সাড়ে ৪ কোটি টাকার প্রকল্পে ভ্রমণ ব্যয় ২ কোটি

আপডেট : ০৩ অক্টোবর ২০১৯, ০২:২৯ এএম

দেশের মোট দেশজ উৎপাদনে (জিডিপি) অনানুষ্ঠানিক খাতের অবদান কেমন, তা জানতে জরিপ করা হবে। ৪ কোটি ৪৫ লাখ টাকার এই জরিপ প্রকল্পে ভ্রমণ খাতে ব্যয় প্রস্তাব করা হয়েছে প্রায় দুই কোটি টাকার। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) এই প্রস্তাব নিয়ে আপত্তি জানিয়েছে পরিকল্পনা কমিশন। সম্প্রতি এই প্রস্তাবের ওপর প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটির (পিইসি) সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। তাতে ব্যয় নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে তা কমিয়ে আনার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

পিইসি সভার কার্যপত্র থেকে জানা গেছে, জিডিপি প্রবৃদ্ধিতে অবদান হিসেবে আনুষ্ঠানিক খাতের হিস্যার তথ্য থাকলেও এই খাতের বিষয়ে কোনো তথ্য নেই। এর মধ্যে নিবন্ধনহীন প্রতিষ্ঠানে কর্মরত শ্রমিক কর্মচারী, অনিয়মিত শ্রমিক বা কৃষিকাজে নিয়োজিত ট্রাক্টারচালক, ধান মাড়াইয়ের শ্রমিক, কার্পেন্টার, মালামাল পরিবহন শ্রমিকের কোনো পরিসংখ্যান নেই। অথচ শ্রম জরিপ অনুসারে মোট শ্রমবাজারের ৫৬ শতাংশই নিয়োজিত অনানুষ্ঠানিত খাতে। জিডিপিতে তাদের অবদান ২০১০ সালের হিসাব অনুসারে ৪৩ শতাংশ। ২০১০ সালের পর এ খাতে আর কোনো জরিপ করা হয়নি। তাই এ খাতের প্রকৃত তথ্য জানার জন্য জরিপ প্রকল্প প্রস্তাব করা হয়েছে।

বিবিএস সূত্রে জানা গেছে, বিবিএস টেকনিক্যাল কমিটি জেলা ও মৌজাভিত্তিক জরিপ এলাকা নির্বাচন করবে। দেশের ছয় জেলা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা হবে। এজন্য স্থানীয় পর্যায়ে নারী-পুরুষ নিয়োগ দেওয়া হবে। এই জরিপ করতে মোট ৪ কোটি ৪৫ লাখ টাকার ব্যয় প্রাক্কলন করেছে বিবিএস। পরিকল্পনা কমিশন বলছে, এই ব্যয়ের মধ্যে ৪৪ শতাংশ দেশ-বিদেশে ভ্রমণ ব্যয় হিসাবে ধরা হয়েছে, যা দাঁড়ায় ১ কোটি ৯৫ লাখ টাকা। এই ব্যয় প্রস্তাব অযৌক্তিক। এ ছাড়া, প্রকল্পের আওতায় অন্যান্য ব্যয় নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। এর মধ্যে সুপারভাইজিং কর্মকর্তা, কো-অর্ডিনেটর এবং অন্যান্য মনিটরিং ও সুপারভাইজিং কর্মকর্তাদের জন্য প্রাক্কলিত ভাতা বাদ দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। পরিবহন খাতের ব্যয় কমিয়ে আনতে পরামর্শ দিয়ে বলা হয়েছে, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের কর্মকর্তাদের যেহেতু দাপ্তরিক যানবাহন রয়েছে, তাই নিজ নিজ অধিক্ষেত্রে নিজস্ব বাহনযোগে জরিপ তদারকি করতে পারবেন। এজন্য এ খাতের ব্যয় যৌক্তিকভাবে কমিয়ে আনার কথা বলা হয়েছে।

প্রকল্পের আওতায় স্টেশনারি সামগ্রী, সিল, স্ট্যাম্প খাতে ১৫ লাখ টাকা ব্যয় ধরা হয়েছে। মনিহারি খাতে ১০ লাখ টাকা বরাদ্দ ধরা হয়েছে। যদিও বিষয় দুটি একই। এ বিষয়ে পরিকল্পনা কমিশন আপত্তি তুলে একটি খাত বাতিল করেছে।

প্রশিক্ষণের নামে অতিরিক্ত ব্যয় ধরা হয়েছে জানিয়ে পরিকল্পনা কমিশন বলছে, একই ধরনের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে বিবিএস সব ধরনের জরিপ পরিচালনা করছে। অথচ প্রকল্পে বৈদেশিক প্রশিক্ষণ রাখা হয়েছে। দেশের অভ্যন্তরীণ প্রশিক্ষণ খাতে খরচ কমিয়ে এনে বৈদেশিক প্রশিক্ষণ বাতিল করেছে পরিকল্পনা কমিশন। এ ছাড়া প্রকল্পে পরামর্শক ও সার্ভে খাতে বড় অঙ্কের বরাদ্দ রাখা হয়েছে। দুটিকে এক করে ব্যয় কমিয়ে আনতে বলেছে পরিকল্পনা কমিশন।

সভায় প্রকল্পের আপ্যায়ন ব্যয় নিয়ে আলোচনায় বলা হয়, আপ্যায়ন খাতে অতিরিক্ত ব্যয় প্রস্তাব করা হয়েছে। প্রশিক্ষণে ও সভায় অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা এবং মাথাপিছু আপ্যায়ন ব্যয় অধিক হারে ধরা হয়েছে। হিসাব করে এই খাতের ব্যয় সরকারি নিয়ম অনুসারে কমিয়ে আনার প্রস্তাব করা হয়েছে।

এ বিষয়ে পরিকল্পনা কমিশনের আর্থ-সামাজিক বিভাগের সদস্য আবুল কালাম আজাদ বলেন, প্রকল্পে বৈদেশিক প্রশিক্ষণ ও বিদেশ ভ্রমণ বাতিল করা হয়েছে। এই জরিপে তা প্রয়োজন নেই । তিনি বলেন, প্রকল্পের অনেক খাতে অতিরিক্ত ব্যয় প্রস্তাব করা হয়েছে। তা কমিয়ে সংশোধিত প্রস্তাব পাঠানোর কথা বলা হয়েছে। প্রকল্প বিষয়ে পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের সচিব সৌরেন্দ্র নাথ চক্রবর্ত্তীর সঙ্গে বারবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত