দুই সংগঠনকে একীভূত করার চেষ্টা ছিল জঙ্গিদের

আপডেট : ১২ অক্টোবর ২০১৯, ০৮:২৮ এএম

নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন আনসার আল ইসলাম ও নব্য জেএমবিকে একত্রিত করে শক্তিশালী প্ল্যাটফর্ম গড়ে তোলার চেষ্টা চলছিল জঙ্গিদের মধ্যে। এ কাজে সক্রিয় ছিলেন দক্ষিণ কোরিয়ার একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র মো. শাহীন আলম ওরফে ওমর। এ উদ্দেশ্যে দুপক্ষের মধ্যে যোগাযোগ রক্ষা করে আসছিলেন তিনি। তবে সেই চেষ্টা সফল হওয়ার আগেই শাহীনসহ আনসার আল ইসলামের চার সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কাউন্টার টেররিজম বিভাগ (সিটিটিসি)। গতকাল শুক্রবার দুপুরে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার ও সিটিটিসিপ্রধান মো. মনিরুল ইসলাম। সিটিটিসিপ্রধান বলেন, রাজধানীর যাত্রাবাড়ী এলাকা থেকে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে চারজনকে গ্রেপ্তার  করা হয়। শাহীন ছাড়া অন্যরা হলেন মো. সাইফুল ইসলাম, মো. হানিফুজ্জামান ওরফে বিপ্লব ও মো. আল মামুন। তাদের কাছ থেকে তিনটি চাপাতিসহ বিভিন্ন প্রশিক্ষণ উপকরণ জব্দ করা হয়।

মনিরুল ইসলাম বলেন, ‘গ্রেপ্তারকৃতরা নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন আনসার আল ইসলামের সক্রিয় সদস্য। তাদের কথিত শায়খের নির্দেশে তারা ট্রেনিং গ্রহণ করেছে। চারজনের নেতা মো. শাহীন আলম ওরফে ওমর। সে সাউথ কোরিয়ার আংশু ইউনিভার্সিটির এভিয়েশন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র। সে ফেইসবুকের মাধ্যমে একটি গ্রুপ তৈরি করে। পরবর্তী সময়ে এই গ্রুপটির সঙ্গে আনসার আল ইসলামের মূল নেতৃত্বের সংযোগ হয়। সে কিছুদিন আগে দেশে ফিরে আসে। দেশে ফিরে হিজরত করার জন্য আরও কিছু লোককে উদ্বুদ্ধ করে। শাহীন আলমের উদ্দেশ্য ছিল আনসার আল ইসলাম ও নব্য জেএমবিকে একই ব্যানারে বা প্ল্যাটফর্মে নিয়ে আসা যায় কি না। সেজন্য সে আনসার আল ইসলাম ও নব্য জেএমবির সঙ্গে যোগাযোগ করে আসছিল।’

সিটিটিসিপ্রধান বলেন, ‘এই গ্রুপটি সুন্দরবনের করমজল এলাকায় প্রথমে সাত দিনের ট্রেনিং নেয়। প্রশিক্ষণে তারা মূলত চাপাতি ব্যবহার করে। আগ্নেয়াস্ত্র থাকলেও ব্যবহার কম করেছে। বোমা ব্যবহারের প্রমাণ আমরা পাইনি। পরে বান্দরবানের আলীকদমে একটি জায়গা লিজ নেয়। সেখানে কফিশপের আড়ালে তারা আনসার আল ইসলামের কার্যক্রম ও ট্রেনিংয়ের কাজের জন্য ব্যবহার করে এবং তারা এক মাসের প্রশিক্ষণ গ্রহণ করে।’

গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের পরিচয় জানিয়ে তিনি বলেন, ‘শাহীন আলম ছাড়া বাকি তিনজনের একজন সাইফুল ইসলাম। সে একটি মাদ্রাসার ছাত্র এবং হানিফুজ্জামান ও আল মামুন কলেজ (এইচএসসি) ছাত্র। তারা বাড়ি থেকে পালিয়ে যায়। তাদের আদালতে নিয়ে আমরা রিমান্ড চাইব। রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদ করলে সংগঠনের সঙ্গে আরও কারা জড়িত তা জানা যাবে।’

মনিরুল ইসলাম বলেন, ‘এরা যেসব ডিভাইস ও শিক্ষা উপকরণ ব্যবহার করত আমরা সেগুলো সংগ্রহ করেছি এবং কথিত সেই শায়খকে গ্রেপ্তার ও চিহ্নিত করার চেষ্টা অব্যাহত আছে।’ তার সঙ্গে সেনাবাহিনী থেকে চাকরিচ্যুত মেজর জিয়ার কোনো সম্পর্ক রয়েছে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘কথিত শায়খকে গ্রেপ্তার করা গেলে জানা যাবে মেজর জিয়ার সঙ্গে তার কোনো সম্পর্ক আছে কি না।’

বর্তমানে মেজর জিয়া সাংগঠনিক কার্যক্রমে খুব বেশি সক্রিয় নয় জানিয়ে সিটিটিসিপ্রধান বলেন, ‘আমরা তাকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। সে এখন ততটা সক্রিয় রয়েছে বলে আমাদের কাছে তথ্য নেই। আমাদের যে গোয়েন্দা নেটওয়ার্ক আছে তাতে সে খুব বেশি অ্যাকটিভ থাকলে কোনো না কোনো তথ্য আমরা পেয়ে যেতাম।’

জঙ্গিরা কী উদ্দেশ্যে আবারও সংগঠিত হচ্ছিলÑ এ প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘দীর্ঘদিন যেহেতু তাদের কথিত টার্গেটকে হত্যা বা আক্রান্ত করতে পারেনি সেটির পাশাপাশি সরকারি সম্পত্তি ধ্বংসের একটা পরিকল্পনা ছিল তাদের।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত