ভারত নির্ভরতা কমাতে চীনের সঙ্গে রেল-টানেল নির্মাণে নেপাল

আপডেট : ১৪ অক্টোবর ২০১৯, ১২:৫৫ পিএম

নেপালে চীনের প্রেসিডেন্ট শি চিনপিংয়ের সফরের মধ্যে দিয়ে নতুন করে লেখা হতে যাচ্ছে কাঠমান্ডুর ইতিহাস। কিছু সংবাদমাধ্যম এই সফরকে ‘নবযুগের সূচনা’ হিসেবে দেখছে।

শি চিনপিংয়ের এই সফরে চীনের সঙ্গে নেপালের দুইটি গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি সম্পাদিত হয়েছে। এর ফলে ঐতিহাসিকভাবে ভারতের মিত্র দেশটি নয়াদিল্লি নির্ভরতা থেকে বেরিয়ে আসতে সক্ষম হবে।

রয়টার্স জানায়, রবিবার দুই দেশের মধ্যে আলোচনা হওয়া একাধিক চুক্তির মধ্যে অন্যতম হচ্ছে- তিব্বত থেকে নেপাল পর্যন্ত রেল যোগাযোগ এবং একটি টানেল নির্মাণ।

বেইজিংয়ের সঙ্গে এই যোগাযোগ বৃদ্ধির ফলে যে বাণিজ্যিক বিস্তৃতি ঘটবে, তার মধ্য দিয়ে মূলত ভারতীয় প্রভাব থেকে বেরিয়ে আসতে চায় হিমালয়ের দেশটি।

তিব্বতের গাইরন থেকে ৭০ কিলোমিটার এই রেলপথ নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডুকে যুক্ত করবে। প্রকল্পটিকে নেপালের সবচেয়ে উচ্চাভিলাষী অবকাঠামো উন্নয়ন হিসেবে দেখা হচ্ছে।

নেপালের অবকাঠামো এবং পরিবহন মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রাজেশ্বর জ্ঞাওয়ালি বলেন, ‘চীন এখন রেল প্রকল্পটির সম্ভাব্যতা যাচাই করছে এবং টানেল নির্মাণে সহায়তা করতে যাচ্ছে।’

এদিকে একটি চীনা দল ইতোমধ্যে এই প্রকল্প সম্পর্কিত প্রাথমিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা সম্পন্ন করেছে বলে জানা গেছে।

এই প্রকল্পটি বেইজিংয়ের ‘চীনা বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ’- এরই অংশ। এটির বাস্তবায়নকে চীনের সঙ্গে এশিয়া এবং ইউরোপকে যুক্ত করা পুরোনো সিল্ক রোড পুনর্নির্মাণের গুরুত্বপূর্ণ প্রচেষ্টা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

গত ২০১৫ এবং ২০১৬ সালে ভারত সীমান্ত বন্ধ করে দেওয়ায় জ্বালানি ও ওষুধ সংকটে পড়ে নেপাল। কয়েক মাসের সেই বিপর্যয় ভারতের বাইরে নতুন যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে তোলার ব্যাপারে ভাবতে বাধ্য করে কাঠমান্ডুকে।

চিনপিংয়ের এই সফরে দুই দেশের মধ্যে ২০টির মতো চুক্তি সম্পাদিত হয়েছে। এর মধ্যে আছে নেপালে একাধিক সড়ক নির্মাণসহ পানি সরবরাহ ও ঐতিহ্যবাহী চীনা ওষুধ রপ্তানি।

শনিবার কাঠমান্ডু পৌঁছেই এক ভোজ অনুষ্ঠানে শি চিনপিং বলেন, ‘ভূ-সংযুক্ত থেকে ভূ-সম্পৃক্ত দেশ হওয়ার নেপালের যে স্বপ্ন, সেটির বাস্তবায়নে আমরা সহায়তা করব।’

১৯৯৬ সালের পর এ প্রথম কোনো চীনা প্রেসিডেন্ট নেপালে সফর করেন। এদিন লালগালিচা সংবর্ধনাসহ সেনাবাহিনীর প্যারেড এবং সাংস্কৃতিক পরিবেশনার মাধ্যমে স্বাগত জানানো হয় চিনপিংকে।

চীনা প্রেসিডেন্টের দুই দিনের এই সফরে নেপালের ভবিষ্যৎ রাজনীতি গতিপ্রকৃতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন ঘটবে বলে ধারণা করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত