বরগুনার আলোচিত শাহনেওয়াজ রিফাত (রিফাত শরীফ) হত্যা মামলায় পলাতক ৮ আসামির মালিকানাধীন মালামাল জব্দের আদেশ দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে মামলায় প্রধান অভিযুক্ত রিফাত ফরাজীসহ দুই জনের জামিন আবেদন করা হলে আদালতের বিচারক তা নামঞ্জুর করেন।
বৃহস্পতিবার বেলা ১১টায় চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক সিরাজুল ইসলাম গাজী এই আদেশ দেন। এ সময় মামলার পরবর্তী তারিখ ১৬ অক্টোবর নির্ধারণ করেন আদালতের বিচারক।
বাদী পক্ষের আইনজীবী অ্যাড. মজিবুল হক কিসুল বলেন, ‘মামলার ধার্য তারিখ থাকায় কারাগারে থাকা ৭ আসামিকে আদালতে হাজির করা হয়েছিল। এ সময় জামিনে থাকা মিন্নি ও আরিয়ান শ্রাবণও আদালতে হাজির হন। এ সময় প্রধান অভিযুক্ত রিফাত ফরাজী ও টিকটক হৃদয়ের জামিন আবেদন করা হলে শুনানি শেষে জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেন আদালত।
পরে রিফাত হত্যা মামলায় চার্জশিটভুক্ত পলাতক আসামি মোহাইমিনুল ইসলাম সিফাত, মুসা বন্ড, রিফাত হাওলাদার, রায়হান, নাঈম, রাকিবুল হাসান নিয়ামত, সাঈদ মারুফ বিল্লাহ ও প্রিন্স মোল্লার মাল ক্রোকের আদেশ দেন আদালত।
১ সেপ্টেম্বর রিফাত শরীফ হত্যা মামলায় রিফাতের স্ত্রী আয়শা সিদ্দিকা মিন্নিসহ ২৪ জনের বিরুদ্ধে বরগুনার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দেয় পুলিশ।
একই সঙ্গে রিফাত হত্যা মামলার ১ নম্বর আসামি নয়ন বন্ড কথিত বন্দুকযুদ্ধে নিহত হওয়ায় তাকে মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। এখন পর্যন্ত ১৫ জনকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়েছে পুলিশ। গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে ৬ কিশোর অপরাধী শিশু-কিশোর সংশোধনাগারে রয়েছে। এছাড়াও আয়শা সিদ্দিকা মিন্নিসহ জামিনে রয়েছেন ২ জন।
প্রসঙ্গত, গত ২৬ জুন সকাল সোয়া ১০টার দিকে বরগুনা সরকারি কলেজের সামনে সন্ত্রাসীরা প্রকাশ্যে রামদা দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর আহত করে রিফাত শরীফকে। তার স্ত্রী আয়শা সিদ্দিকা মিন্নি হামলাকারীদের সঙ্গে লড়াই করেও তাদের দমাতে পারেননি।
গুরুতর আহত রিফাতকে ওইদিন বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হলে বিকেলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। এ ঘটনায় রিফাতের বাবা দুলাল শরীফ বাদী হয়ে ১২ জনের নাম উল্লেখ ও পাঁচ-ছয় জনকে অজ্ঞাত আসামি করে বরগুনা থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
