বালিশের দাম নিয়ে নতুন খবর

ভুল হয়েছে ব্যবস্থা নেওয়া হবে : স্বাস্থ্যমন্ত্রী

আপডেট : ০৩ অক্টোবর ২০১৯, ০২:২৯ এএম

চট্টগ্রাম মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন প্রকল্পের বিভিন্ন সরঞ্জাম কিনতে অস্বাভাবিক ব্যয় প্রস্তাব ‘অবান্তর’ বলে মন্তব্য করেছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক। তিনি বলেন, এটা ভুল হয়েছে। ভবিষ্যতে যাতে এমন না হয়, সে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে কি নাÑসে প্রশ্ন এড়িয়ে গেছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী।  গতকাল বুধবার সকালে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি অনুষ্ঠানে যোগ দিতে গেলে এ বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের মুখে পড়েন।

গতকাল বুধবার ‘এবার বালিশ ২৭,৭২০ কাভার ২৮,০০০’ শিরোনামে দেশ রূপান্তরে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে বলা হয়, চট্টগ্রাম মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন প্রকল্পে ব্যয় প্রস্তাবে প্রতিটি বালিশের দাম ২৭ হাজার ৭২০ টাকা, বালিশের কাভারের দাম ২৮ হাজার টাকা ধরা হয়েছে। এছাড়া আরও অনেক জিনিসের অস্বাভাবিক দাম প্রস্তাব করা হয়েছে।

বালিশের প্রস্তাবিত দাম অনেক বেশি এবং এই প্রস্তাব তৈরিতে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে কি নাÑ সে প্রশ্নের জবাবে জাহিদ মালেক বলেন, ‘আমরা মনে করি, অবশ্যই এটা ভুল হয়েছে। এমন ভুল যাতে আগামীতে না হয়, সে ব্যবস্থা আমরা নেব।’ এ সময় আগামীতে কোনো অনিয়ম-দুর্নীতির সুযোগ রাখা হবে না বলে ঘোষণা দেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। এ প্রসঙ্গে চলমান ‘শুদ্ধি অভিযানের’ কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রী কঠোর অবস্থান নিয়েছেন, যেমন ক্যাসিনো বিষয়টি দেখছেন। উনি চাচ্ছেন উন্নয়নের সঙ্গে সঙ্গে মানসিক উন্নয়নটাও হোক। খালি টাকা-পয়সা হলেই একটা দেশ এগিয়ে যেতে পারবে না। মানসিকভাবে যদি আমরা ভালো না হই, আমাদের যদি নৈতিকতা না থাকে তাহলে পরে দেশ এগিয়ে যেতে পারবে না।’

সম্প্রতি পরিকল্পনা কমিশনে চট্টগ্রাম মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন প্রকল্পের মূল্যায়ন কমিটির (পিইসি) সভায় প্রকল্পটির সরঞ্জাম কিনতে অস্বাভাবিক ব্যয় প্রস্তাব নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে স্বাস্থ্য বিভাগের কাছে ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে। তদন্ত করে ডিপিপি প্রস্তুতে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করেছে। এর আগে কয়েক মাস আগে পাবনার রূপপুর পারমাণবিক কেন্দ্রের জন্য নির্মাণাধীন আবাসন প্রকল্পের আসবাবসহ অন্যান্য আনুষঙ্গিক কাজে ‘অস্বাভাবিক’ ব্যয়ের খবর সংবাদমাধ্যমে আসে। সেখানেও একটি বালিশের পেছনে ৬ হাজার ৭১৭ টাকা ব্যয় দেখানো হয়। এরপর প্রকল্পের নির্বাহী প্রকৌশলী মাসুদুল আলমকে প্রত্যাহার করা হয়।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের গতকালের অনুষ্ঠানে চিকিৎসকদেরও দায়িত্ব পালনে সতর্কতার পরামর্শ দিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেনÑ ‘একটি হাসপাতালে যদি গিয়া দেখি ডাক্তার নাই, পরিছন্নতা নাই, ওষুধ নাই, মেশিনটা নষ্ট হয়ে রয়েছে, তাহলে কিন্তু আমরা সেবা দিতে পারলাম না। এখানে কিন্তু এথিকসের বিষয় চলে আসে। এটাকে আমরা বলব পার্ট অব করাপশন।’

ডেঙ্গু নিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীদের আমরা সর্বোচ্চ চিকিৎসা দিতে পেরেছি, প্রায় এক লাখ রোগীকে সেবা দিয়েছি। আগামীতে ডেঙ্গু প্রতিরোধে বিশেষ পলিসি নেব যেন এবারের মতো সমস্যায় পড়তে না হয়।’ তিনি বলেন, দেশের উন্নয়নের জন্য গবেষণা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। বাংলাদেশ এ খাতে এখনো পিছিয়ে রয়েছে। কেননা আমাদের বাজেটে গবেষণার জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ করা হয় না। কিন্তু আগামী বাজেটে আমি নিজ দায়িত্বে গবেষণার জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ করব বলে আশ্বাস দিচ্ছি।

তিনি আরও বলেন, সম্প্রতি আমি সরকারি কাজে যে কয়টি দেশ ভ্রমণ করেছি, তার মধ্যে হাঙ্গেরির সঙ্গে আমাদের স্বাস্থ্য খাতের একটি গবেষণার চুক্তি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এটা হলে বিএসএমএমইউর সঙ্গে হাঙ্গেরির একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের চুক্তি হবে। তাছাড়া হাঙ্গেরি আমাদের দেশের ১০ জন এমবিবিএস পাস শিক্ষার্থীকে উচ্চশিক্ষার্থে স্কলারশিপ দেবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত