা হয়েছে, সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণসহ দায়দায়িত্ব নির্ধারণপূর্বক তাদের কাছ থেকে এ টাকা আদায় করা প্রয়োজন।

বৈঠকে কমিটির স্বতন্ত্র সভাপতি সংসদ সদস্য মো. রুস্তম আলী ফরাজী বলেন, চলমান প্রকল্পগুলোতে যেন দুর্নীতি না হয় সেজন্য টেন্ডার প্রক্রিয়ায় শতভাগ স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে হবে। প্রধানমন্ত্রী দুর্নীতির বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ঘোষণা করেছেন।

মো. রুস্তম আলী ফরাজীর সভাপতিত্বে কমিটির সদস্য আবুল কালাম আজাদ, মো. আফছারুল আমীন, মো. শহীদুজ্জামান সরকার, র আ ম উবায়দুল মোকতাদির চৌধুরী, জহিরুল হক ভূঞা মোহন, আহসানুল ইসলাম টিটু, মুস্তফা লুৎফুল্লাহ, ওয়াসিকা আয়েশা খান, মো. জাহিদুর রহমান বৈঠকে অংশ নেন। বৈঠকে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সচিব, গণপূর্ত অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী, সিএজি কার্যালয়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

 

 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত