গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলায় সেলিনা বেগম (৩৫) নামে এক গৃহবধূকে শ্বাসরোধ করে হত্যার পর গায়ে আগুন জ্বালিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ঘটনার পর তার স্বামী ময়নাল হোসেন (৪০) ও পরিবারের লোকজন পালিয়ে গেছে।
ঘটনাটি ঘটেছে বুধবার সাঘাটা উপজেলার ভরতখালী ইউনিয়নের চিথুলিয়া গ্রামে।
সাঘাটা থানার পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ১৫ বছর আগে সেলিনা বেগমের সঙ্গে ময়নাল হোসেনের বিয়ে হয়। বিয়েতে এক লাখ টাকা যৌতুকও দিয়েছিলেন সেলিনা বেগমের বাবা লাল মিয়া। ময়নাল হোসেন গ্রামেই কৃষি কাজ করেন। এর আগে বিভিন্ন সময়ে ঢাকায় গিয়ে শ্রমিকের কাজ করেছেন তিনি। গাঁজা নেশায় আসক্ত ছিলেন ময়নাল হোসেন।
এ নিয়েই দীর্ঘদিন ধরে তাদের মধ্যে কলহ চলছিল। সংসারে সাত বছর ও পাঁচ বছর বয়সের দুই ছেলে সন্তানও রয়েছে তাদের। সেলিনা বেগমের বাড়ি পার্শ্ববর্তী ফুলছড়ি উপজেলার গজারিয়া ইউনিয়নের কাতলামারী গ্রামে।
গত তিন দিন থেকে তাদের মধ্যে আবারও ঝগড়া শুরু হয়। গত বুধবার সকালে ময়নাল হোসেনের সাথে তার স্ত্রী সেলিনা বেগমের আবারও ঝগড়া শুরু হলে ক্ষিপ্ত হয়ে ময়নাল হোসেন সেলিনা বেগমকে মারধর করে ঘরের ভেতরে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেন। পরে সেলিনা বেগমের গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন জ্বালিয়ে দিয়ে দ্রুত পালিয়ে যান ঘটনাস্থল থেকে।
এ সময় ঘটনাটি দেখতে পেয়ে তার পরিবারের লোকজনও পালিয়ে যায়। ঘরে আগুন জ্বলতে দেখে স্থানীয়রা গিয়ে আগুন নিভিয়ে ফেলে ও পুলিশকে খবর দেয়। পরে পুলিশ গিয়ে লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।
ময়নাতদন্ত শেষে পরিবারের কাছে লাশ হস্তান্তর করে পুলিশ। শুক্রবার বিকেলে কাতলামারী গ্রামের বাবার বাড়িতে দাফন করা হয় সেলিনা বেগমকে।
চিথুলিয়া গ্রামের ইউপি সদস্য চান্দু মিয়া সরকার বলেন, এ ধরনের অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হওয়া প্রয়োজন।
লাল মিয়া বৃহস্পতিবার রাত ৮টায় কান্নাজড়িত কণ্ঠে মুঠোফোনে বলেন, মেয়েটার সংসার হওয়ার জন্য আমি বাড়ি করে দিয়েছি। বিভিন্ন সময়ে হাজার হাজার টাকাও দিয়েছি। ধান-চাল দিয়েছি। তারপরও মেয়েটার সংসার হলো না। আমি ময়নাল হোসেনের শাস্তি চাই। তার ফাঁসি হলেও আমি বিন্দুমাত্র কষ্ট পাবো না।
এ বিষয়ে সাঘাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. বেলাল হোসেন দেশ রূপান্তরকে বলেন, এ ঘটনায় সেলিনা বেগমের বাবা লাল মিয়া বাদী হয়ে ময়নাল হোসেনসহ কয়েকজনকে আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। ঘটনার তদন্ত করা হচ্ছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পাওয়ার পর হত্যার কারণ জানা যাবে। আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
