প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভারত সফরে যেসব চুক্তি করেছেন তাতে কোনো ভরসা নেই জানিয়ে গণফোরাম সাধারণ সম্পাদক রেজা কিবরিয়া বলেছেন, এই সরকারের ওপর আমাদের যেমন ভরসা নেই তেমনি দেশের মানুষেরও কোনো ভরসা নেই। দেশের জনগণের স্বার্থ রক্ষা করার মতো এই সরকারের দক্ষতা আছে কি না বা ইচ্ছা আছে কি না সেটা নিয়ে আমাদের সন্দেহ আছে। গতকাল শনিবার রাতে রাজধানীর বেইলি রোডে গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেনের বাসায় দলের প্রেসিডিয়াম সদস্যদের বৈঠকের পর সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন।
রেজা কিবরিয়া বলেন, চুক্তির পুরো বিষয়টা আমাদের জানা নেই। পানি বণ্টনের টেকনিক্যাল বিষয়গুলো না জেনে বলা যাবে না। এটা নিয়ে কিছু বলতে চাই না। সাধারণভাবে বলতে চাই বর্তমান সরকার দেশের মানুষের স্বার্থ রক্ষা করতে পুরোপুরি ব্যর্থ। পররাষ্ট্রনীতিতে পুরনো রোহিঙ্গা সমস্যা রয়েছে, পানি পাওয়ার ব্যাপারে, ব্যবসা-বাণিজ্য, ট্রানজিট বিষয়ে তারা ব্যর্থ। দেশের মাটিতে যেমন তারা ব্যর্থ, পররাষ্ট্রনীতিতেও তাদের ব্যর্থতা দেখা যায়।
‘শিগগিরই দেশে আর একটা নির্বাচন হবে’ সম্প্রতি দেওয়া এমন বক্তব্য কিসের ভিত্তিতে দিয়েছেন জানতে চাইলে গণফোরাম সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘একজাক্টলি ওভাবে আমি বলিনি। এই সরকারের প্রত্যেক খাতে যে ব্যর্থতা তাতে মোটামুটিভাবে রাষ্ট্র কলাপসের মধ্যে নিয়ে যাচ্ছে। ব্যাংক খাত, বাজেটে সরকারি কর্মচারীদের বেতন দিতে তারা হিমশিম খায়, তারা শুধু মানুষের কাছে সঞ্চয়পত্র বিক্রি করছে।’ তিনি বলেন, ‘ব্যাংকের অবস্থা তো সবাই জানেন। তারা প্রত্যেক ক্ষেত্রে যে ফেইল করছে, সেটা দেশের মানুষ আগে টের পায়নি, এখন তারা বুঝে গেছে যে এরা অদক্ষ এবং ব্যর্থ। আমার ধারণা যে হয়তো কোনো আন্দোলনের জন্য না, তাদের ব্যর্থতার জন্য তারাই ক্ষমতা ছেড়ে একটা সুষ্ঠু নির্বাচন দিয়ে মানুষকে সন্তুষ্ট করতে চেষ্টা করবে। আমার এখনো ধারণা সেটা খুব তাড়াতাড়ি হবে। কিন্তু যেভাবে বলা হয়েছে ঠিক সেভাবে আমি বলিনি।’
জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের বর্তমান অবস্থা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘নির্বাচনের আগে গণফোরাম সাধারণ সম্পাদক আর একজন ছিলেন। উনি ওনার মতো কাজ করেছেন। আমি আমার মতো করছি। ঠিক আগের মতো তো হবে না। আমাদের মধ্যে আলোচনা চলছে। এখনো বলতে পারব না। তবে এখন পর্যন্ত আমরা সবাই একই পথে আছি। এই ব্যর্থ সরকারকে সরানোর ব্যাপারে আমাদের কারও দ্বিমত নেই।’
জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের ব্যানারে ৩০ ডিসেম্বরের সমাবেশের বিষয়ে কী সিদ্ধান্ত হয়েছে জানতে চাইলে গণফোরাম সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘সেটা অনেক বড় আকারে হবে। তবে তার আগে অনেক কিছু ঘটতে পারে। হয়তো এই সরকার ক্ষমতায় থাকবে না। আমরা যা প্ল্যান করি আর আল্লাহ কী চান সেটা দেখাতে পারব না। সুতরাং সেটার অনেক সময় আছে। সেটা নিয়ে এখন কিছু ভাবছি না।’
চলমান দুর্নীতিবিরোধী অভিযান নিয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়েছে উল্লেখ করে রেজা কিবরিয়া বলেন, ‘চতুর্থ-পঞ্চম শ্রেণির কয়েকজন নেতা ধরলেই আমরা উৎফুল্ল হয়ে যাব এটা যেন সরকার না ভাবে। তারা প্রথম-দ্বিতীয়-তৃতীয় স্তরের নেতাদের যখন ধরতে শুরু করবে, যারা ব্যাংক-শেয়ারবাজার থেকে হাজার হাজার কোটি টাকা লুট করেছে, যারা বিলিয়নস অব ডলার বিদেশে পাচার করে নিয়ে গেছে তাদের বিরুদ্ধে যখন অ্যাকশন নেবে তখন আমরা স্বাগত জানাব।’
