দেশের ক্রিয়াশীল প্রগতিশীল গণসংগঠনসমূহের নেতৃবৃন্দ গতকাল মঙ্গলবার এক যৌথ বিবৃতিতে ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের স্বার্থবিরোধী সকল অসম চুক্তি বাতিল, বুয়েটের ছাত্র আবরার ফাহাদের হত্যাকারীদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত এবং ক্যাসিনো বাণিজ্য, দুর্নীতি, সন্ত্রাস ও দখলদারি বন্ধের দাবি জানিয়েছেন। বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ বলেন, প্রধানমন্ত্রী সাম্প্রতিক ভারত সফরে সে দেশের ক্ষমতাসীন সরকারের সঙ্গে ৭টি চুক্তি, সমঝোতা স্মারক ও যৌথ ঘোষণায় স্বাক্ষর করে এসেছেন। এসব চুক্তি ও সমঝোতায় বাংলাদেশের অনুকূলে কোন কথা নেই। প্রধানমন্ত্রীর এবারের সফরে বাংলাদেশের মানুষ আশা করেছিল দীর্ঘ দিনের কাঙ্ক্ষিত তিস্তা নদীর পানি বণ্টন এবং বাংলাদেশের ন্যায্য হিস্যা আদায়, রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে ফেরত পাঠাতে
ভারত সরকারের কার্যকর ভূমিকা গ্রহণ, সীমান্তে বিএসএফের হত্যাযজ্ঞ বন্ধ ও সেখানে চলমান এনআরসি কর্মসূচি সম্পর্কে ভারতের বক্তব্য প্রভৃতি বিষয়ে সুস্পষ্ট ঘোষণা থাকবে। কিন্তু বাস্তবে ভারত সরকার সেদিকে না গিয়ে কৌশলে বাংলাদেশের মানুষের কাঙ্ক্ষিত বিষয়সমূহকে উপেক্ষা করে মৌখিক দায়সারা আশ্বাস দিয়েছে। তাও আবার যৌথ ঘোষণায় স্থান পায়নি। পক্ষান্তরে ফেনী নদীর পানি ভারতকে দেওয়া, বাংলাদেশের আমদানি করা এলপিজি গ্যাস সিলিন্ডারে করে ভারতের কাছে রপ্তানি করা, দেশের উপকূলীয় এলাকায় অন্তত বিশটি স্ট্রাটিজিক পয়েন্টে ভারতের রাডার স্থাপনসহ ভারতকে এক পাক্ষিক সুবিধা দেয়া হয়েছে। বাংলাদেশের স্বার্থবিরোধী এ সকল অসম চুক্তি অবিলম্বে বাতিল করতে হবে। ভারতের মোদি সরকারের সঙ্গে স্বাক্ষরিত এ সকল চুক্তি দুই দেশের জনগণের ভাতৃত্বপূর্ণ সম্পর্ককে ক্ষতিগ্রস্ত করবে।
বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ আরও বলেন, এ সকল অসম চুক্তির বিরোধিতা করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে লেখায় বুয়েটের মেধাবী ছাত্র আবরার ফাহাদকে ছাত্রলীগের নেতারা নির্মম ভাবে পিটিয়ে হত্যা করেছে। ইতিপূর্বেও বিশ্বজিৎকে প্রকাশ্যে পিটিয়ে হত্যার পর জনমতের চাপে ছাত্রলীগের সেই সব খুনিদের ধরা হয়েছিল। কিন্তু অচিরেই হত্যাকারিরা খালাস পেয়ে যায়। এবারও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ সারা দেশে মানুষ তীব্র প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করায় কয়েকজন আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাকিদের কি হবে বা গ্রেপ্তারকৃতরা ছাড়া পেয়ে যাবে কিনা এ বিষয়ে জনগণ সন্দিহান। এ কারণে প্রগতিশীল গণসংগঠনসমূহ আবরার ফাহাদের হত্যাকারীদেরও সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করার জোর দাবি জানাচ্ছে। একই সঙ্গে নেতৃবৃন্দ ছাত্রলীগের বেপরোয়া সন্ত্রাসের দায়কে আড়াল করে বুয়েটে ছাত্র রাজনীতি বন্ধের যে ঘোষণা দেয়া হয়েছে তারও তীব্র নিন্দা জানিয়ে অবিলম্বে ছাত্র রাজনীতির ওপর থেকে সকল ধরনের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছেন।
বিবৃতিতে সংগঠন সমূহের নেতৃবৃন্দ আরও বলেন, ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতা কর্মীরা সারা দেশে যে বেপরোয়া সন্ত্রাস, দখলদারি, চাঁদাবাজি, লুটপাটের স্বর্গরাজ্য বানিয়ে রেখেছে তার খুব সামান্যই আমাদের সামনে আসছে। যুবলীগের নেতাদের ক্যাসিনো বাণিজ্য, টেন্ডারবাজির ঘটনা ইতিমধ্যে দেশবাসি অবগত হয়েছে। কত শত কোটি টাকা একেকজন নেতার রয়েছে তা দেখে জনগণ বিস্মিত, উদ্বিগ্ন। লুটপাটের এ সাম্রাজ্য কত বিস্তৃত ও ভয়ংকর তা ভাবলেও গা শিউরে ওঠে। সরকারের বিভিন্ন পর্যায় থেকে প্রত্যক্ষ প্রশ্রয় পেয়েই এসব সাম্রাজ্য গড়ে উঠেছে। অনতিবিলম্বে সর্বগ্রাসী এ দুর্নীতি, সন্ত্রাস ও দখলদারি বন্ধ করতে হবে। অন্যথায় জনমনে যে তীব্র ক্ষোভ দানা বেঁধেছে তা বিক্ষোভে পরিণত হয়ে সরকারবিরোধী গণ-আন্দোলনে রূপ নিবে। এসব দাবিতে প্রগতিশীল গণসংগঠনসমূহের যৌথ উদ্যোগে আগামী ১৭ অক্টোবর দেশব্যাপী বিক্ষোভ সমাবেশ এবং ১৯ অক্টোবর ঢাকায় কেন্দ্রীয় কর্মসূচি হিসেবে শাহবাগে বিকেল ৪টায় সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে।
যে সকল সংগঠনের নেতৃবৃন্দ বিবৃতিতে স্বাক্ষর করেন- বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন, বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী, বাংলাদেশ যুব ইউনিয়ন, বাংলাদেশ কৃষক সমিতি, বাংলাদেশ খেতমজুর সমিতি, প্রগতি লেখক সংঘ, কেন্দ্রীয় খেলাঘর আসর, গার্মেন্টস শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্র, বাংলাদেশ হকার্স ইউনিয়ন, গণতান্ত্রিক আইনজীবী সমিতি, ইঞ্জিনিয়ার্স অ্যান্ড আর্কিটেক্টস ফর এনভায়রনমেন্ট, ডক্টরস ফর হেলথ অ্যান্ড এনভায়রনমেন্ট, বাংলাদেশ প্রাইভেট কারস ড্রাইভারস ইউনিয়ন, রণেশ দাশগুপ্ত চলচ্চিত্র সংসদ।
