লড়াইটা ভারতের মাঠে। দেশটির ফুটবলের তীর্থভূমি কলকাতার বিখ্যাত সল্ট লেক স্টেডিয়ামে স্বাগতিকদের বিপক্ষে লড়বে বাংলাদেশ। যে লড়াইয়ে নামার আগে আত্মবিশ্বাসী কোচ জেমি ডের দল। লাল-সবুজের অধিনায়ক জামাল ভূঁইয়া তো বলে দিলেন, ভারতীয়দের হৃদয় ভাঙতে চান তিনি। ভারতের বিপক্ষে জয়ে দেশের ফুটবল বদলে যাবে বলেও মন্তব্য করেন এই ডেনমার্ক প্রবাসী ফুটবলার।
২০২২ বিশ্বকাপ ও ২০২৩ এশিয়ান কাপের যৌথ বাছাইয়ে মঙ্গলবার মুখোমুখি হবে দুই প্রতিবেশী দেশ। বিবেকানন্দ যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গন নামে পরিচিত বিখ্যাত সল্ট লেক স্টেডিয়ামে ভারত-বাংলাদেশ ‘ই’ গ্রুপের ম্যাচটি মাঠে গড়াবে স্থানীয় সময় সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায়।
তার আগে সোমবার দুপুরে হয়ে যায় আনুষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলন। যেখানে ফিফা র্যাঙ্কিংয়ে ৮৩ ধাপ এগিয়ে থাকা ভারতের বিপক্ষে লড়াইয়ের প্রত্যয় ঝড়ে বাংলাদেশ অধিনায়ক জামালের কণ্ঠে।
ম্যাচটার গুরুত্ব উল্লেখ করে জামাল বলেন, ‘যদি আমরা জিততে পারি, আমাদের ফুটবলে কিছু পরিবর্তন আসবে। ভারতের ফুটবল অনেক বড় বড় প্রতিষ্ঠানের সহায়তা পাচ্ছে। কিন্তু আমাদের সেটার অভাব আছে। তাই দেশের ফুটবলের উন্নতিতে ম্যাচটা আমাদের জন্য বড় একটা সুযোগ হবে। বিশেষ করে পৃষ্ঠপোষকদের আকৃষ্ট করার ব্যাপারে।’
ফিফা র্যাঙ্কিংয়ে ভারতের অবস্থান এখন ১০৪। বাংলাদেশ আছে ১৮৭ তম স্থানে। দুই দলের পার্থক্যটা এখানে বেশ ফুটে ওঠে। তবে ঘরের মাঠে র্যাঙ্কিংয়ে আরো এগিয়ে থাকা কাতারের বিপক্ষে লড়াই করে বাংলাদেশ নিজেদের সামর্থ্য জানান দিয়েছে ঠিক আগের ম্যাচেই।
এদিকে সল্ট লেক স্টেডিয়ামের ভরা গ্যালারি নিয়েও ভাবতে হচ্ছে বাংলাদেশকে। ৬০ হাজার দর্শক ধারণ ক্ষমতার স্টেডিয়ামের পুরো সাপোর্টই থাকবে ভারতের পক্ষে। গ্যালারি যে পুরো ভরা থাকবে, তার আভাস মিলেছে টিকিটের চাহিদা থেকেই।
তবে জামাল ভূঁইয়া সেটি নিয়ে ভাবছেন না, ‘আমাদের ওপর কোনো চাপ নেই। চাপ ভারতের ওপর। ওরা নিজেদের মাঠে খেলবে। আমি ছেলেদের বলেছি মাঠে যাও, নিজেদের সেরাটা দাও।’
ভারতের হৃদয় ভাঙার কথা উল্লেখ করে এই ২৯ বছর বয়সী মিডফিল্ডার বলেন দেন, ‘হ্যাঁ, অবশ্যেই ভারত ফেভারিট। তবে আমি আগামীকাল ভারতীয়দের হৃদয় ভাঙতে চাই।’
পরিসংখ্যান বলছে, ভারতের বিপক্ষে সর্বশেষ দুই দেখায় ড্র করেছে বাংলাদেশ। ২০১৪ সালে আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচে ২-২ গোলে ড্র হয় দুই দলের ম্যাচ। ২০১৩ সালে সাফে ম্যাচের ফল ছিল ১-১। সব মিলে ভারতের সঙ্গে ২৪ বারের দেখায় বাংলাদেশের জয় মাত্র ৩টিতে। ড্র ১০ টি, হার ১১ ম্যাচে। ২০০৩ সালে ভারতকে সেমিফাইনালে হারিয়েই পরে সাফে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল বাংলাদেশ।
বাছাই পর্বের দ্বিতীয় রাউন্ডে বাংলাদেশ ও ভারত দুই দলই এখন পর্যন্ত ২টি করে ম্যাচ খেলেছে। ভারত নিজেদের প্রথম ম্যাচে ওমানের সঙ্গে ২-১ গোলে হারলেও দ্বিতীয় ম্যাচে ড্র করে শক্তিশালী কাতারের বিপক্ষে।
বাংলাদেশ দুই ম্যাচ খেলে এখনো পয়েন্টের দেখা পায়নি। আফগানিস্তানের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচে ০-১ গোলে হার জামালদের। দ্বিতীয় ম্যাচে কাতারের বিপক্ষে দারুণ লড়াই করেও হারে ০-২ গোলে।
পাঁচ দলের গ্রুপে কোনো পয়েন্টের দেখা না পাওয়া বাংলাদেশ সবার নিচে। ভারত ঠিক একধাপ ওপরে ১ পয়েন্ট নিয়ে।
