যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে নিয়ে বিতর্ক নতুন নয়। তার কথাবার্তা, চালচলন কোনোটিই এর বাইরে নয়। আলোচনার খোরাক হচ্ছেন নিয়মিত। এ নিয়ে রাজনৈতিক জটিলতাও কম হচ্ছে না। বেশ কয়েকবার মনে হয়েছিল এই বুঝি কংগ্রেসে ইমপিচমেন্ট বা অভিশংসনের মুখে পড়ছেন। বাঁচতে বাঁচতে শেষ পর্যন্ত ইমপিচমেন্টের মুখে পড়তেই হলো তাকে। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে ট্রাম্পের ফোন কল নিয়ে এবারের বিতর্ক। প্রতিনিধি পরিষদ বা হাউজ অব রিপ্রেজেনটেটিভসের স্পিকার ন্যান্সি পেলোসি আনুষ্ঠানিক তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন সম্প্রতি। জেনে নিন ঘটনাটির খুঁটিনাটি। লিখেছেন ওয়াহিদ সুজন
ইমপিচমেন্ট বা অভিশংসন কী
যুক্তরাষ্ট্রের স্থপতিরা ক্ষমতার ভারসাম্য রক্ষায় ইমপিচমেন্টের ধারা যুক্ত করেন সংবিধানে, যার মাধ্যমে কংগ্রেস কোনো অন্যায্য ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে প্রেসিডেন্টকে সরিয়ে দিতে পারে। ১৭৮৭ সালে ফিলাডেলফিয়ায় অনুষ্ঠিত সাংবিধানিক সভায় এই নিয়ে উত্তপ্ত বিতর্ক হয়। শেষে প্রতিনিধিরা একমত হন যে, ‘রাষ্ট্রদ্রোহিতা, ঘুষ নেওয়া অথবা অন্য কোনো গুরু কিংবা লঘু অপরাধে’ প্রেসিডেন্টকে সরিয়ে দেওয়া যাবে।
ইমপিচমেন্টের প্রক্রিয়া শুরু হতে হবে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি পরিষদ বা হাউজ অব রিপ্রেজেনটেটিভস থেকে। এটি মার্কিন কংগ্রেসের একটি অংশ।
প্রক্রিয়া শুরু করার জন্য সেখানে সাধারণ সংখ্যাগরিষ্ঠতায় প্রস্তাব পাস হতে হবে। পাস হলে পরের ধাপে সিনেটে বিচার অনুষ্ঠিত হবে, যা কংগ্রেসের দ্বিতীয় অংশ। এখানে সিনেটররা বিচারক বা জুরি হিসেবে কাজ করবেন। তারাই সিদ্ধান্ত নেবেন প্রেসিডেন্ট দোষী কি নির্দোষ। আর প্রেসিডেন্টকে তার পদ থেকে সরিয়ে দিতে হলে দুই-তৃতীয়াংশ সিনেটরকে ইমপিচমেন্টের পক্ষে ভোট দিতে হবে।
ইমপিচমেন্টে যুক্তরাষ্ট্রে কোনো প্রেসিডেন্ট পদচ্যুত হননি, বা যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে এখনো কোনো প্রেসিডেন্টকে ইমপিচমেন্টের কারণে পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়নি। মাত্র দুজন প্রেসিডেন্টকে ইমপিচ করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল। তারা হলেন অ্যান্ড্রু জনসন ও বিল ক্লিনটন। কিন্তু তাদের কাউকেই দোষী সাব্যস্ত করে পদ থেকে সরিয়ে দেয়নি সিনেট।
দেশটির গৃহযুদ্ধের পরে ১৮৬৮ সালে অ্যান্ড্রু জনসনের বিরুদ্ধে ইমপিচমেন্টের প্রস্তাব আনা হয়।
এর ১৩০ বছর পর মনিকা লিউনস্কি বিতর্কের সূত্র ধরে বিল ক্লিনটনের বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠে। দুই ক্ষেত্রেই হাউজ আনুষ্ঠানিকভাবে প্রেসিডেন্টের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনে, ইমপিচ করে। কিন্তু সিনেট তাকে দোষী সাব্যস্ত ও পদ থেকে সরাতে ব্যর্থ হয়। তবে একজন প্রেসিডেন্টকে তার পদ থেকে সরিয়ে দেওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছিল। ওয়াটারগেট কেলেঙ্কারির সূত্র ধরে ১৯৭৪ সালে রিচার্ড নিক্সনের বিরুদ্ধে ইমপিচমেন্টের প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার আগেই তিনি পদত্যাগ করেন। ধারণা করা হয়েছিল, শেষ পর্যন্ত পদ থেকে তাকে সরিয়ে দেওয়া সম্ভব হতো।
ডোনাল্ড ট্রাম্পের ইমপিচমেন্ট দশার আগে
হালের বিতর্কের আগে একাধিকবার ইমপিচমেন্টের আশঙ্কায় পড়েন ডোনাল্ড ট্রাম্প। নির্বাচনে অর্থ ব্যয় নিয়ে ২০১৮ সালের আগস্টে তিনি সংবাদ শিরোনাম হন। তার নির্বাচনী দলের সাবেক দুই সদস্য আইন ভঙ্গ করেছিলেন। তাদের মধ্যে একজন ট্রাম্পের সাবেক আইনজীবী মাইকেল কোহেন। তিনি অভিযোগ করেছেন যে নির্বাচনে অর্থ খরচ সম্পর্কিত আইন ভঙ্গ করেছেন ট্রাম্প। মুখ বন্ধ রাখার জন্য কয়েকজন নারীকে অর্থ দেওয়ার অভিযোগও ওঠে। সেই অভিযোগ অস্বীকার করেন ট্রাম্প।
এর আগে নির্বাচনে জেতার জন্য রাশিয়ার সঙ্গে আঁতাতের অভিযোগ ওঠে। এ প্রসঙ্গে দুই বছর ধরে বিচার বিভাগীয় তদন্ত চলেছে। ২০১৬ সালে ট্রাম্পের প্রচারণা বিষয়ক কর্মকর্তা ও তার ছেলের সঙ্গে কয়েকজন রাশিয়ানের সম্পৃক্ততার বিষয়ে তদন্তে বিস্তারিত উঠে এসেছে। যদিও শেষ পর্যন্ত ট্রাম্পের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল হয়নি।
অবশেষে ইমপিচমেন্ট
এবারের অভিযোগ বেশ বিচিত্র। সামনে আছেন বারাক ওবামার সময় মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন, যিনি আবার ২০২০ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ট্রাম্পের সম্ভাব্য প্রতিদ্বন্দ্বী। এতে জড়িয়ে পড়েছে যুক্তরাষ্ট্র থেকে পাঁচ হাজার মাইল দূরের দেশ ইউক্রেনের সঙ্গে তেল-গ্যাস ব্যবসার স্বার্থ।
অভিযোগ উঠেছে ট্রাম্প ইউক্রেনের ওপর চাপ সৃষ্টি করেছিলেন যেন তারা বাইডেন পরিবারের ‘দুর্নীতি’ নিয়ে তদন্ত করে, কারণ জো বাইডেনের ছেলে হান্টার রাশিয়ার পার্শ্ববর্তী দেশটির একটি গ্যাস কোম্পানির পরিচালক ছিলেন। ট্রাম্প স্বীকার করেছেন জুলাই মাসে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির জেলেনস্কির সঙ্গে ফোনে কথা বলার সময় জো ও হান্টারের ‘দুর্নীতির’ প্রসঙ্গ তুলেছিলেন। তবে চাপের কথা অস্বীকার করেছেন।
খবরটি বেরোনোর পরই ডেমোক্র্যাটদের কেউ কেউ ট্রাম্পের বিরুদ্ধে কংগ্রেসে ইমপিচমেন্টের প্রস্তাব আনতে শোরগোল তোলেন। অ্যাডাম শিফের মতো সিনিয়র ডেমোক্র্যাটও খেপে যান, যিনি এর আগে ইমপিচমেন্টের বিরোধী ছিলেন। শিফের মতে, ট্রাম্প এ ক্ষেত্রে হয়তো সীমা লঙ্ঘন করেছেন।
জানা যায়, ২০১৪ সালে জো বাইডেন আমেরিকার ভাইস প্রেসিডেন্ট ও ইউক্রেনের ব্যাপারে মার্কিন নীতি কী হবে তার একজন মুখ্য নির্ধারক ছিলেন। আর ঠিক সে সময়ই তার ছেলে হান্টার বাইডেন ইউক্রেনের প্রাকৃতিক গ্যাস কোম্পানি বুরিসমার একজন পরিচালক হিসেবে যোগ দেন। তখনই প্রশ্ন উঠেছিল মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্টের ছেলে যদি ইউক্রেনের একটি গ্যাস কোম্পানির পরিচালক হন- এ ক্ষেত্রে বাইডেন পক্ষপাতহীনভাবে সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন কি না।
তখন ইউক্রেন রাজনৈতিক পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছিল। রাশিয়াপন্থি প্রেসিডেন্ট সদ্য ক্ষমতাচ্যুত হয়েছেন। সেই সময়টা জো বাইডেন ঘন ঘন ইউক্রেন সফরে যান। ২০১৬ সালে সে দেশে সরকারের ওপর চাপ দিয়েছিলেন যাতে তারা তাদের শীর্ষ কৌঁসুলি ভিক্টর শোকিনকে বরখাস্ত করে। বাইডেন নিজেই বেশ গর্ব করে এই চাপ দেওয়ার কথা স্বীকার করেন এক বক্তৃতায়। এ চাপের কারণ হলো বুরিসমা কোম্পানির মালিকের দুর্নীতির তদন্ত করছিলেন শোকিন। ট্রাম্প ও তার মিত্রদের অভিযোগ, বাইডেন ছেলেকে সুরক্ষা দেওয়ার জন্যই এ কাজ করেন। তবে জো বাইডেন বলেন, ছেলের সঙ্গে কখনো তার ব্যবসা নিয়ে কথা বলেননি।
মার্কিন গণমাধ্যমে বলছে, ফোনকলটি শুরুর আগে ভারপ্রাপ্ত দপ্তর প্রধানকে ইউক্রেনে সামরিক সহায়তা অন্তত এক সপ্তাহ বন্ধ রাখতে বলেন ট্রাম্প।
ট্রাম্পের বিরুদ্ধে তথ্য ফাঁসেই এই ইমপিচমেন্ট
নিজের পরিচয় গোপন রেখে কোনো দুর্নীতি বা গোয়েন্দা তথ্য যারা সংবাদমাধ্যমকে দেয় তাদের বলে হুইসলব্লোয়ার, যে শব্দটি উইকিলিকসের কারণে আজকাল খুবই পরিচিত। সম্প্রতি একজন গোয়েন্দা হুইসলব্লোয়ার অভিযোগ করেন, ট্রাম্পের সঙ্গে একজন বিদেশি নেতার কথা হয়েছে এবং সেখানে কিছু একটা অঙ্গীকার করা হয়েছে। মূলত গোয়েন্দা সংস্থার এই সদস্য আনুষ্ঠানিক অভিযোগ তুললে বিতর্কটি সামনে আসে।
অভিযোগটি মার্কিন কংগ্রেসের হাতে তুলে দেওয়ার কথা। কিন্তু সপ্তাহ খানেক আগে খবর বেরোয় যে ট্রাম্প প্রশাসন অভিযোগটি হস্তান্তর করতে দিচ্ছে না। মার্কিন আইন অনুযায়ী কোনো অভিযোগ জরুরি ও বিশ্বাসযোগ্য বিবেচিত হলে সাত দিনের মধ্যে তা কংগ্রেসকে জানাতে হবে।
এ নিয়ে ট্রাম্প নিরাপদ অবস্থানে থাকতে চাইছেন। তিনি জানান, ২৫ জুলাই ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কিকে অভিনন্দন জানানোর জন্যই ফোন করেন। তবে তাতে বাইডেন ও তার ছেলের নাম এবং দুর্নীতির কথা উল্লেখ ছিল না। আর এই সব কথা বলে অন্যায় কিছু করেননি।
যদিও ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল জানাচ্ছে, হান্টার বাইডেনের ব্যাপারে তদন্তের জন্য ট্রাম্প প্রায় আটবার জেলেনস্কির প্রতি আহ্বান জানান। এই নিয়ে ট্রাম্প বলেন, ‘ভুয়া খবর ছড়ানো গণমাধ্যম বলছে আমি নাকি ইউক্রেনের প্রেসিডেন্টকে টেলিফোনে কমপক্ষে আটবার চাপ দিয়েছি। যার কাছে থেকে এসব কথা এসেছে তিনি আলাপের বিষয়ে সরাসরি কিছু বলতে পারেননি। এটি ডেমোক্র্যাট আর গণমাধ্যমের পাতানো চাল।’ তথ্য ফাঁসকারী গোয়েন্দার দেশপ্রেম নিয়েও প্রশ্ন তোলেন ট্রাম্প।
এই স্বীকার-অস্বীকারের মাঝে প্রশ্ন ওঠে, একজন ক্ষমতাসীন প্রেসিডেন্ট সম্ভাব্য নির্বাচনী প্রতিদ্বন্দ্বীর পরিবারের ব্যাপারে তদন্ত করার জন্য অন্য একটি দেশের নেতাকে আহ্বান জানাতে পারেন? এ ঘটনার জন্য ট্রাম্পকে কি ইমপিচ করা যায়?
ইমপিচমেন্টের জন্য ন্যান্সি পেলোসির তদন্ত
ডেমোক্র্যাটরা প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে ইমপিচমেন্টের জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে তদন্ত শুরু করেছে। শীর্ষ ডেমোক্র্যাট নেতা ও স্পিকার ন্যান্সি পেলোসি বলেন, ট্রাম্প ‘আইন ভঙ্গ করেছেন’ ও তার কাজ ‘সাংবিধানিক দায়িত্বের লঙ্ঘন’। সেপ্টেম্বরের শেষ সপ্তাহে বলেন, ‘এই সপ্তাহে প্রেসিডেন্ট স্বীকার করেছেন যে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্টকে পদক্ষেপ নিতে বলার বিষয়টি তাকে রাজনৈতিকভাবে লাভবান করবে।’ এর জন্য ট্রাম্পকে জবাবদিহির অধীনে আনতে হবে বলে উল্লেখ করেন।
এদিকে বাইডেন অনৈতিক কার্যকলাপের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। ট্রাম্প তদন্তে সহযোগিতা না করলে তিনিও ইমপিচমেন্টকে সমর্থন করবেন বলে জানান। বাইডেনের মতে, ‘ট্রাম্পকে ইমপিচমেন্ট করা হবে ট্র্যাজেডি।’
এরপরই ধারাবাহিক কয়েকটি টুইটে ট্রাম্প দাবি করেন, ডেমোক্র্যাটরা ‘উদ্দেশ্যমূলকভাবে তার জাতিসংঘ সফর বানচাল’ করার উদ্দেশ্যে এই ধরনের অভিযোগ ছড়াচ্ছে। কারণ তারা এখনো ফোনালাপের ট্রানস্ক্রিপ্ট দেখেনি। বুধবার ফোনালাপের লিখিত প্রকাশ করবেন বলেও জানান।
হাউজের রিপাবলিকান নেতা কেভিন ম্যাকার্থি বলেন, ‘স্পিকার পেলোসি এই হাউজের স্পিকার হলেও এই বিষয়ে কথা হলে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে কথা বলেন না।’ সঙ্গে যোগ করেন ‘অভিশংসনের তদন্তের বিষয়টি তিনি এককভাবে সিদ্ধান্ত নিতে পারেন না।’
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি তদন্ত সংস্থার পরিচালক জোসেফ ম্যাগওয়াইর কংগ্রেসে ফোনালাপ ফাঁসকারী ব্যক্তির রিপোর্ট পেশ করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। তবে নিউ ইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ফোনালাপ ফাঁসকারী আইনপ্রণেতাদের সঙ্গে কথা বলার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন এবং হোয়াইট হাউজ ও গোয়েন্দা সংস্থার কর্মকর্তারা ওই ব্যক্তিকে কংগ্রেসে কথা বলার সুযোগ করে দেওয়ার চেষ্টা করছেন।
এরপর কী হবে?
পেলোসির ঘোষণার মাধ্যমে মার্কিন প্রেসিডেন্টের সঙ্গে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্টের ফোনালাপের বিষয়ে তদন্ত করার আনুষ্ঠানিক অনুমতি পেয়েছে তদন্ত কমিটি। কমিটি যাচাই করছে এটি কতটা গুরুতর অপরাধ। পেলোসি জানান, অন্যান্য বিষয়ে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে কংগ্রেসের আরও ছয়টি কমিটির যে তদন্ত চলছে তা চলমান থাকবে। হাউস অব রিপ্রেজেনটেটিভস পর্যন্ত গেলে এটি সহজেই পাস হয়ে যাবে যেহেতু সেখানে সংখ্যাগরিষ্ঠতা ডেমোক্র্যাটদের। এরপর এটি সিনেটে যাবে, যেখানে রিপাবলিকানরা রয়েছেন নিয়ন্ত্রণে এবং সেখানে পাস হতে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রয়োজন হবে।
ব্রিটিশ সংস্থা ইউগভের একটি জরিপে দেখা যায়, জো বাইডেনের বিষয়ে তদন্ত করার জন্য ইউক্রেনের কর্মকর্তাদের ওপর জোর প্রয়োগ করেছিলেন ট্রাম্প- এটি যদি প্রমাণিত হয়, তবে ৫৫ শতাংশ আমেরিকান ইমপিচমেন্ট সমর্থন করবেন।
যদি ইমপিচমেন্টে ট্রাম্পকে সরিয়ে দেওয়া হয়, তবে তার জায়গায় স্বয়ংক্রিয়ভাবে চলে আসবেন ভাইস প্রেসিডেন্ট মাইক পেন্স। তিনি প্রেসিডেন্টের বর্তমান মেয়াদ পূরণ করবেন, যা শেষ হবে ২০২১ সালের ২০ জানুয়ারি। যুক্তরাষ্ট্রে ক্ষমতাসীন প্রেসিডেন্টের বিরুদ্ধে কোনো ফৌজদারি অভিযোগ আনা যায় না। তবে পদ থেকে অপসারণের পর সে বাধা থাকে না।
বলা হচ্ছে, নির্বাচনের এক বছর বাকি থাকতে এই ইমপিচমেন্টের ঘোষণা কংগ্রেস ও প্রেসিডেন্টের মুখোমুখি অবস্থান গভীরভাবে বিভক্ত করেছে যুক্তরাষ্ট্রকে। যার প্রভাব সুদূরপ্রসারী।
সাম্প্রতিক দুই আলোচিত ইমপিচমেন্ট
যুক্তরাষ্ট্রের ইমপিচমেন্টের দিকে সবার মনোযোগ থাকলেও বিশ্ব রাজনীতিতে এটি কোনো বিরল ঘটনা নয়। সম্প্রতি মারা যাওয়া জিম্বাবুয়ের প্রেসিডেন্ট রবার্ট মুগাবে ২০১৭ সালের নভেম্বরে ইমপিচমেন্টের মুখে পড়েন। যার জের ধরে ৩৭ বছরের পদ তিনি ত্যাগের ঘোষণা দেন। যদিও এর এক সপ্তাহ আগে সেনাবাহিনী দেশটি নিয়ন্ত্রণ নিয়ে তাকে গৃহবন্দি করে।
২০১৬ সালের মে মাসে ব্রাজিলের রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্বে পালনকালে দিলমা রুসেফের বিরুদ্ধে অভিশংসন প্রক্রিয়ার শুনানি শুরু হয়। এরপরই সিনেটে ৬১-২০ ভোটের ব্যবধানে ক্ষমতাচ্যুত হন তিনি।
