পেনাল্টি বঞ্চনার ম্যাচে ড্রয়ে সান্ত্বনা বাংলাদেশের

আপডেট : ১৫ অক্টোবর ২০১৯, ১০:০৭ পিএম

প্রথমার্ধে সাদ উদ্দিনের গোলে এগিয়ে গিয়েছিল বাংলাদেশ। দ্বিতীয়ার্ধে সেই লিড ধরে রেখে ফিফা র‌্যাঙ্কিংয়ে ৮৩ ধাপ এগিয়ে থাকা ভারতের বিপক্ষে জয় দেখছিল বাংলাদেশ। কিন্তু শেষ মুহূর্তে গোল হজম করে হৃদয় ভেঙেছে জেমি ডের দলের।

মঙ্গলবার ২০২২ বিশ্বকাপ ও ২০২৩ এশিয়ান কাপের যৌথ বাছাইয়ে ‘ই’ গ্রুপের ম্যাচটিতে ড্র নিয়ে মাঠ ছাড়তে হয়েছে বাংলাদেশকে। ১-১ সমতায় শেষ হয় দুই দলের ম্যাচ। দুর্দান্ত হেডে আদিল খান গোল আদায় করে রক্ষা করেছেন স্বাগতিক ভারতকে।

বিবেকানন্দ যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গন নামে পরিচিত কলকাতার বিখ্যাত সল্ট লেক স্টেডিয়ামে ম্যাচটি মাঠে গড়িয়ে ছিল বাংলাদেশ সময় রাত ৮টায়। বাংলাদেশ ব্যবধান বাড়ানোর একাধিক সুযোগ পেলেও তা কাজে লাগাতে পারেননি ফরোয়ার্ডরা। তবে প্রথমার্ধে দু-দুটি পেনাল্টি বঞ্চিত হয়েছে বাংলাদেশ। রেফারি সিদ্ধান্ত দিয়েছেন ভারতের পক্ষে।

এই ম্যাচ দিয়ে আট বছর পর কলকাতায় ফিরেছিল আন্তর্জাতিক ফুটবল। দুই প্রতিবেশী দেশের খেলা দেখতে এদিন দর্শকে পূর্ণ ছিল যুব ভারতী ক্রীড়াঙ্গন। বাংলাদেশ মোটেও ভড়কে যায় স্বাগতিক দর্শকদের কানফাটানো উল্লাসে। বরং শুরুতেই তৈরি করে আক্রমণ। যা থেকে এগিয়েও যেতে পারত বাংলাদেশ। কিন্তু ইব্রাহিমকে ডি-বক্সে অবৈধভাবে ফেলে দেওয়ার পরও পেনাল্টি দেননি রেফারি। পরে আরেকটি পেনাল্টি বঞ্চিত হয় বাংলাদেশ।

রক্ষণ সামলে প্রতি আক্রমণে ওঠা, এই কৌশলই ছিল জেমি ডের বাংলাদেশের। ম্যাচজুড়ে আক্রমণে ভারতই এগিয়ে ছিল। তবে পোস্টের নিচে গোলরক্ষক আশরাফুল ইসলাম রানা একাধিক ভালো সেফ করেছেন। রক্ষণেও ইয়াসিন, রায়হানরা ছিলেন দুর্দান্ত।

প্রতি আক্রমণ থেকে বাংলাদেশ সুযোগ তৈরি করলেও ফিনিশিং ভালো হচ্ছিল না। তবে ৪২ মিনিটে সেট পিস থেকে এগিয়ে যায় বাংলাদেশ। জামাল ভূঁইয়ার মাপা ফ্রি কিকে ফ্লাইট পাননি ভারত গোলরক্ষক গুরপ্রিত সিং। কৌশলী সাদ পাওয়ার হেডে জালে জড়িয়ে দেন বল।

দ্বিতীয়ার্ধে ভারত সমতা ফেরাতে আক্রমণের ধার বাড়ায়। বাংলাদেশও প্রতি আক্রমণ থেকে তৈরি করতে থাকে ধারালো সব সুযোগ। ৫১ মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করতে পারত বাংলাদেশ। দুর্দান্ত ড্রিবলিংয়ে ভারতীয় রক্ষণকে পরাস্ত করে বাঁয়ে বল বাড়ান সোহেল। কিন্তু জীবনের শট রুখে দেন ভারত গোলরক্ষক। এর কিছু পরই বাংলাদেশের একটি শট পোস্টে লেগে ফিরে আসে।

৬০ মিনিটে ভারত প্রায় সমতা এনে ফেলেছিল ম্যাচে। অনিরুদ্ধ থাপার করা কর্নার থেকে অ্যানাস এডাথোডিকা গোলমুখে বাড়ালেও ঠিক গোললাইন থেকে হেডে ক্লিয়ার করেন ইব্রাহিম।

৭২ মিনিটে ফের এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ হাতছাড়া করে বাংলাদেশ। পোস্ট ছেড়ে গুরপ্রিতকে বেরিয়ে আসতে দেখে বল তার মাথার ওপর দিয়ে তুলে দেন জীবন। শেষ মুহূর্তে সেটি গোল লাইন থেকে ফিরিয়েছেন ভারতীয় ডিফেন্ডার আদিল খান।

সেই আদিলই সল্ট লেকের দর্শকদের রক্ষা করেছেন পরাজয়ের বেদনা থেকে। নিশ্চিত করেছেন এই ম্যাচ থেকে অনন্ত পয়েন্ট পাওয়াটা। ৮৯ মিনিটে কর্নার কিক থেকে উড়ে আসা বলে আদিল পাওয়ার হেডে ম্যাচে সমতা এনে দেন দলকে।

হারলেও তৃতীয় ম্যাচে এসে পয়েন্টের দেখা পেল বাংলাদেশ। নিজেদের প্রথম ম্যাচে আফগানিস্তানের বিপক্ষে অ্যাওয়ে ম্যাচে ০-১ গোলে হেরেছিল জামাল ভূঁইয়ারা। ঘরের মাঠে কাতারের বিপক্ষে হারে ০-২ গোলে।

অন্য দিকে ভারত তৃতীয় ম্যাচেও জয় বঞ্চিত থাকল। নিজেদের প্রথম ম্যাচে ওমানের কাছে ২-১ গোলে হারে তারা। এরপর কাতারে বিপক্ষে প্রতিপক্ষের মাঠ থেকে ফেরে ০-০ গোলের ড্র নিয়ে। আগামী বছর ৪ জুন ঘরের মাঠে ভারতের বিপক্ষে হোম ম্যাচ খেলবে বাংলাদেশ।

বাংলাদেশের পরবর্তী ম্যাচ অবশ্য ওমানের বিপক্ষে ১৪ নভেম্বর। একই দিন ভারত খেলবে আফগানিস্তানের বিপক্ষে।

বাংলাদেশ একাদশ:

আশরাফুল ইসলাম রানা (গোলরক্ষক), রহমত মিয়া, ইয়াসিন খান, জামাল ভূঁইয়া (অধিনায়ক), বিপলু আহমেদ, নাবিব নেওয়াজ জীবন (মাহবুবুর রহমান সুফিল) , সোহেল রানা, মোহাম্মদ ইব্রাহীম (রবিউল হাসান) , রিয়াদুল হাসান, রায়হান হাসান (বিশ্বনাথ), সাদউদ্দিন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত