রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাসহ (কেপিআই) মাঠপর্যায়ের সরকারি অফিসগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার তাগিদ দিয়েছে সচিবদের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম সচিব সভা। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, নিজস্ব উদ্যোগে যথাযথ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে কি না তা জানতে ২০ অক্টোবর পর্যন্ত সময়ও বেঁধে দিয়েছে এ কমিটি। এরই মধ্যে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, বিভাগ, অধিদপ্তর, সংস্থাকে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানিয়ে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।
সব মন্ত্রণালয়ের সচিবদের সমন্বয়ে এ সভার সভাপতি পদাধিকারবলে মন্ত্রিপরিষদ সচিব। গত ১২ মে মন্ত্রিপরিষদ সচিব মো. শফিউল আলমের সভাপতিত্বে সভায় এ সিদ্ধান্ত আসে। এরপরই সব মন্ত্রণালয় ও অধীন প্রতিষ্ঠানগুলো থেকে তাদের নেওয়া নিরাপত্তার বিষয়টি জানিয়ে প্রতিবেদন পাঠানো হচ্ছে।
সচিব সভার এ ধরনের নির্দেশনা পাওয়ার কথা স্বীকার করেন গণপূর্ত অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী মো. সাহাদাত হোসেন। তিনি গতকাল দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘কেপিআইভুক্ত স্থাপনাগুলোতে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে। আমাদের আওতাধীন স্থাপনাগুলোতে ইতিপূর্বেই পর্যাপ্ত সিসিটিভি বসানো আছে। এ ধরনের চিঠি পাওয়ার পর নতুন করে আরও কিছু সংযোগ দিয়ে নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে। এ বিষয়ে যথাযথ কর্র্তৃপক্ষকে প্রতিবেদন আকারে আজকালের মধ্যে জানিয়ে দেওয়া হবে।’
গণপূর্ত অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানান, সচিব সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী চলতি মাসের ১৬ অক্টোবর গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় থেকে গণপূর্ত অধিদপ্তরকে একটি চিঠি দেওয়া হয়। মন্ত্রণালয়ের উপসচিব সুরাইয়া বেগম স্বাক্ষরিত চিঠিতে বলা হয়, কেপিআইভুক্ত স্থাপনাগুলোতে
নিজ উদ্যোগে যথাযথ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে মন্ত্রণালয়, বিভাগ, অধিদপ্তর, সংস্থায় মাঠপর্যায়ের কার্যালয়গুলোতে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।
জানা যায়, সরকারের কেপিআইভুক্ত স্থাপনার মধ্যে জাতীয় সংসদ, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, সচিবালয়, বঙ্গভবন, গণভবন, বাংলাদেশ বেতার, বাংলাদেশ টেলিভিশন, আদালতপাড়া, ফায়ার সার্ভিস স্টেশন, বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র, জাতীয় স্মৃতিসৌধ, সরকারি মুদ্রণালয়, বিমানবন্দর, জাতীয় আর্কাইভ, জাতীয় জাদুঘর, রেলওয়ে ও তিতাসের জ্বলানি মজুদ ট্যাংক, বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সেতু ও নির্মাণাধীন পদ্মা সেতু অন্যতম। এসব স্থাপনায় নিজ নিজ প্রতিষ্ঠান ছাড়াও সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ের নিরাপত্তা দল কাজ করে থাকে। এ উদ্যোগের পর বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও অধিদপ্তরসহ মাঠপর্যায়ে সরকারের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়েছে।
পাবনার জেলা প্রশাসক কবির মাহমুদ দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে সরকারের কেপিআইভুক্ত স্থাপনায় নিরাপত্তা বা বিশেষ নজর রাখা হয়। তবে সচিব সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সরকারি সব প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তার বিষয়ে নানা উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।’
