সোনা আমদানির লাইসেন্স চায় ৪২ প্রতিষ্ঠান

আপডেট : ০১ অক্টোবর ২০১৯, ১১:১১ পিএম

বিদেশ থেকে বৈধ পথে সোনা আমদানি করতে মোট ৪২টি প্রতিষ্ঠান লাইসেন্সের আবেদন করেছে। দেশের প্রতিষ্ঠিত জুয়েলারি ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান ছাড়াও দুটি বাণিজ্যিক ব্যাংক সোনা আমদানির ডিলার লাইসেন্স পেতে বাংলাদেশ ব্যাংকে আবেদন করেছে। বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

ডিলার লাইসেন্সের জন্য ৪২টি প্রতিষ্ঠান ৫ লাখ টাকার ব্যাংক ড্রাফটসহ আবেদন করেছে, যা বাংলাদেশ ব্যাংক এখন যাচাই-বাছাই করছে। লাইসেন্সের জন্য আবেদনের শেষ দিন ৩০ সেপ্টেম্বর নির্ধারণ করা হলেও চলতি সপ্তাহ পর্যন্ত আবেদন জমা নেওয়া হবে বলে বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্র জানিয়েছে। এতে করে আবেদনকারীর সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে ধারণা করছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। সোনা আমদানির জন্য অথরাইজড ডিলারশিপের জন্য নতুন প্রজন্মের মধুমতি ব্যাংকসহ দুটি ব্যাংক আবেদন জানিয়েছে। এর বাইরে ডিলার লাইসেন্সের জন্য আবেদন করা জুয়েলারি প্রতিষ্ঠানগুলো হচ্ছেÑ বাংলাদেশ জুয়েলারি সমিতির (বাজুস) সভাপতি গঙ্গাচরণ মালাকারের ভেনাস জুয়েলার্স, সাধারণ সম্পাদক দিলীপ কুমার আগারওয়ালার ডায়মন্ড ওয়ার্ল্ড, ভাইস প্রেসিডেন্ট এনামুল হক খানের শারমিন জুয়েলার্স, সাবেক সভাপতি কাজী সিরাজুল ইসলামের আমিন জুয়েলার্স, সাবেক সভাপতি ড. দিলীপ কুমার রায়ের গ্রামীণ জুয়েলার্স, জড়োয়া জুয়েলার্সসহ ৪০টি জুয়েলারি প্রতিষ্ঠান।

দেশে সোনা আমদানির লাইসেন্স দিতে চলতি বছরের ১৯ মার্চ ব্যাংক, ব্যক্তি মালিকানাধীন কোম্পানি, যৌথ মালিকানাধীন ও লিমিটেড কোম্পানির কাছে আবেদনপত্র বিতরণ শুরু করে বাংলাদেশ ব্যাংক। সোনা আমদানির জন্য বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক প্রণীত গাইডলাইন অনুসারে আবেদন করতে হবে। লাইসেন্সের জন্য আবেদনের সঙ্গে অফেরতযোগ্য ৫ লাখ টাকার পে-অর্ডার ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে আবেদন করতে বলা হয়। তবে নির্ধারিত সময়ে পর্যাপ্তসংখ্যক আবেদন জমা না পড়ায় চলতি সপ্তাহ পর্যন্ত আবেদন জমা নেবে বলে বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্র জানিয়েছে।

আবেদনের নীতিমালায় বলা হয়, সোনা আমদানির জন্য বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে ‘গোল্ড ডিলার লাইসেন্স’ নিতে হবে। আবেদনকারী প্রতিষ্ঠানের ন্যূনতম মূলধন থাকতে হবে ১ কোটি টাকা। সোনা রক্ষণাবেক্ষণের জন্য বুলিয়ান ভল্টের ব্যবস্থা থাকতে হবে। আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানের কমপক্ষে ৭৫০ বর্গফুটের একটি অফিস থাকতে হবে। সব শর্ত মেনে লাইসেন্স পাওয়া প্রতিষ্ঠান আমদানির পর সর্বোচ্চ ১০ শতাংশ কমিশনসহ বিক্রি করতে পারবে। নীতিমালা অনুসারে সোনা আমদানির ক্ষেত্রে ডিলারদের মূল্য সংযোজন কর ছাড়া অন্য কোনো কর দিতে হবে না। সোনা আমদানি-রপ্তানি সংক্রান্ত কর নীতিমালার জন্য জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) আলাদা আদেশ জারি করবে।

ইতিমধ্যে যেসব আবেদন জমা পড়েছে সেগুলোর কাগজপত্র যাচাই-বাছাইয়ের পাশাপাশি সরেজমিন পরিদর্শন করছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। শর্ত অনুযায়ী সব ঠিক রয়েছে কি-না তা দেখা হচ্ছে। এরই মধ্যে কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের ভল্ট, নিরাপত্তা ব্যবস্থাসহ বিভিন্ন তথ্য যাচাই শেষ হয়েছে বলে জানা গেছে।

এতদিন পর্যন্ত দেশে সোনা আমদানির কোনো নীতিমালা ছিল না। দেশে যত সোনা আমদানি হয়েছে, তার সবই অবৈধ পথে, বিশেষ করে লাগেজের মাধ্যমে চোরাই পথে আমদানি করা হতো। এখন সোনা আমদানির লাইসেন্স পেলে প্রতিষ্ঠানগুলো বৈধ পথে বিদেশ থেকে সরাসরি আমদানি করতে পারবে। দেশে সবচেয়ে বেশি সোনা চোরাচালান হয় দুবাই থেকে। এখন বৈধ পথে আমদানি হলে জুয়েলারি রপ্তানির সুযোগও তৈরি হবে বলে মনে করছেন কর্মকর্তারা।

দেশে প্রায় ৪২ টন সোনার চাহিদা রয়েছে। বর্তমানে একজন যাত্রী কোনো কর ছাড়াই ১০০ গ্রাম সোনা বহন করতে পারেন। আর ২৩৪ গ্রাম সোনা বহনের জন্য তাদের এনবিআরের ব্যাগেজ রুল অনুসারে কর দিতে হয়।

সোনা আমদানির জন্য বাংলাদেশ ব্যাংক যে লাইসেন্স দেবে, তার মেয়াদ থাকবে দুই বছর। ২ লাখ টাকা ফি দিয়ে অন্যান্য শর্ত পরিপালন সাপেক্ষে লাইসেন্স নবায়ন করা যাবে। ২০১৮ সালের অক্টোবরে সোনা আমদানি-রপ্তানি নীতিমালার অনুমোদন দেয়।

আমদানির কোনো নীতিমালা না থাকায় চলতি বছরের জুনে অবৈধ সোনা বৈধ করতে সোনা করমেলার আয়োজন করে এনবিআর। সে সময় প্রতি ভরি সোনায় ১ হাজার টাকা কর দিয়ে তা বৈধ করার সুযোগ দেওয়া হয়। এছাড়া কাট ও পোলিসড ডায়মন্ড বৈধ করতে ক্যারেটপ্রতি ৬ হাজার টাকা ও প্রতি ভরি রুপার জন্য ৫০ টাকা কর নির্ধারণ করা হয়। এ প্রক্রিয়ায় দেশের জুয়েলারি ব্যবসায়ীরা অবৈধ সোনা বৈধ করে নেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত