ভারতে এলপিজি রপ্তানি করবে বেক্সিমকো, ওমেরা

আপডেট : ১০ অক্টোবর ২০১৯, ১১:৪৩ পিএম

ভারতের সঙ্গে স্বাক্ষরিত সমঝোতা চুক্তি অনুযায়ী দেশটিতে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) রপ্তানি করবে বাংলাদেশের ওমেরা পেট্রোলিয়াম ও বেক্সিমকো। এর মধ্যে ওমেরা পেট্রোলিয়াম আগে থেকেই আমদানি করা এলপিজি ত্রিপুরায় রপ্তানি করছে। শুরুতে ৫ থেকে ১৫ হাজার টন এলপিজি ত্রিপুরায় রপ্তানি করবে কোম্পানিটি। পরে বেক্সিকোও রপ্তানি শুরু করবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সম্প্রতি ভারত সফরে এলপিজি রপ্তানির বিষয়ে সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সই হয়েছে। ওই চুক্তি অনুযায়ী ইন্ডিয়ান অয়েল করপোরেশন লিমিটেড বাংলাদেশ থেকে এলপিজি আমদানি করে ভর্তুকি মূল্যে সরবরাহ করবে।

ওমেরা পেট্রোলিয়ামের এক কর্মকর্তা জানান, বাংলাদেশের দুই কোম্পানি বেক্সিমকো ও ওমেরার সঙ্গে ইন্ডিয়ান অয়েল করপোরেশনের চুক্তি হয়েছে। ত্রিপুরায় এলপিজি এখনই রপ্তানি করছে ওমেরা। বেক্সিমকো খুব শিগগিরই শুরু করবে।

তিনি জানান, মোংলা বন্দর দিয়ে এলপিজির কাঁচামাল আমদানি করা হচ্ছে। এর মধ্যে একটি অংশ ঘোড়াশালে নিয়ে গিয়ে প্রক্রিয়াজাত করে বোতলজাত করে দেশের মধ্যেই সরবরাহ করা হয়। আর অন্য অংশটি রোড ট্যাঙ্কারে করে ত্রিপুরা পাঠানো হয়। সেখানে যে প্ল্যান্ট আছে সেখানেই বোতলজাত করা হয়।

এখন ৪০ থেকে ৫০ টনের মতো এলপিজি রপ্তানি করছে ওমেরা। চুক্তির আওতায় প্রথম বছরে তারা ৫ থেকে ১৫ হাজার টন গ্যাস রপ্তানি করার পরিকল্পনা করছে। ভারতের এখন যে ফিলিং সেন্টার রয়েছে তার সক্ষমতা সর্বোচ্চ ১০ থেকে ১৫ হাজার টন। তাই এর বেশি এলপিজি এখন রপ্তানি করা যাবে না। ভারত তাদের ফিলিং সেন্টারের সক্ষমতা বাড়ালে তখন রপ্তানির পরিমাণও বাড়তে পারে।

জ্বালানি বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, বেক্সিমকো ও ওমেরা ছাড়া আরও কিছু কোম্পানি এলপিজি রপ্তানির বিষয়ে আবেদন করেছে। শুরুতে ওই দুই কোম্পানিকে অনুমতি দেওয়া হয়েছে। অন্য কোম্পানিগুলোর সক্ষমতা পর্যায়ক্রমে বিবেচনা করা হবে। বাংলাদেশে ৫৬টি এলপিজি প্ল্যান্ট নির্মাণের অনুমোদন দিয়েছে সরকার। এর মধ্যে ১৮টি বেসরকারি উদ্যোক্তা এলপিজি সরবরাহ করছে। বাংলাদেশে ৭ লাখ টন চাহিদার বিপরীতে কোম্পানিগুলোর সক্ষমতা রয়েছে ১০ লাখ টন। এ কারণেই রপ্তানিতে আগ্রহী বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো।

বিদেশ থেকে এলপিজির কাঁচামাল প্রপেন ও বিউটেন আমদানি করে বাংলাদেশের প্ল্যান্টগুলো। সেগুলো মিশ্রণ করে এলপিজি উৎপাদন করা হয়। এলপিজি রান্না ছাড়াও যানবাহনের জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার হয়। এলপিজির দাম পেট্রোলের তুলনায় কম, তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (সিএনজি) চেয়ে কিছুটা বেশি।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত